বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু অবসরপ্রাপ্ত মেজরের, শুরু সাক্ষ্যগ্রহণ
সিনহা হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু। (ছবিটি প্রতীকী, পিকচার অ্যালায়েন্স/ডিপিএ/নুর ফোটো/জেড এইচ চৌধুরী/ডয়চে ভেলে)

কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু অবসরপ্রাপ্ত মেজরের, শুরু সাক্ষ্যগ্রহণ

  • কক্সবাজারে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার বিচার শুরু হয়েছে৷

কক্সবাজারে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার বিচার শুরু হয়েছে৷ গত বছর ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর সিনহা৷

আলোচিত এই মামলার বিচার শুরু হয় সোমবার সকাল ১০টার দিকে কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাঈলের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্যে দিয়ে৷ মামলার বাদী সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফিরদৌসের সাক্ষ্যের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হওয়ার কথা জানান পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম৷ এছাড়া সকালে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে মামলার ১৫ জন আসামিকে আদালতে আনা হয়৷

পিপি ফরিদুল আলম বলেন, মামলার ১৫ সাক্ষীকে নোটিশ দেওয়া হয়৷৮৩ সাক্ষীর মধ্যে প্রথম দফায় ১৫ জনকে উপস্থিত থাকতে ইতিমধ্যে সমন জারি করা হয়৷ গত ২৬, ২৭ ও ২৮ জুলাই সাক্ষ্য নেওয়ার দিন থাকলেও করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে পিছিয়ে যায়৷ পরে গত ১৬ অগস্ট আদালত ২৩, ২৪ ও ২৫ অগস্ট দিন ঠিক করে৷

গত বছর ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন কক্সবাজারে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা৷ এ ঘটনায় সে সময় সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও বাহারছড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের সাবেক ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ নয় পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করেন৷ মামলায় প্রধান আসামি করা হয় লিয়াকত আলিকে৷ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে র‌্যাবকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়৷

এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় একটি এবং রামু থানায় আরও একটি মামলা দায়ের করে৷ সিনহা নিহতের ছয় দিন পর লিয়াকত আলি ও প্রদীপ-সহ সাত পুলিশ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করেন৷ পরে ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার অভিযোগে টেকনাফ থানায় পুলিশের দায়ের করা মামলার তিন সাক্ষী এবং শামলাপুর চেকপোস্টে ঘটনার সময় দায়িত্ব পালনকারী আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ানের (এপিবিএন) তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়৷ টেকনাফ থানার সাবেক কনস্টেবল রুবেল শর্মাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব৷ গত ২৪ জুন মামলার অন্য পলাতক আসামি টেকনাফ থানার প্রাক্তন এএসআই সাগর দেব আদালতে আত্মসমর্পণ করেন৷

আসামিদের মধ্যে ওসি প্রদীপ ও কনস্টেবল রুবেল শর্মা ছাড়া অন্য ১২ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন৷তদন্ত শেষে গত বছর ১৩ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তৎকালীন র‌্যাব ১৫-এর সহকারী পুলিশ সুপার মো. খাইরুল ইসলাম ১৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন৷

মামলার আসামিরা হলেন, বাহারছড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের প্রাক্তন পরিদর্শক লিয়াকত আলি, টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপকুমার দাশ, এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আবদুল্লাহ আল-মামুন, মোহাম্মদ মোস্তফা, এপিবিএনের তিন সদস্য এসআই মোহাম্মদ শাহজাহান, কনস্টেবল মোহাম্মদ রাজীব, মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, পুলিশের মামলার তিন সাক্ষী নূরুল আমিন, নেজামউদ্দিন, মোহাম্মদ আয়াজ, টেকনাফ থানার প্রাক্তন কনস্টেবল রুবেল শর্মা ও প্রাক্তন এএসআই সাগর দেব৷ গত ২৭ জুন কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ইসমাইল মামলার অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন৷

বন্ধ করুন