বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > Tripra BJP Inner Conflict: কেঁচো খুড়তে বের হল কেউটে, বিপ্লব সরতেই ত্রিপুরায় প্রকাশ্যে BJP-র অন্তর্দ্বন্দ্ব
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব, নতুন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা, উপমুখ্যমন্ত্রী জিষ্ণু দেববর্মা (HT_PRINT)

Tripra BJP Inner Conflict: কেঁচো খুড়তে বের হল কেউটে, বিপ্লব সরতেই ত্রিপুরায় প্রকাশ্যে BJP-র অন্তর্দ্বন্দ্ব

  • Tripra BJP Inner Conflict: বিপ্লব দেব মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছাড়তেই ত্রিপুরায় বিজেপির অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলেছে এসেছে। গতকাল নতুন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন বহু বিজেপি বিধায়ক। যা অনেকেরই চোখে পড়েছে।

প্রতিষ্ঠান বিরোধিতায় হাওয়া বদলাতে প্রায়শয়ই বিজেপি বিভিন্ন রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী বদলে পথে হেঁটেছে। গত কয়েক বছরে, কর্ণাটক, গুজরাট, উত্তরাখণ্ডের মতো রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী বদলেছে বিজেপি। উত্তরপ্রদেশে যোগী আদিত্যনাথের মতো নেতার মুখ্যমন্ত্রিত্বের গদিও টলে গিয়েছিল একটা সময়ে। এহেন বিজেপি এবার ত্রিপুরায় নিজেদের ক্ষমতা ধরে রাখতে ‘সংশোধনমূলক’ ভাবে মুখ্যমন্ত্রী বদল করল। শনিবার আচমকাই বিকেলে সবাইকে অবাক করে দিয়ে পদ ছাড়েন বিপ্লব দেব। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মানিক সাহার নাম ঘোষিত হয় পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে। আর তারপরই বিজেপির দফতরেই বিধায়কের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা গিয়েছিল। আর এদিন মানিক সাহার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকলেন বহু তাবড় নেতা। এই আবহে প্রশ্ন উঠেছে, মানুষের মনে জায়গা বানাতে গিয়ে দলের ফাটল আরও চওড়া করল না তো বিজেপি? (আরও পড়ুন: শরীরে পুরুষের ক্রোমোজোম, পুলিশ সার্ভিসে যোগ্যতা অর্জনকারী মহিলার নিযুক্তিতে আদালত কী জানাল?

এর আগে শনিবার বিজেপি পরিষদীয় দলের প্রধান হিসেবে মানিক সাহার নাম ঘোষণা হতেই বিধায়ক তথা মন্ত্রী রামপ্রসাদ পালকে দেখা গিয়েছিল বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের দিয়ে চেয়ার ছুড়তে। যদিও আজকে তাঁর সুর নরম। দীর্ঘদিন আরএসএস-এর সঙ্গে যুক্ত থাকা রামপ্রসাদ হিন্দুস্তান টাইমসকে রবিবার বলেন, ‘বিজেপি একটি গণতান্ত্রিক দল। দলের সবকিছুই শৃঙ্খলা মেনে হয়। আমি এখানে দলের হয়ে কাজ করতে এসেছি।’ এদিকে সুর নরম করলেও রামপ্রসাদকে এদিন মানিক সাহার শপথ অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি। তিনি এবং উপমুখ্যমন্ত্রী জিষ্ণু দেব বর্মাকে যখন রাজভবনে দেখা যায়, ততক্ষণে শপথগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। উল্লেখ্য, বিপ্লবের পদত্যাগের পর জিষ্ণু, রামপ্রসাদের নাম উঠে এসেছিল সম্ভাব্যদের তালিকায়। তবে তাঁদের দু’জনের কাউকেই বাছা হয়নি। বাছা হয়েছে রাজ্যসভার এক সদস্যকে। যাঁকে উপনির্বাচনে জিতে বিধায়ক হতে হবে নিজের গদি টিকিয়ে রাখতে।

এদিকে বিপ্লব দেব সরে যাওয়ার বিষয়টি যে হজম করা কঠিন, তা স্পষ্টতই ফুটে উঠেছে বিধানসভায় বিজেপির মুখ্য সচেতক কল্যাণী রায় বলেন, ‘আমরা বিপ্লব দেবজির সঙ্গে খুবই বেশি যুক্ত ছিলাম। তবে আমাদের দলের সিদ্ধান্ত মানতে হবে। আমরা বিধায়ক হিসাবে আমাদের কাজ চালিয়ে যাব এবং আমরা অবশ্যই ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জিতব।’

এদিকে ২০১৫ সালে বিজেপি যোগ দেওয়া মানিক সাহা পান্না প্রধান পদ থেকে ধাপে ধাপে উঠে রাজ্য সভাপতি হয়েছিলেন। সেই তিনি এখন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের সাংবাদিক সম্মেলনে তাঁর গলায় শোনা গেল ‘উন্নয়নের বার্তা।’ এদিকে সদ্য প্রাক্তন হওয়া বিপ্লববাবুর গলায় শোনা গেল ‘শুভেচ্ছা বার্তা’। উত্তরসূরির উদ্দেশে বিপ্লব দেব বলেন, ‘আমি আশা করি আমাদের নতুন মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করবেন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আমাকে যে দায়িত্ব দেবেন আমি তা পালন করব।’

প্রসঙ্গত, বিল্পব দেবকে সরানোর জন্য এর আগে বিজেপি অন্দরে ঝড় বয়ে গিয়েছিল ত্রিপুরায়। কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকের সামনেই উঠেছিল ‘বিপ্লব হটাও’ স্লোগান। এক সময় সুদীপ রায় বর্মণও বিপ্লবের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছিলেন। পরে তো তিনি দল ছেড়ে ফের কংগ্রেসে ফিরেও যান। সেই বিপ্লব তো সরলেন। তবে তাঁর বদলে যে এলেন, তাঁকে নিয়ে প্রথম দিন থেকে অসন্তোষ বিজেপি বিধায়কদের মধ্যে। এদিকে ইতিমধ্যেই সাংগঠনিক বিষয়ে বিজেপি এবং তার জোটের অংশীদার-ইন্ডিজেনাস পিপলস ফ্রন্ট অফ ত্রিপুরা (IPFT)-এর মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে৷ এই আবহে উচ্চশিক্ষিত মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির বৈতরণী পার করাতে পারেন কি না, এখন সেদিকেই নজর সবার৷

বন্ধ করুন