বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > ৩০০ কোটি টাকা অবৈধ লেনদেনে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার ২ চিনা নাগরিক
অবৈধ মাইক্রো-ফাইন্যান্সিং অ্যাপ চক্রে যুক্ত থাকার অভিযোগে দুই চিনা নাগরিক-সহ চার জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ।
অবৈধ মাইক্রো-ফাইন্যান্সিং অ্যাপ চক্রে যুক্ত থাকার অভিযোগে দুই চিনা নাগরিক-সহ চার জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ।

৩০০ কোটি টাকা অবৈধ লেনদেনে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার ২ চিনা নাগরিক

  • দুই ডজনের বেশি অবৈধ অ্যাপ সূত্রে এক লাখেরও বেশি মানুষকে ৫,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকা ৩৬% হার সুদে মোট ৩০০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে।

চড়া সুদে তাৎক্ষণিক ঋণ দেওয়ায় যুক্ত অবৈধ মাইক্রো-ফাইন্যান্সিং অ্যাপ চক্রের সন্ধান মিলল চেন্নাইয়ে। ঘটনায় দুই চিনা নাগরিক-সহ চার জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দুই ডজনের বেশি অবৈধ অ্যাপ সূত্রে এক লাখেরও বেশি মানুষকে ৫,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকা ৩৬% হার সুদে মোট ৩০০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। 

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, টাকার উৎস এবং কাকে ও কী ভাবে আসল ও সুদ বাবদ অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল, তা অজানা এবং তার সন্ধানে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে বেঙ্গালুরুর আইসিআইসিআই ব্যাঙ্ক ও আরবিএল ব্যাঙ্কের দুটি অ্যাকাউন্টে যথাক্রমে ৪৮ লাখ ও ১.৯৬ কোটি টাকা জমা পড়ার প্রমাণ পাওয়ার পরে ওই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউনট দুটি ফ্রিজ করা হয়েছে।

ঘটনায় গ্রেফতার দুই চিনা নাগরিকের মধ্যে শিয়া ইয়া মাউ-এর বয়স ৩৮ বছর এবং অন্য জন ইউভান লুন-এর বয়স ২৮ বছর। আরও দুই অভিযুক্ত হং ও ওয়্যানডিশ সিঙ্গাপুরে পালিয়ে গিয়েছে। এ ছাড়া কর্নাটক থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে এস প্রমোদ এবং সি আর পবন। ধৃতদের চেন্নাইয়ে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ক্রাইম ব্রাঞ্চের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘কর্নাটকে ধৃত দুইজনকে এই সমস্ত ভুয়ো সংস্থার অনেকগুলির ডিরেক্টর হিসেবে দেখানো হয়েছে। তাদের মাসিক ২০,০০০ টাকা বেতন দেওয়া হত। অন্য দিকে, চিনা নাগরিকদের কাছে চেক বইয়ের পাতা, এটিএম ডেবিট কার্ড এবং সংস্থাগুলির ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং ব্যবহারের সুবিধা দেওয়া ছিল।’

বেঙ্গালুরুতে সাত দিন ঘাঁটি গেড়ে এবং প্রায় ২০ দিনের চেষ্টায় এই অবৈধ অর্থ লেনদেন চক্রের হদিস পায় কেন্দ্রীয় ক্রাইম ব্রাঞ্চের তদন্তকারী দল। 

ঋণ আদায়কারী সংস্থার প্রতিনিধিদের হাতে অপমানিত ও লাঞ্ছিত হওয়ার জেরে তেলাঙ্গনায় কমপক্ষে চার জন এবং বেঙ্গালুরুতে একজন আত্মহত্যা করার পরে টনক নড়ে ক্রাইম ব্রাঞ্চের। 

এই চক্রের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ইতিমধ্যে দিল্লি-সহদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কমপক্ষে আরও ৫ চিনা নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। চেন্নাইয়ের পুলিশ কমিশনার মহেশ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, ‘চিনা নাগরিকদের তৈরি ট্রুকাইন্ডল টেকনোলজিস সলিউশনস নামে ভুয়ো সংস্থায় টাকা জোগান আসার দিকে আমরা নজর রেখেছি। ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও ভারতে বসবাস করছিলেন দুই ধৃত চিনা নাগরিক।’

ধৃত চিনাদের জেরা করার জন্য এক দোভাষীর সাহায্য নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের থেকে ওই সমস্ত ভুয়ো অ্যাপ সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যাবে বলে বিশ্বাস গোয়েন্দাদের। 

বন্ধ করুন