বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > নিয়ন্ত্রণ রেখার ১০০ মিটার দূরে খতম ২ জঙ্গি, মিলল পাক যোগের প্রমাণ, চিনা পিস্তল
উদ্ধার হওয়া অস্ত্রশস্ত্র (ছবি সৌজন্য সংগৃহীত)
উদ্ধার হওয়া অস্ত্রশস্ত্র (ছবি সৌজন্য সংগৃহীত)

নিয়ন্ত্রণ রেখার ১০০ মিটার দূরে খতম ২ জঙ্গি, মিলল পাক যোগের প্রমাণ, চিনা পিস্তল

  • কাশ্মীর উপত্যকার দিকে নজর ঘোরাতে ইসলামাবাদ জঙ্গি হামলার উপর ভরসা করছে বলে জানান এক উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক।

শিশির গুপ্ত

জম্মু ও কাশ্মীরে কুপওয়ারা জেলায় দুই জঙ্গিকে গুলি করে নিকেশ করল ভারতীয় সেনা। যে জায়গা থেকে নিয়ন্ত্রণ রেখার দূরত্ব মেরেকেটে ১০০ মিটার। শনিবার একথা জানিয়েছেন এক উচ্চপদস্থ সেনা আধিকারিক।

সেনার অনুমান, ৩৭০ ধারা রদের বর্ষপূর্তিতে জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের জন্য ওই জঙ্গিদের ভারতে পাঠানো হচ্ছিল। মৃত জঙ্গিদের মধ্যে একজনের নাম ইদ্রিস আহমেদ ভাট (২৩)। তার বাড়ি কুপওয়ারার হান্দওয়ারায়। ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে ২০১৮ সালে সে পাকিস্তানে গিয়েছিল। এক উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক বলন, 'আমাদের অনুমান, দু'জনেই লস্কর-ই-তইবার সদস্য।' দ্বিতীয় জঙ্গির পরিচয় অবশ্য জানা যায়নি। তবে সে বিদেশি জঙ্গি বলেই ধারণা পুলিশের।

শুক্রবার মধ্যরাতের পর ওই মৃত জঙ্গিদের থেকে একে-৪৭ রাইফেল, কয়েকশো বুলেট, চিনে তৈরি পিস্তল এবং পাকিস্তান অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিতে অস্ট্রিয়ার প্রযুক্তিতে তৈরি চারটি গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের এক শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন, গ্রেনেড থেকেই জলের মতো স্পষ্ট যে পাকিস্তান সেনা এবং সরকারের সঙ্গে জঙ্গিদের যোগ রয়েছে।

২০০১ সালে সংসদ ভবনে যে জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গিরা হামলা চালিয়েছিল, তারাও এই গ্রেনেড ব্যবহার করেছিল। ৪৮০ গ্রামের সেই অ্যান্টি-পার্সোনাল গ্রেনেডে ৯৫ গ্রাম প্রবল বিস্ফোরক যৌগ ঠাসা থাকে। একইসঙ্গে থাকে ৫,০০০ টি ইস্পাত বল। তার ফলে ২০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে থাকা সাধারণত সবাই মারা যান।

এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, নওগাম সেক্টরে পাকিস্তানি চৌকি লাগোয়া একটি এলাকা থেকে জঙ্গিরা আসছিল। নিয়ন্ত্রণরেখা টপকানোর জন্য তারও কেটে ফেলেছিল। ৫০-১০০ মিটার দূরে তাদের আটকান শিখ লাইট ইনফ্যান্ট্রির জওয়ানরা। জিওসি ১৯ ডিভিশনের মেজর জেনারেল বীরেন্দ্র বৎস জানান, জঙ্গিদের নিকেশ করে উপযুক্ত পদক্ষেপ করেছেন জওয়ানরা।

সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে যুক্ত অধিকারিকদের বক্তব্য, জম্মু ও কাশ্মীরে আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক ঢোকানোর জন্য পাকিস্তানের আইএসআইয়ের মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠনগুলি চিনের বাণিজ্যিক ড্রোন ব্যবহার করতে পারে বলে আগে থেকেই গোয়েন্দা সতর্কতা ছিল। সেরকম ড্রোন গুলি করে নামানোর জন্য পালটা অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম মোতায়েন করার কাজও চালাচ্ছে ভারতীয় সেনা। আধিকারিকদের বক্তব্য, গত বছর ৫-৬ অগস্ট ৩৭০ ধারা রদের পর উপত্যকায় সবথেকে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার বহু চেষ্টা রুখে দেওয়া হয়েছে। সেগুলিতে হাত ছিল পাকিস্তানের মদতপুষ্ট একাধিক জঙ্গি সংগঠনের।

৩৭০ ধারা রদ নিয়ে এমনিতেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বহুবার সুর চড়ানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বেশি কিছু করতে পারেননি। পাশাপাশি কাশ্মীরে গুলির লড়াইয়ে মৃত জঙ্গিদের কাশ্মীরের নিরীহ বাসিন্দা হিসেবে দেখিয়ে ভারতকে নিয়মিত তোপ দেগে পাকিস্তান। কিন্তু ভারতীয় সেনার দাবি, চলতি বছর কাশ্মীরে খতম হওয়া অধিকাংশ জঙ্গিই পাকিস্তানের নাগরিক। এই পরিস্থিতিতে কাশ্মীর উপত্যকার দিকে নজর ঘোরাতে ইসলামাবাদ স্বভাবতই জঙ্গি হামলার উপর ভরসা করছে বলে জানান এক উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক।

বন্ধ করুন