বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > পেগাসাস 'হ্যাকে' উঠল প্রশান্ত কিশোর, অভিষেকের নাম, ভোটের ফল নিয়ে কটাক্ষ তৃণমূল নেতার
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। (ফাইল ছবি, সৌজন্য পিটিআই)
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। (ফাইল ছবি, সৌজন্য পিটিআই)

পেগাসাস 'হ্যাকে' উঠল প্রশান্ত কিশোর, অভিষেকের নাম, ভোটের ফল নিয়ে কটাক্ষ তৃণমূল নেতার

সূত্রের খবর, কখন পেগাসাস 'হ্যাক'-এর বিষয়টি উত্থাপন করা হবে, তা নিয়ে মঙ্গলবার সকালে বিরোধীরা আলোচনায় বসবেন।

পেগাসাস 'হ্যাক'-এর সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও যোগ নেই বলে দাবি করেছেন দুই শীর্ষ মন্ত্রী। পুরো বিতর্কের সঙ্গে কেন্দ্র বা বিজেপির নাম জড়ানোর জন্য ছিঁটেফোটা প্রমাণও নেই বলে দাবি করেছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী রবিশংকর প্রসাদ। তাতে অবশ্য বিতর্কে ইতি পড়েনি। বরং তদন্তের দাবিতে অনড় বিরোধীরা। 

তারইমধ্যে রবিবার ‘দ্য গার্ডিয়ান’, ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-সহ ১৭ টি সংবাদমাধ্যমের গোষ্ঠীর (যে গোষ্ঠী পেগাসাস নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে) সদস্য ‘দ্য ওয়ার’-এর প্রতিবেদনে সোমবার দাবি করা হয়েছে, ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের ফোনে আড়ি পাতা হয়েছিল। সম্ভাব্য তালিকায় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও ছিল বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। যা নিয়ে সরব হয়েছে তৃণমূল। অভিষেক তো সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে টুইট করেছেন, 'হেরোদের জন্য দু’মিনিটের নীরবতা। ইডি (এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট), সিবিআই (কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা), এনআইএ (জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা), আইটি (আয়কর বিভাগ), ইসিআই (নির্বাচন কমিশন), বিজেপির অর্থ, প্রতাপ, পেগাসাসের গুপ্তচরবৃত্তি মতো জোটসঙ্গী থাকা সত্ত্বেও ২০২১ সালের বাংলা নির্বাচনে নিজের মুখ বাঁচাতে পারেননি অমিত শাহ। দয়া করে ২০২৪ সালে ভালোভাবে তৈরি হয়ে আসবেন।'

যদিও সোমবার একটি বিবৃতি জারি করে শাহ বলেছেন, ‘হালকা মেজাজে মানুষ প্রায়শই এই বাক্যের সঙ্গে আমার যোগসূত্র বের করে থাকেন। কিন্তু এই বাছাই করা ফাঁস, বিঘ্নিত করার চেষ্টার সময় নিয়ে আমি আজ সত্যিই বলতে চাই, আপ ক্রোনোলজি সামঝিয়ে। এটা হচ্ছে বিঘ্নকারীদের জন্য বিভেদকারীদের তৈরি প্রতিবেদন। বিভেদকারী হল বিশ্বব্যাপী সংস্থাগুলি, যারা চায় না যে ভারত উন্নতির পথে এগিয়ে যাক। বিঘ্নকারী হলেন ভারতের রাজনৈতিক খেলোয়াড়রা, যাঁরা ভারত এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টি চান না। এই ধরনের কালপঞ্জি এবং যোগসাজশ বোঝার ক্ষেত্রে ভারত দুর্দান্ত।’

সেই বিবৃতির আগেই কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণ দাবি করেন, সাংবাদিক, সমাজকর্মী এবং মন্ত্রীদের আড়ি পাতা এবং আড়ি পাতার চেষ্টার বিষয় নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে শুধুমাত্র ভারতীয় গণতন্ত্র এবং সেই গণতন্ত্রের সুপ্রতিষ্ঠিত সংস্থাগুলির বদনাম করার চেষ্টা করা হয়েছে। টেলিগ্রাফ আইন এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের বিষয়ে তুলে ধরে তিনি দাবি করেছেন, সরকারের যেরকম কাঠামো আছে, তাতে কোনওরকমের অবৈধ নজরদারি সম্ভব নয়। 

তবে পুরো বিষয়টি এত সহজে ছেড়ে দিতে রাজি নন বিরোধীরা। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে করোনাভাইরাস নিয়ে আলোচনার বিষয়ে ঠিক থাকলেও কখন পেগাসাস 'হ্যাক'-এর বিষয়টি উত্থাপন করা হবে, তা নিয়ে মঙ্গলবার সকালে বিরোধীরা আলোচনায় বসবেন।

বন্ধ করুন