বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > আছে কৃষ্ণ, নেই আকবর! 'গেরুয়া' মোড়কে ইতিহাসের নয়া পাঠ্যক্রম UGC-র
 ফাইল ছবি : রয়টার্স  (REUTERS)
 ফাইল ছবি : রয়টার্স  (REUTERS)

আছে কৃষ্ণ, নেই আকবর! 'গেরুয়া' মোড়কে ইতিহাসের নয়া পাঠ্যক্রম UGC-র

  • সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বা ইউজিসি স্নাতক স্তরে ইতিহাসের নয়া পাঠ্যক্রম প্রকাশ করেছে।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বা ইউজিসি স্নাতক স্তরে ইতিহাসের নয়া পাঠ্যক্রম প্রকাশ করেছে। আর তা দেখেই হতবাক বহু শিক্ষাবিদ। নয়া পাঠ্যক্রমে গেরুয়া ছাপ খুঁজে পাচ্ছেন অনেকেই। কারণ এই পাঠ্যক্রমে 'মহাভারত', 'রামায়ণ' স্থান পেলেও নেই আকবর। পুরোপুরি উপেক্ষিত মধ্যযুগ। একাধিকবার উল্লেখ রয়েছে 'সরস্বতী সভ্যতা'র। বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে মারাঠা ইতিহস। ভারতের মধ্যযুগের ইতিহাসকে এভাবে উপেক্ষা করায় উঠছে প্রশ্ন। পাঠ্যক্রমে উল্লেখিত রেফারেন্স বইয়ের তালিকা থেকে বার পড়েছে ইরফান হাবিব, রামশরণ শর্মারা। রয়েছে হিন্দি ভাষার প্রচুর বই। এদিকে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে বেদ, পুরাণ, উপনিষদের উপর।

ইউজিসির প্রকাশিত এই ৯৯ পাতার পাঠ্যক্রমে আরএসএস-এর ছাপ দেখতে পাচ্ছেন অনেকেই। 'ভারতের প্রাচীনতম ইতিহাস'-কে ৫৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। বাবরের উল্লেখ থাকলেও তাঁকে হানাদার বলে গণ্য করা হয়েছে। পাঠ্যক্রমে যোগ হয়েছে 'আইডিয়া অফ ভারত' নামক একটি আলাদা পেপার। তাতে গুরুত্ব পেয়েছে বেদ, উপনিষদ, পুরাণ। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের নামে বিভিন্ন হিন্দু তীর্থক্ষেত্র, হিন্দুদের ধর্মীয় মেলা, স্থাপত্যকে স্থান দেওয়া হবে। পঞ্চতন্ত্র, জাতকের গল্প ছাড়াও এই পাঠ্যক্রমে রয়েছে ভজন, হরিকথা, বৈদিক মন্ত্র।

এদিকে নীতিশিক্ষার আড়ালে পড়ুয়াদের রামায়ণ, মহাভারত পড়ানো হবে ইতিহাসের নামে। এদিকে পাঠ্যক্রমে কৃষ্ণ থাকলেও ঠাঁই পাননি আকবর। প্রশ্ন উঠেছে মহাভারত কি ইতিহাসের অংশ? কৃষ্ণ কি ইতিহাসের কোনও চরিত্র? মধ্যযুগ কে কেন উপেক্ষা? বর্ণ ব্যবস্থা, মধ্যযুগীয় ইতিহাসের বৈচিত্রময় বহুত্ব, ঔপনিবেশিক যুগের মুক্ত বাণিজ্য নীতি, সতীদাহ রদ, বাংলায় ১৯৪৩-এর দুর্ভিক্ষের মত বিষয়কে উপেক্ষা করা হয়েছে এই পাঠ্যক্রমে। তার বদলে ইতিহাসের নামে অনৈতিহাসিক ও পৌরাণিক চরিত্রদের রাখা হয়েছে ইতিহাসের পাঠ্যক্রমে। পাশাপাশি রেফারেন্সের নামে হিন্দি বইয়ের বাড়বাড়ন্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বন্ধ করুন