বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > শিবসেনার পর এবার NCP? মারাঠা রাজনীতিতে ঝড় তুলতে নয়া ছক কষবে BJP?

শিবসেনার পর এবার NCP? মারাঠা রাজনীতিতে ঝড় তুলতে নয়া ছক কষবে BJP?

এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ার  (HT_PRINT)

ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এখন শরদ পাওয়ারের রাজনৈতিক ভবিষ্যতও উদ্ধব ঠাকরের মতো ধোঁয়াশায় ভরা। এই আবহে এনসিপির উত্তরাধিকার নিয়ে ক্রমেই জল্পনা তৈরি হচ্ছে।

প্রায় ৩০ মাস আগের কথা, তখনও জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি) প্রধান শরদ পাওয়ার মহারাষ্ট্র এবং দেশের বিজেপি বিরোধী রাজনীতির শীর্ষে ছিলেন। বিজেপিকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে এবং নিজের দলকে পুনরুজ্জীবিত করতে শিবসেনা এবং কংগ্রেসের সাথে একটি অসম্ভাব্য জোট গঠনের তাঁর প্রচেষ্টা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছিল। দেশে বিজেপি বিরোধিতার নতুন নীলনকশা আবিষ্কৃত হয়েছিল। তবে সেই সরকার টিকিয়ে রাখতে পারলেন না শরদ পাওয়ার। মারাঠা রাজনীতির ‘নয়া চাণক্য’ দেবেন্দ্র ফড়ণবীসের চালে এবং একনাথ শিন্ডের অকুতভয় ‘বিদ্রোহে’ অপারগ হয়ে পড়েন শরদ পাওয়ারও।

এখন শরদ পাওয়ারের রাজনৈতিক ভবিষ্যতও উদ্ধব ঠাকরের মতো ধোঁয়াশায় ভরা। পাওয়ারের দলের অন্দরে নেতৃত্ব এবং এর উত্তরাধিকার নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর পাওয়ারকে তাঁর দলের উত্তরাধিকার রক্ষার জন্য কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে বলে মনে করছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকই। বেশ কিছু এনসিপি নেতা স্বীকার করেছেন যে দলের নেতৃত্ব বিজেপির দল ভাঙানোর ছক এবং বিভাজনের প্রচেষ্টা মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত। শিবসেনাকে সফলভাবে ভাঙার পর, বিজেপি পাওয়ারের এনসিপি-র দিকে নজর দিতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ফড়ণবীস যখন তিনদিনের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন, তিনি অজিত পাওয়ারকে প্রায় ভাঙিয়ে নিয়ে এসেছিলেন এনসিপি থেকে। যদিও শেষ পর্যন্ত শরদ পাওয়ার সেই যাত্রায় নিজের দলকে অক্ষত রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন।

তবে পরিস্থিতি বদলেছে। এমভিএ সরকারের দুই এনসিপি মন্ত্রী নবাব মালিক এবং অনিল দেশমুখ কয়েক মাস ধরেই জেলে রয়েছেন। অর্থ পাচারের অভিযোগে ইতিমধ্যেই এনসিপি নেতা একনাথ খাডসের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি। গত বছর কর ফাঁকির অভিযোগে অজিত পাওয়ারের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়েছিল আয়কর বিভাগের আধিকারিকরা। এনসিপির প্রাক্তন মন্ত্রী হাসান মুশরিফের বিরুদ্ধেও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। এই আবহে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে আরও কোণঠাসা হয়ে পড়তে পারে এনসিপি।

দলের অনেকেই আশঙ্কা করছেন যে বিজেপি আবার অজিত পাওয়ারের বিরুদ্ধে বাজি খেলতে পারে। ২০১৯ সালে তাঁর বিরুদ্ধে কিছু মামলা সংখ্যালঘু সরকারের সময় বন্ধ করা হয়েছিল। তবে সেই জোট ভাঙার পর থেকেই আয়কর দফতর পাওয়ারের দিকে নজর রাখছে। গত এক বছরে তাঁর বিভিন্ন আস্তানায় একাধিক অভিযান চালানো হয়েছে। এই আবহে ফের যে অজিত পাওয়ারের উপর চাপ সৃষ্টি করে বিজেপি এনসিপির অন্দরে ঝড় তোলার ছক কষছে না, এর নিশ্চয়তা কারোর কাছে নেই।

বন্ধ করুন