বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > উহানের ল্যাবই কোভিড অতিমারীর উৎস, আমেরিকার হাতে নতুন ‘জোরালো প্রমাণ’
২০১৯ সালে উহানের গবেষণাগারে কোভিড সদৃশ উপসর্গের শিকার হয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা, সেই প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি আমেরিকার।
২০১৯ সালে উহানের গবেষণাগারে কোভিড সদৃশ উপসর্গের শিকার হয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা, সেই প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি আমেরিকার।

উহানের ল্যাবই কোভিড অতিমারীর উৎস, আমেরিকার হাতে নতুন ‘জোরালো প্রমাণ’

  • উহান শহরের ল্যাবরেটরি থেকেই যে নভেলকরোনাভাইরাস সংক্রমণের সূচনা হয়েছিল, তার বিস্ফোরক নতুন প্রমাণ পেয়েছে বলে ফের দাবি করল আমেরিকা।

চিনের উহান শহরের ল্যাবরেটরি থেকেই যে নভেলকরোনাভাইরাস সংক্রমণের সূচনা হয়েছিল, তার বিস্ফোরক নতুন প্রমাণ পেয়েছে বলে দাবি আমেরিকার। 

নতুন প্রমাণ মিলেছে যে, ২০১৯ সালের শেষ দিকে উহানের গবেষণাগারে কোভিড সদৃশ উপসর্গের শিকার হয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা, যা কয়েক মাসের মধ্যে অতিমারীর আকার ধারণ করে। 

তবে, সম্প্রতি আমেরিকার স্বরাষ্ট্র সচিব মাইক পম্পিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) প্রতি দাবি জানিয়েছেন, নিতান্ত দুর্ঘটনাবশত উহানের গবেষণাগার থেকেই কোভিড সংক্রমণ শুরু হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করা প্রয়োজন।

কোভিড অতিমারী সংক্রমণের জন্য বরাবরই চিনকে কাঠগড়ায় তুলে এসেছে আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, চিনের গবেষণাগারের সঙ্গে কোভিড সংক্রমণ সূচনার যে সম্পর্ক রয়েছে, তার তথ্য তিনি প্রকাশ করবেন।  

জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগেই ট্রাম্প ও পম্পিও বড়সড় তথ্য প্রকাশের জন্য পরিকল্পনা করেছিলেন। পম্পিও জানিয়েছেন, ২০১৯ সালের শরতে উহান ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি-তে কর্মরত বিজ্ঞানীরা অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাঁদের মধ্যে কোভিড সদৃশ উপসর্গ দেখতে পাওয়া যায়। 

পম্পিওর দাবি, ‘এর থেকেই প্রশ্ন উঠছে, উহান ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি-র অন্যতম মুখ্য গবেষক শি ঝেংলি প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও ছাত্রদের মধ্যে কোনও সংক্রমণ ঘটেনি বলে যে দাবি জানিয়েছিলেন, তার সত্যতা ঠিক কতটা?’

চিনের এক সরকারি আধিকারিক এর আগেই জানিয়েছেন যে, উহানের গবেষণাগার থেকে যে কোভিড সংক্রমণের সূচনা হয়েছিল, সেই তত্ত্বই সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য। আবার ট্রাম্পের প্রধান সহকারী ম্যাথিউ পটিঙ্গারও দাবি জানিয়েছেন, উহানের কাঁচা বাজার থেকে কোভিড ছড়ানোর তত্ত্বটি আসলে ভুয়ো।

অন্য দিকে, WHO-এর তদন্ত নিয়ে পম্পিওর দাবি কতটা মান্য করা হবে, তাই নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। ইতিমধ্যে উহানের কাঁচা বাজারে ভাইরাসের উৎস সন্ধানে তদন্ত করা হলেও গবেষণাগার থেকে সংক্রমণ ছড়ানোর বিষয়ে কোনও অনুসন্ধানে হাত দেয়নি আন্তর্জাতিক সংস্থা। যদিও পম্পিওর দাবি, বিষয়টি সম্পর্কে বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্দেশ্যপূর্ণ আড়াল করার চেষ্টা করছে বেজিং। শুধু তাই নয়, সংশ্লিষ্ট গবেষণাগারটির সঙ্গে িচিনের সামরিক সংযোগ রয়েছে বলেও তাঁর দাবি।

মার্কিন স্বরাষ্ট্র দফতর প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘চিন ও অন্যত্র গবেষণাগার থেকে ভাইরাস সংক্রমণ অতীতেও একাধিক বার ঘটেছে। এর আগে বেজিংয়ের এক ল্যাবরেটরি থেকে সার্স ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পরে ৯ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।’ 

বিবৃতি অনুযায়ী, উহানের গবেষণাগারে বাদুড়বাহিত ভাইরাস RaTG13 নিয়ে কাজ চলছিল, যার সঙ্গে কোভিড সৃষ্টিকারী ভাইরাসের ৯৬.২% মিল রয়েছে।

বন্ধ করুন