শান্তিচুক্তি সই হচ্ছে  (REUTERS)
শান্তিচুক্তি সই হচ্ছে (REUTERS)

দোহাতে মার্কিন-তালিবান শান্তিচুক্তি সই, ১৮ বছর পর যুদ্ধ থামার আশায় আফগানিস্তান

চুক্তি মাফিক ১৪ মাসের মধ্যে আফগানিস্তান ছেড়ে চলে যাবে বিদেশি শক্তিরা।

তালিবানদের সঙ্গে অবশেষে শান্তিচুক্তি সই করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই চুক্তির ফলে ধাপে ধাপে আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশগুলি। ১৮ বছর ধরে আফগানিস্তানে যে যুদ্ধ হচ্ছে, তার অবসানের দিকে প্রথম পদক্ষেপ এটি।

এদিন কাতারের রাজধানী দোহাতে চুক্তি সই করেন মার্কিন বিশেষ দূত জালমায় খালিজাদ ও তালিবানের রাজনৈতিক প্রধান আবদুল ঘানি বারাদার। মার্কিন বিদেশসচিব মাইক পম্পেও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব মার্ক এসপার যদিও বলেছেন এটা ভালো পদক্ষেপ হলেও সামনের পথটি সোজা নয়। আফগানিস্তানে চিরস্থায়ী শান্তির জন্য সবপক্ষকেই একটু কম্প্রোমাইজ করতে হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

তালিবানরা যদি নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রতি মানে তাহলে ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহার করবে আমেরিকা। বর্তমানে ১৩ হাজার মার্কিনী সেনা আছে আফগানিস্তানে। আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসরফ ঘানি বলেছেন যে তিনি আশা করছেন এই দোহা চুক্তি চিরস্থায়ী শান্তি আনবে দেশে।

অন্যদিকে ন্যাটো জানিয়েছে যে ধীরে ধীরে সেনা কমানো হবে, কিন্তু তারা সম্পূর্ণ সেনা তখনই প্রত্যাহার করবেন যখন পরিস্থিতি অনুকুল হবে। এদিন চুক্তি সই হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে তালিবানরা নিজেদের সৈন্যদের নির্দেশ দেয় দেশের খুশির জন্য কোনও আক্রমণ করা থেকে বিরত থাকতে। তালিবানদের মুখপাত্র বলেছে যে তাদের আশা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করবে।

নভেম্বরে আমেরিকায় ভোট।যদি এই চুক্তি সফল হয়, তাহলে এটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে পুনর্নিবাচনে সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে। ট্রাম্প আগেই বলেছিলেন যে মার্কিন সৈন্যদের তিনি আফগানিস্তান থেকে বাড়ি ফিরিয়ে আনবেন। সেই প্রতিশ্রুতি রাখতে সক্ষম হবেন তিনি তবে এই চুক্তি আদৌ সফল হবে কিনা, এই নিয়ে প্রশ্ন অনেকের মনে। একই সঙ্গে জঙ্গি গোষ্ঠী তালিবানদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়ে গেল কী, এই কথাও জিজ্ঞেস করছেন অনেকে।

বন্ধ করুন