বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > কেরলের 'কে-রেল' প্রকল্প নিয়ে বিরোধীরা সুর চড়াতেই বড় ঘোষণা বিজয়ন সরকারের
কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। ছবি সৌজন্য–এএনআই।
কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। ছবি সৌজন্য–এএনআই।

কেরলের 'কে-রেল' প্রকল্প নিয়ে বিরোধীরা সুর চড়াতেই বড় ঘোষণা বিজয়ন সরকারের

  • আরও এক নন্দীগ্রাম তৈরি হতে পারে, এমন বার্তা দিয়ে সুর চড়িয়েছে বিরোধীরা।

কেরলে হাইস্পিড রেল করিডর কে রেল প্রকল্পকে ঘিরে ক্রমেই বিরোধীরা সপর চড়াতে শুরু করেছিল। উল্লেখ্য, ৬৯৯৪ কোটি টাকার এই প্রকল্প জন্ম লগ্ন থেকেই নানান ধরনের বিতর্কে জড়িয়েছে। এবার এই প্রকল্পের জেরে যাঁরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন , তাঁজের জন্য ক্ষতিপূরণ প্যাকেজের ঘোষণা করেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। পাশাপাশি , সরকার জানিয়েছে, যাঁরা এই প্রকল্পের জেরে বিভিন্ন বিষয়ে আশঙ্কা করছেন,তাঁদের শঙ্কাও দূর করবে সরকার।

মঙ্গলবার এই ক্ষতিপূরণের অঙ্ক ঘোষণা করে বিজয়ন সরকার জানিয়েছে তারা মানুষের পাশে থাকবে। একইসঙ্গে প্রকল্প ঘিরে বিরোধীদের অবস্থানকে যেন মানুষ গ্রাহ্য না করে, তার বার্তা দিয়েছে বিজয়ন সরকার। ক্ষতিপূরণের অঙ্ক ঘোষণার সময় বিজয়ন সরকারের তরফে জানানো হয়, যাঁরা এই প্রকল্পের জন্য বাড়ি হারাবেন, তাঁদের ৪.৬০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এছাড়াও এই অঙ্কের পরিবর্তে তাঁরা সরকারের লাইফ মিশন প্রজেক্টে একটি বাড়ি ও বাড়তি ১.৫০ লাখ টাকাও চাইলে গ্রহণ করতে পারেন। এছাড়াও দারিদ্র সীমার নিচে থাকা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের জন্যও বিশেষ অঙ্কের ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছে। পশুপালনের ক্ষেত্রে ২৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এছাড়াও যাঁরা এই প্রকল্পের জেরে ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন, তাঁদের অনেককে যোগ্যতার বিচারে চাকরি দেওয়ার বিষয়েও আশ্বাস দিয়েছে সরকার। সেই চাকরি এই রেল প্রকল্পের আওতাতেই হবে বলে জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন জানিয়েছেন, মোট ১৩ হাজার কোটি টাকার ক্ষতিপূরণের অঙ্ক দেওয়া হবে। তিনি বলেন, 'যাঁরা ক্ষতির মুখে পড়বেন তাঁদের পাশে থাকবে সরকার।' এক্ষেত্রে এমন আরও প্রকল্পে ত্রাণের রাস্তা যে খোলা থাকবে তার ইঙ্গিত দিয়েছেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী।

এদিকে, বিরোধী শিবির বিষয়টিকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। বিরোধী নেতা ভিডি সতীশন বলেন,'এখন উনি (পি বিজয়ন) শুধু ইনফ্লুয়েন্সিয়াল মানুষ ও বড় কর্পোরেট হাউসের প্রতিনিধিদের সঙ্গেই দেখা করেন। তবে (এই প্রকল্পের ফলে) বাস্তুচ্যূতদের বেশিরভাগই  কিন্তু সাধারণ মানুষ।' উল্লেখ্য, এর আগে পি বিজয়নের সঙ্গে একাধিক নামী ব্যক্তিত্বের বৈঠক ঘিরে বিরোধী মঞ্চ থেকে এমন কটাক্ষ আসে। উল্লেখ্য, বিরোধীদের দাবি, কেরলের বুকে এই ঘটনা আরও এক নন্দীগ্রামকে ডেকে আনবে। এক্ষেত্রে বাম জমানায় পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতির কথা স্মরণ করিয়ে বিজয়নের বিরোধী শিবিরের দাবি, সরকার এই প্রকল্পের হাত ধরে বড়সড় দেনার ফাঁদে পড়তে পারে। কেরলের ১১ টি জেলার মধ্যে দিয়ে চলা এই প্রকল্পে নতুন করে পরিবেশগত সমস্যা তৈরি করবে বলেও দাবি বিরোধীদের। বহু পরিবেশপ্রেমী সংগঠনের সঙ্গে মিলে এই প্রকল্পের চরম বিরোধিতায় নেমেছে কংগ্রেস ও বিজেপি। তাদের সঙ্গে প্রায় ২০ হাজার পরিবার রয়েছে। এই জায়গা থেকে তিরুঅনন্তপুরম ও কাসারগডের সংযোগরক্ষাকারী এই প্রকল্প ঘিরে কেরল সরকারের সামনে প্রভূত চ্যালেঞ্জ আসতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বন্ধ করুন