বাড়ি > ঘরে বাইরে > ছেলেকে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দিতে সাইকেলে ২৫১ কিমি পাড়ি শ্রমিক বাবার
সাইকেলে ২৫১ কিমি পথ পাড়ি দিয়ে ছেলেকে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দিলেন পেশায় খেতমজুর শোভারাম।
সাইকেলে ২৫১ কিমি পথ পাড়ি দিয়ে ছেলেকে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দিলেন পেশায় খেতমজুর শোভারাম।

ছেলেকে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দিতে সাইকেলে ২৫১ কিমি পাড়ি শ্রমিক বাবার

  • রবিবার সন্ধ্যায় গ্রাম থেকে রওনা হয়ে রাতে মানাওয়ার শহরে কাটায় বাপ-ছেলেকে। সোমবার ভোর চারটেয় ফের যাত্রা শুরু করে পরীক্ষা শুরু হওয়ার অল্প সময় আগে ধারের স্কুলে পৌঁছয়।

পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দিতে ছেলেকে নিয়ে ২৫১ কিমি সাইকেলে পাড়ি দিলেন মধ্য প্রদেশের প্রত্যন্ত গ্রামের খেতমজুর। 

মঙ্গলবার পরীক্ষা শুরু হওয়ার মাত্র ১৫ মিনিট আগে ধার সদর শহরে ছেলেকে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দিতে পেরেছেন ধার জেলার মানওয়ারপুর তহলের বায়াদিপুরা গ্রামের খেতমজুর শোভারাম। শ্রান্ত বাবা ও ছেলেকে দেখে অনেকেই কৌতূহলী হয়ে ওঠেন।

চলতি বছরে রাজ্য মধ্যশিক্ষা পর্ষদ আয়োজিত দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় যে সমস্ত পড়ুয়া অকৃতকার্য হয়েছে, তাদের ‘রুক জানা নেহি’ প্রকল্পে দ্বিতীয় বার পরীক্ষা দিয়ে পাশ করার সুযোগ দিয়েছে মধ্য প্রদে সরকার। শোভারামের ছেলে মূল পরীক্ষায় তিন বিষয়ে পাশ করতে পারেনি। তাই এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চায়নি। 

এ দিকে, লকডাউনের জেরে জেলায় বাস পরিষেবা বন্ধ রয়েছে। গ্রামে আর কেউ সাহায্য করতে এগিয়ে না এলে ছেলেকে সাইকেলের রডে বসিয়ে ধার শহরের ভোজ গার্লস হাইস্কুলের পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার সংকল্প করেন শোভারাম। একদিনে পৌঁছতে পারবেন না বুঝে, রবিবার সন্ধ্যায় গ্রাম থেকে রওনা হয়ে রাতে মানাওয়ার শহরে কাটাতে হয় বাপ-ছেলেকে। সোমবার ভোর চারটেয় ফের যাত্রা শুরু করে মান্ডু হয়ে ধার পৌঁছন পরীক্ষা শুরু হওয়ার অল্প সময় আগে। 

শোভারাম নিজে নিরক্ষর হলেও ছেলে একদিন অফিসার হবে বলে স্বপ্ন দেখেন। স্বল্প রোজগারের অর্থ সেই স্বপ্নপূরণের চেষ্টায় ব্যয় করেন। তাঁর ছেলেও জানিয়েছে, বাবার পরিশ্রমের মূল্য এবার পরীক্ষার খাতায় নম্বরের মাধ্যমে সার্থক করবে।

লকডাউনের কারণে পরীক্ষার্থী ও তার বাবার এই কৃচ্ছ্রসাধনের খবর পেয়ে আদিবাসী উন্নয়ন দফতরের সহকারী কমিশনার ব্রিজেশ চন্দ্র পান্ডে বলেন, ‘বাবা ও ছেলের কষ্টকর চেষ্টার কথা শুনেছি। পরীক্ষা শেষ হওয়া পর্যন্ত ২৪ অগস্ট অবধি ওঁরা ধারে থাকবেন জেনে দুজনের থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরীক্ষা শেষ হলে ওঁদের গ্রামে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে।’

বন্ধ করুন