বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > ১০০ দিনের কাজ বন্ধ হতেই নড়ল টনক, দেড় মাসে করোনা মুক্ত গ্রাম
১০০ দিনের কাজ বন্ধ হতেই নড়ল টনক, দেড় মাসে করোনা মুক্ত গ্রাম (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য পিটিআই)
১০০ দিনের কাজ বন্ধ হতেই নড়ল টনক, দেড় মাসে করোনা মুক্ত গ্রাম (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য পিটিআই)

১০০ দিনের কাজ বন্ধ হতেই নড়ল টনক, দেড় মাসে করোনা মুক্ত গ্রাম

এপ্রিল মাসে যেখানে ১৩,৫০০টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাকে রেড জোন ঘোষণা করেছিল প্রশাসন, সেখানে বিভিন্ন এলাকায় গ্রামবাসীদের সচেতনতায় সেই রেড জোনের সংখ্যা কমে এসেছে ১৩০টি।

‌করোনার জেরে ১০০ দিনের কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরই গ্রামবাসীদের মধ্যে শুরু হয় সচেতনতা।গ্রামবাসীদের সচেতনতার জোরেই মধ্যপ্রদেশের শাহদোল জেলার সিদ্ধি পঞ্চায়েতকে করোনা মুক্ত গ্রাম হিসেবে ঘোষণা করল প্রশাসন।প্রশাসনের মতে, গ্রামের মানুষরা সচেতন হয়েছে বলেই করোনাকে রোখা সম্ভব হয়েছে।|

জানা গিয়েছে, মধ্যপ্রদেশের এই সিদ্ধি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ৭৪০টি পরিবারের বাস।করোনা সংক্রমণ ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ার পরেই গ্রামে ১০০ দিনের প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যায়।কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরই সতর্ক হয়ে যান গ্রামবাসীরা। ঠিক করেন, কেউ আর বাড়ি থেকে বেরোবেন না।সন্ধ্যাবেলায় কেউ আর জমায়েত হবেন না।ছেলেমেয়েদের বাইরে খেলতে পাঠানো হবে না।শুধু মাত্র ২ জন মানুষ যাবেন যারা গিয়ে দোকান থেকে প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে আসবেন।দেড় মাস ধরে গ্রামবাসীরা এই নিয়মেই চলে।তার ফলও পায় হাতেনাতে।গত এপ্রিল মাসে যেখানে ওই গ্রামের ১১ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন, সেখানে দেড় মাস পর প্রশাসনের তরফে ওই গ্রামকে করোনা মুক্ত ঘোষণা করা হল।

শাহদোলের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার মেহতাব সিং জানান, ১০০ দিনের কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরই গ্রামের মানুষরা জ্বলে ওঠেন ও করোনার বিরুদ্ধে লড়াইতে বেরিয়ে আসেন।নিজেরা সচেতন থাকায় ও নিজেদের নিষ্ঠার কারণেই এখন করোনামুক্ত হতে পেরেছে এই গ্রামটি।উল্লেখ্য, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসার পর মধ্যপ্রদেশের গ্রামীণ এলাকায় ব্যাপক সংক্রমণ হয়।৬০ শতাংশ গ্রামীণ এলাকাই ব্যাপকভাবে সংক্রমিত হয়।করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনকে রেড, ওরেঞ্জ ও গ্রিন জোনে গ্রামীণ এলাকাগুলিকে ভাগ করে হয়েছে।এপ্রিল মাসে যেখানে ১৩,৫০০টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাকে রেড জোন ঘোষণা করেছিল প্রশাসন, সেখানে বিভিন্ন এলাকায় গ্রামবাসীদের সচেতনতায় সেই রেড জোনের সংখ্যা কমে এসেছে ১৩০টিতে।অন্যদিকে অরেঞ্জ জোনের সংখ্যা ছিল ৬ হাজার, সেখানে সেই অরেঞ্জ জোনের সংখ্যাও কমে এসেছে ৩০০০–এ।

এদিকে নর্মদা নদীর তীরে মৃতদেহ দাহ করা নিয়ে এবার রুখে দাঁড়িয়েছে গ্রামবাসীরাই।গ্রামবাসীদের দাবি, তাঁরা কখনও এত বেশি পরিমাণে মৃতদেহ দাহ করতে দেখেননি।নদীর তীরে এভাবে একের পর এক মৃতদেহ দাহ করার ফলে অনেক মাছ মারা যাচ্ছে।তাই তাঁরা ঠিক করেছে, এভাবে মৃতদেহ দাহ করতে দেওয়া যাবে না।পঞ্চায়েত সচিব উমাকান্ত উমরাও জানিয়েছেন, শহরের মানুষের থেকে গ্রামের মানুষেরা অনেক বেশি সতর্ক ও সচেতন।তাই তাঁদের চেষ্টায় করোনাকে রোখা সম্ভব হয়েছে।তবে সমাজকর্মীদের তরফ থেকে মধ্যপ্রদেশে গ্রামীণ এলাকায় করোনা আক্রান্তদের মৃত্যু নিয়ে বিশেষ অডিটের দাবি করেছেন।

একতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রান সিং পারমার জানান, গ্রামের দিকে করোনা সংক্রমণের পরিমাণ অনেকটাই কমেছে।অনেক মানুষই মারা গিয়েছেন বিনা চিকিৎসায়। তাঁরা জানেই না, তাঁদের করোনা হয়েছিল কিনা।তাঁদের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কেও তাঁদের পরিবারের লোকেরা কিছুই জানেন না।এই পরিস্থিতিতে ২৩ হাজার গ্রাম পঞ্চায়েতেই বিশেষ অডিট করা প্রয়োজন।

বন্ধ করুন