বাড়ি > ঘরে বাইরে > জর্জ ফ্লয়েড হত্যার প্রতিবাদে উত্তপ্ত আমেরিকা, জনতার ঢলে শিকেয় করোনা-বিধি
শনিবার নিউ ইয়র্কের রাস্তায় বিক্ষোভকারীদের শান্ত করার চেষ্টা পুলিশের। ছবি: এপি। (AP)
শনিবার নিউ ইয়র্কের রাস্তায় বিক্ষোভকারীদের শান্ত করার চেষ্টা পুলিশের। ছবি: এপি। (AP)

জর্জ ফ্লয়েড হত্যার প্রতিবাদে উত্তপ্ত আমেরিকা, জনতার ঢলে শিকেয় করোনা-বিধি

  • দোকান লুঠ করে, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ও পুড়িয়ে, সামাজিক দূরত্ব বিধির পরোয়া না করে বঞ্চনার বিরুদ্ধে পথে নামল জনতা।

পুলিশকর্মীর দ্বারা কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েডের হত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে অগ্নিগর্ভ আমেরিকা। দোকান লুঠ করে, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ও পুড়িয়ে, সামাজিক দূরত্ব বিধির পরোয়া না করে বঞ্চনার বিরুদ্ধে পথে নামল জনতা।

গত সোমবার মিনিয়াপোলিসে নাগাড়ে ৮ মিনিট হাঁটু দিয়ে গলা টিপে রেখে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয় ফ্লয়েডকে। সেই দিনই ঘটনার প্রতিবাদে ওই শহরে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানান কৃষ্ণাঙ্গরা। বেশ কিছু বাড়ি ও দোকান ভাঙচুরের সঙ্গে সঙ্গে আগুন লাগিয়ে দেন প্রতিবাদীরা। এর পরেই বিক্ষোভের আঁচ ছড়িয়ে পড়ে নিউ ইয়র্ক, টুলসা থেকে লস এঞ্জেলেস। 

এদিকে আমেরিকাজুড়ে করোনা সংক্রমণের বাড়বাড়ন্তর মধ্যে মাস্ক-দস্তানা ছাড়া সামাজিক দূরত্ব বিধি না মেনে যে হারে মানুষ পরস্পরের সংস্পর্শে আসছেন, তাতে প্রমাদ গুনছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাঁরদের আশঙ্কা, এর জেরে অসংখ্য মানুষ সংক্রমিত হতে পারেন। 

শুক্রবার রাতভর বিক্ষোভের পরে শনিবার সকাল থেকে প্রতিবাদ আরও ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে শান্তিকামী মিছিল বের হলেও কিছু ক্ষণের মধ্যেই তাতে হিংসার ছোঁয়া লাগলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতে দেখা গিয়েছে আমেরিকার একাধিক শহরে। 

ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের বাইরে জড়ো হওয়া প্রতিবাদীরা সরকারি সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টদের ব্যঙ্গ করে স্লোগান দিতে থাকেন এবং পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি সামলাতে রবার বুলেট ছুড়ে, ব্যাটন চালিয়ে ভিড় হালকা করার চেষ্টা করে পুলিশ। স্পেস এক্স রকেট উৎক্ষেপণ নিয়ে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারে সারাদিন ব্যস্ত থাকার পরে সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউসে পৌছন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে চপার থেকে নেমে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা না বলেই তিনি বাসভবনে ঢুকে যান। 

ফিলাডেলফিয়াতে শান্তিপূর্ণ মিছিল হঠাৎ হিংসাত্মক হয়ে উঠলে কমপক্ষে ১৩ জন পুলিশ অফিসার আহত হয়েছেন। আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় কমপক্ষে ৪টি পুলিশের গাড়িতে অন্যান্য প্রান্তেও বেশ কিছু বাড় ও দোকানে আগুন লাগান বিক্ষুব্ধরা। 

ওকলাহোমার টুলসায় গ্রিনউড ডিস্ট্রিক্টে ১৯২১ সালে কৃষ্ণাঙ্গ নিগ্রহে ৩০০ জনের মৃত্যু হয়। শনিবার সেখানে রাস্তা অবরোধ করে ২০১৬ সালে পুলিশি অত্যাচারে নিহত কৃষ্ণাঙ্গ টেরেন্স ক্রাচারের নামে স্লোগান দিতে দেখা যায় প্রতিবাদী জনতাকে। 

এরই মাঝে প্লোরিডার ট্যালাহাসিতে প্রতিবাদ মিছিলের মধ্যে দ্রুত বেগে ঢুকে পড়ে একটি পিক-আপ ট্রাক। তার জেরে বেশ কয়েক জন প্রতিবাদী আহত হন। আতঙ্কে অনেককে চিৎকার করে ছুটে যেতে দেখা যায়। ট্রাকের চালক ও এক আরোহীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে পুলিশ তাদের নাম প্রকাশ করেনি। 

নিউ ইয়র্ক শহরেও পুলিশের ব্যারিকেড হঠাতে ব্যস্ত বিক্ষুব্ধদের ভিড়ের মধ্যে আচমকা ঢুকে পড়ে দুটি ক্রুজার। তাদের ধাক্কায় রাস্তায় ছিটকে পড়ে আহত হয়েছেন একাধিক। 

মিনেসোটার গভর্নর টম ওয়ালজ জানিয়েছেন, জর্জ ফ্লয়েডের হত্যার প্রতিবাদ হিসেবে যা শুরু হয়েছিল, এখন সেই আন্দোলনের জায়গায় অবাধ লুঠ-তরাজ শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সর্বশক্তি-সহ নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছে। 

অন্য দিকে, আন্দোলনের আকরস্থান মিনিয়াপোলিসের বাসিন্দা কৃষ্ণাঙ্গ যুবক ২৯ বছর বয়েসি স্যাম আলকিজার দাবি, হিংসা সমর্থন করা যায় না। কিন্তু কালো মানুষের এই বিক্ষোভ দীর্ঘ দিনের জমে থাকা বঞ্চনাজনিত হতাশা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর বহিঃপ্রকাশ। 

এ পর্যন্ত আমেরিকার ১৬টি শহরের মোট ১,৪০০ বাসিন্দাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কমপক্ষে ৫০০ জনই লস এঞ্জেলেসে অধিবাসী। 

বন্ধ করুন