বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > IVF ভ্রুণ স্থাপনের সময়ে ভুল, পরস্পরের সন্তানের জন্ম দিলেন দুই দম্পতি
প্রতীকী ছবি : পিটিআই (PTI)
প্রতীকী ছবি : পিটিআই (PTI)

IVF ভ্রুণ স্থাপনের সময়ে ভুল, পরস্পরের সন্তানের জন্ম দিলেন দুই দম্পতি

  • ২০১৯ সালে ক্যালিফোর্নিয়া সেন্টার ফর রিপ্রোডাক্টিভ হেলথে যান তাঁরা। সেখানে ডঃ এলিরান মোরের তত্ত্বাবধানে ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশানের মাধ্যমে সন্তানসম্ভবা হন ড্যাফনা।

ক্লিনিকের গাফিলতিতে ভ্রুণ অদলবদল। আর তার জেরে পরস্পরের সন্তান জন্ম দিলেন দুই দম্পতি। নিজেদের অজান্তে ৩-৪ মাস পরস্পরের অজান্তে নবজাতককে বড়ও করেন তাঁরা। লস অ্যাঞ্জেলেসের ওই ফার্টিলিটি ক্লিনিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার এক দম্পতি। আইনি পথে হেঁটেছেন অপর দম্পতিও।

ড্যাফনা এবং আলেকজান্ডার কার্ডিনালে, লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির বাসিন্দা। ২০১৯ সালে ক্যালিফোর্নিয়া সেন্টার ফর রিপ্রোডাক্টিভ হেলথে যান তাঁরা। সেখানে ডঃ এলিরান মোরের তত্ত্বাবধানে ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশানের মাধ্যমে সন্তানসম্ভবা হন ড্যাফনা।

মামলায় বলা হয়েছে যে তারা মোর এবং উর্বরতা ক্লিনিককে IVF প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ করার দায়িত্ব দিয়েছিল বছরের পর বছর ধরে দ্বিতীয় সন্তানের জন্য চেষ্টা করার পর ভাগ্য ছাড়াই। যখন তারা একটি সুস্থ কন্যা সন্তানের জন্মের দ্বারা রোমাঞ্চিত ছিল, আলেকজান্ডার কার্ডিনালে শিশুটির চেহারা দেখে হতবাক এবং বিভ্রান্ত হয়েছিলেন।

নির্দিষ্ট সময়ে সুস্থ কন্যা সন্তানের জন্ম দেন ড্যাফনা। অনেক প্রচেষ্টার পর এটি তাঁর দ্বিতীয় সন্তান। ওই দম্পতি জানান, মাতৃত্বের প্রবৃত্তি থেকেই ড্যাফনার শুরুতেই সন্দেহ হয়। সন্তানের মুখশ্রী, চেহারার সঙ্গে তাঁদের দু'জনের কোনও মিল ছিল না।

বিশেষত, ড্যাফনা এবং আলেকজান্ডার দু'জনের ভীষণ ফর্সা। তাঁদের চুল ব্লন্ড ও ব্রাউনের মাঝামাঝি। কিন্তু তাঁদের জন্ম দেওয়া সন্তানের চুল ছিল কুচকুচে কালো। গায়ের রঙ কিছুটা কম ফর্সা। এর থেকেই সন্দেহ জাগে তাঁদের।

ডিএনএ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। প্রায় আট সপ্তাহ পরে, একটি ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট আসে। তাতেই প্রমাণিত হয় যে ড্যাফনার জন্ম দেওয়া শিশুটি তাঁর বা তাঁর স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।

এর পরেই পুরো বিষয়টা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ক্লিনিকেই অন্য কোনও দম্পতির ভ্রুণ স্থাপন করা হয়েছিল ড্যাফনার গর্ভে।

সোমবার এক আবেগঘন সাক্ষাত্কারে ড্যাফনা বলেন, 'সন্তান অন্যের গর্ভে বেড়ে উঠল। তার বেড়ে ওঠা, নড়াচড়া অনুভব করা, আল্ট্রাসাউন্ডে দেখার মতো মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা থেকে আমি বঞ্চিত হলাম।'

অন্যদিকে ড্যাফনা ও অ্যালেকজান্ডারের ভ্রুণ অন্য এক দম্পতিকে দিয়েছিল ওই ক্লিনিক। মামলায় বলা হয়েছে, 'ডাফনা এবং আলেকজান্ডার ৩ মাস পর্যন্ত তাঁদের জৈবিক কন্যার অস্তিত্ব সম্পর্কেই জানতেন না।' পুরো বিষয়টা জানাজানি হওয়ার প্রায় ১ মাস পর তাঁদের আসল সন্তানকে বাড়ি আনেন তাঁরা। এদিকে এই ৩ মাস ধরে তাঁরা অন্যের সন্তানকে বড় করছিলেন। সেই নবজাতককে তাঁরা তুলে দেন সেই দম্পতির হাতে। কিন্তু খুব স্বাভাবিকভাবে, দুই পরিবারেই শিশুদের উপর মায়া জন্মে গিয়েছিল।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, এভাবে সন্তান কিছুদিন বড় করা, তাকে ভালবাসা, স্তন্যপান করোনোর পর অদল-বদল করা যে চরম মানসিক আঘাত, তা বলাই বাহুল্য।

৩১শে ডিসেম্বর, ২০১৯-এ দুই দম্পতি বাচ্চাদের নিয়ে একে অপরের সঙ্গে দেখা করেন। দুই সপ্তাহ পরে, শিশুদের অদল-বদল করেন তাঁরা।

বন্ধ করুন