বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > জলবায়ু পরিবর্তনের জের, ঝুঁকির সামনে দাঁড়িয়ে বাংলা সহ পূর্ব ভারতের ৮ রাজ্য
জলবায়ু পরিবর্তনের জের, ঝুঁকির সামনে দাঁড়িয়ে বাংলা সহ পূর্ব ভারতের ৮ রাজ্য। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য ব্লুমবার্গ)
জলবায়ু পরিবর্তনের জের, ঝুঁকির সামনে দাঁড়িয়ে বাংলা সহ পূর্ব ভারতের ৮ রাজ্য। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য ব্লুমবার্গ)

জলবায়ু পরিবর্তনের জের, ঝুঁকির সামনে দাঁড়িয়ে বাংলা সহ পূর্ব ভারতের ৮ রাজ্য

  • জলবায়ু পরিবর্তনের জেরে পূর্ব ভারতে অবস্থিত ঝাড়খণ্ড, মিজোরাম, ওড়িশা, ছত্তিসগড়, অসম, বিহার, অরুণাচলপ্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গ প্রবল ঝুঁকির সম্মুখীন।

দেশজুড়ে গরম বাড়তে চলেছে চলতি বছরে। আগেভাগেই এই তথ্য জানিয়ে দিয়েছিল আবহাওয়া দপ্তর। এই আবহে জানা গিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের বড়সড় প্রভাব পড়তে চলেছে পূর্ব ভারতের উপর। বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স এবং গুয়াহাটি আইআইটির সম্মিলিত একটি গবেষণায় দাবি করা হচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তনের জেরে পূর্ব ভারতে অবস্থিত ঝাড়খণ্ড, মিজোরাম, ওড়িশা, ছত্তিসগড়, অসম, বিহার, অরুণাচলপ্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গ প্রবল ঝুঁকির সম্মুখীন।

গ্রীষ্মের মরসুমে (এপ্রিল-মে) উত্তর ও উত্তর-পূর্ব, উত্তর-পশ্চিম ভারতের রাজ্যগুলিতে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিক তাপমাত্রাকে ছাপিয়ে যাবে। এছাড়াও গরম বাড়বে মধ্য ভারতের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে। অতিরিক্ত গরম পড়তে পারে ছত্তিশগড়, ওড়িশাতে।

এই আবহে আইআইটি গুয়াহাটি এবং আইআইএস বেঙ্গালুরু জলবায়ু পরিবর্তনের জেরে জেলা এবং রাজ্য ভিত্তির ঝুঁকি সংক্রান্ত একটি পর্যালোচনামূলক গবেষণা করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের উপর আন্তঃমন্ত্রক প্যানেলের পঞ্চম অ্যাসেসমেন্ট রিপোর্টের সাহায্য নিয়ে এই গবেষণা চালানো হয়। গবেষণায় দাবি করা হয়েছে অসমের ৯০ শতাংশ, বিহারের ৮০ শতাংশ এবং ঝাড়খণ্ডে ৬০ শতাংশ জেলা অত্যন্ত ঝুঁকির সামনে দাঁড়িয়ে। গবেষণায় আরও দাবি করা হয়, হিমাচলপ্রদেশ, তেলাঙ্গানা, সিকিম, পঞ্জাব, উত্তরাখণ্ড, হরিয়ানা, তামিলনাড়ু, কেরল, নাগাল্যান্ড, গোয়া এবং মহারাষ্ট্র সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ রাজ্য।

জলবায়ু পরিবর্তনের জেরে ঝুঁকির মাত্রা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি সূচক ব্যবহার করা হয়েছে। যেমন- দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী জনসংখ্যার শতাংশ, প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে আয়ের ভাগ, প্রান্তিক এবং ছোট জমির মালিকানার অনুপাত, কাজে অংশগ্রহণকারী নারীদের শতাংশ, খাদ্যশস্যের ফলনশীলতা, বৃষ্টিবহুল কৃষির আওতাধীন অঞ্চল, গ্রামে বসবাসকারী প্রতি ১০০০ জন পিছু বনাঞ্চল, শস্য বীমার আওতাধীন অঞ্চল, স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের সংখ্যা। ঝুঁকির মাত্রা গণনা করার জন্য এই সূচকগুলির প্রত্যেকটি খতিয়ে দেখা হয়েছে।

এই সূচকগুলি নির্ধারক করার মাধ্যমে গবেষকদের দাবি দেশের মধ্যে সবথেকে ঝুঁকিপূর্ণ রাজ্য ঝাড়খণ্ড। এর মূল কারণ, দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী জনসংখ্যার উচ্চ অনুপাত, বৃষ্টিপাতের কৃষিকাজের প্রসার এবং ভেক্টরজনিত রোগের উচ্চমাত্রা।

গবেষকদের দাবি, ২০২০-র দশককে আমাদের জলবায়ু রক্ষার দশক হিসেবে দেখতে হবে। পাশাপাশি গবেষকরা ঝুঁকি এবং রাজ্যের দুর্বলতার ভিত্তিতে সমস্ত রাজ্যের জন্য একটি জলবায়ু ঝুঁকি সূচক তৈরি করার পরামর্শ দিয়েছেন।

এদিকে অপর একটি আন্তরর্জাতিক গবেষণাও জলবায়ু পরিবর্তনের জেরে ভারতের ঝুঁকির মাত্রা তুলে ধরেছে। জার্মানির পটসডাম ইনস্টিটিউট ফর ক্লাইমেট ইম্প্যাক্ট রিসার্চের সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় দাবি করা হয়, ভারতে বর্ষার বৃষ্টিপাত আরও শক্তিশালী ও অনিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যার প্রভাব সরাসরি অর্থনীতির উপর পড়তে বাধ্য। 

 

বন্ধ করুন