বাড়ি > ঘরে বাইরে > নবীন-প্রবীণের সংঘাত কংগ্রেসে, বিশ্বাসঘাতকতা নিয়ে নেতাদের টুইটে বাড়ছে জল্পনা
মণীশ তেওয়ারি (MINT_PRINT)
মণীশ তেওয়ারি (MINT_PRINT)

নবীন-প্রবীণের সংঘাত কংগ্রেসে, বিশ্বাসঘাতকতা নিয়ে নেতাদের টুইটে বাড়ছে জল্পনা

  • কংগ্রসের বৈঠকে নেতাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা থেকে বিতর্কের সূত্রপাত

শুরু করেছিলেন মণীশ তেওয়ারি। তারপর একে একে টুইট করেছেন মিলিন্দ দেওড়া, আনন্দ শর্মা, শশী থারুর। প্রত্যেকেরই এক কথা। কংগ্রেসের লাগাতার দুটি নির্বাচন নিয়ে কাঁটাছেঁড়া হোক, কিন্তু কোনও ভাবেই ইউপিএ-র কাজকে ছোটো দেখানো চলবে না। দলের ভিতরে থেকে কেউ কেউ দলের সর্বনাশ করছেন কিনা, সেই প্রশ্নও করেছেন মণীশ সহ অন্যরা। 

কংগ্রসের বৈঠকে নেতাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা থেকে বিতর্কের সূত্রপাত। কংগ্রেসের এই বর্তমান হালের জন্য দায়ী কে, সেই নিয়ে একে অপরকে দোষ চাপায় প্রবীণ ও নবীন প্রজন্ম। বিতর্ক থামাতে মাঠে নামেন স্বয়ং সনিয়া গান্ধী। সেই থেকে শুরু। তারপর টুইটারে প্রকাশ্যে এসেছে এই বিতর্ক। কেন কিছু নেতা ইউপিএ আমলের কাজকে ছোটো করে দেখাতে চাইছেন, সেই নিয়ে প্রশ্ন করেছেন অনেকে। 

তাদের আক্রমণের তির মূলত রাজীব সতবের দিকে। প্রাক্তন যুব কংগ্রেস প্রধান বৈঠকে তোপ দেগেছিলেন চিদাম্বরম ও কপিল সিবালের বিরুদ্ধে। মনমোহন সিংয়ের সামনেই ইউপিএ-র কাজ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রাজীব। 

সিবাল বলেছিলেন সবার ভাবা উচিত কেন কংগ্রেসের কথা মানুষের কাছে যাচ্ছে না। এর জন্য দলগত সংহতির অভাব, সাংগঠনিক শক্তির অপ্রতুলতার কথা তুলে ধরেন সিবাল। এরপর রাজীব সতব বলেন যে ইউপিএ-২ তে যে সব নেতারা ছিলেন তারা একটু আত্মসমালোচনা করুন না। তাদের জন্যেই তো কংগ্রেস ৪৪ হয়েছিল। 

এরপর কেসি ভেনুগোপাল বলেন যে অনেক বরিষ্ঠ নেতা রাহুলকে সমর্থম করছেন না। রাহুলকে লোকজন আক্রমণ করলে তার পাশে এসে দাঁড়াচ্ছেন না। চিদাম্বরম তার আগে বলেছিলেন যে বিজেপি বাজে কাজ করলেও মানুষের সমর্থন পেয়ে যাচ্ছে। উত্তর ভারতের মানুষকে বোঝানো যাচ্ছে না বলে খেদোক্তি করেন চিদাম্বরম। 

তবে এক বরিষ্ঠ নেতা বলেন যে চিদাম্বরম ও সিবাল তরুণদের আক্রমণ করেননি। তাঁরা শুধু দলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও ভূমিকা চেয়েছেন। সেই কথা বলেছিলেন আহমেদ প্যাটেলও যে যারা কার্যনির্বাহী কমিটিতে নেই, তাদেরও সুযোগ দেওয়া উচিত। 

মণীশ তেওয়ারি টুইটারে বলেন যে ইউপিএ-র জন্যেই কী কংগ্রেসের এই হাল তা দেখা উচিত। একই ভাবে কেউ কী ইউপিএ-র সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল সেটাও তলিয়ে দেখা উচিত। ইউপিএ-র বিরুদ্ধে আনা কোনও অভিযোগ গত ছয় বছরে প্রমাণ হয়নি বলে তিনি জানান। কে বিনোদ রাইকে টুজি সংক্রান্ত রিপোর্ট লিখতে বলেছিল, সেই প্রশ্নও করেন তিনি। 

হিন্দুস্তান টাইমসকে মণীশ তেওয়ারি বলেন যে অনেক প্রমাণ আছে যে কেউ ভেতর থেকে ইউপিএ-কে ক্ষতি করেছিল। নাম না করে মণীশ তেওয়ারি বলেন যে তরুণ সাংসদ যদি না জানেন ইউপিএ কী কী করেছে দেশের জন্য, তাহলে তাঁকে বিস্তারিত ভাবে বুঝিয়ে দেওয়া দরকার। 

প্রথমে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া তারপর সচিন পাইলটের বিদ্রোহে কেঁপে গিয়েছে কংগ্রেস। দশ বছরের ওপর কেন্দ্রে ও অধিকাংশ রাজ্যে ক্ষমতায় না থাকার দরুন ক্রমশ বাড়ছে হতাশা। তারই প্রতিফলন এখন প্রকাশ্যে হচ্ছে বলে ওয়াকিবহাল মহলের অভিমত। 

বন্ধ করুন