বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > Russia-Ukraine War: কেন ইউক্রেনকে ইজরায়েলের সংরক্ষিত অস্ত্র পাঠাল পেন্টাগন?

Russia-Ukraine War: কেন ইউক্রেনকে ইজরায়েলের সংরক্ষিত অস্ত্র পাঠাল পেন্টাগন?

ইউক্রেনকে ইজরায়েলে সংরক্ষিত অস্ত্র পাঠাল পেন্টাগন। প্রতীকী ছবি সৌজন্যে চ্যানেল আই

রাশিয়ার আর্টিলারি ফায়ার সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। পেন্টাগন কর্মকর্তারা বলেন, কম সরবরাহের কারণেই সম্ভবত অস্ত্রের মজুদ প্রভাবিত হচ্ছে।

রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে ইউক্রেনের আর্টিলারি শেল’র প্রয়োজন মেটাতে ইজরায়েলে থাকা আমেরিকান গোলাবারুদের একটি বিশাল মজুদ থেকে পেন্টাগন অস্ত্র সরবরাহ করেছে। এমনটাই জানিয়েছেন আমেরিকান এবং ইজরায়েলি কর্মকর্তারা। এই অস্ত্র ভাণ্ডারে সাধারাণত পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতে ব্যবহারের জন্য অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহ করে থাকে। যা থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইজরায়েলকে জরুরি পরিস্থিতিতে অস্ত্র সংগ্রহ করে ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত বর্তমানে আর্টিলারি চালিত যুদ্ধে পরিণত হয়েছে, দুই পক্ষই প্রতিদিন হাজার হাজার শেল নিক্ষেপ করছে। ইউক্রেন মূলত যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য পশ্চিমা মিত্রদের থেকে পাওয়া কামান, গোলাবারুদ ও বিভিন্ন অস্ত্রের সাহায্যে যুদ্ধ পরিচালনা করছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন এবং রাশিয়ার আর্টিলারি যুদ্ধে কোন পক্ষের প্রথমে গোলাবারুদ ফুরিয়ে যাচ্ছে তার উপর যুদ্ধের ফলাফল নির্ভর করে। আমেরিকান অস্ত্র নির্মাতারা এই যুদ্ধের কার্যক্রমের গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে সক্ষম না হওয়ায় পেন্টাগন শূন্যস্থান পূরণ করতে দুটি বিকল্প অস্ত্র ভাণ্ডার থেকে অস্ত্র সরবরাহের দিকে মনোনিবেশ করেছে। যার একটি সাউথ কোরিয়ায় এবং অপরটি ইজরায়েলে। ইউক্রেন যুদ্ধে গুদামজাত অস্ত্রের ব্যবহার এবারই প্রথম।

ইউক্রেনের জন্য নির্ধারিত ৩ লাখ রাউন্ডের প্রায় অর্ধেকই ইতিমধ্যে ইউরোপে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইজরায়েলি এবং আমেরিকান কর্মকর্তারা। ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশের ঊর্ধ্বতন প্রতিরক্ষা ও সামরিক কর্মকর্তারা ইউক্রেনকে আরও ট্যাঙ্ক এবং অন্যান্য অস্ত্র পাঠানোর বিষয়ে আলোচনার জন্য শুক্রবার জার্মানির রামস্টেইন বিমান ঘাঁটিতে বৈঠক করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের একটি নতুন গবেষণায় হোয়াইট হাউসের সাবেক অস্ত্র কৌশলবিদ মার্ক এফ ক্যানসিয়ান বলেছেন, ফ্রন্টলাইন এখন বেশিরভাগই স্থির থাকায়, আর্টিলারিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উঠেছে। ফরেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গত মাসে প্রকাশিত আরেকটি বিশ্লেষণে বলা হয়, ইউক্রেন যদি ক্রমাগত গোলাবারুদ, বিশেষ করে আর্টিলারি এবং খুচরা যন্ত্রাংশ পেতে থাকে, তাহলে রাশিয়ার দখলকৃত আরও বেশি এলাকা ফিরিয়ে নেওয়ার ভালো সুযোগ তাদের থাকবে।

ইউক্রেনের সেনাবাহিনী প্রতি মাসে প্রায় ৯০ হাজার আর্টিলারি রাউন্ড ব্যবহার করে যা যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় দেশগুলো সম্মিলিতভাবে তৈরি করছে। মার্কিন এবং পশ্চিমা কর্মকর্তারা বলেন, বাকিটা অবশ্যই বিদ্যমান মজুদ বা বাণিজ্যিক বিক্রয়সহ অন্যান্য উৎস থেকে আসা উচিৎ।

পেন্টাগনের কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের নিশ্চিত করতে হবে যে তারা ইউক্রেনকে অস্ত্র দেওয়ার পর, আমেরিকান মজুদ যেন কমে না যায়। দু’জন ঊর্ধ্বতন ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইজরায়েলকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা গুদামগুলো থেকে যা নেবে তা পূরণ করবে এবং গুরুতর জরুরি পরিস্থিতিতে অবিলম্বে গোলাবারুদ পাঠাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সচিব লয়েড জে. অস্টিন এবং ইসরায়েলের তৎকালীন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বেনি গ্যান্টজের মধ্যেকার একটি ফোনালাপের মাধ্যমে প্রথম অস্ত্র সরবরাহের প্রতি আমেরিকার আকাঙ্ক্ষার ব্যাপারে জানা যায়। পরবর্তীতে গ্যান্টজ বিষয়টি ইসরায়েলি মন্ত্রিসভায় নিয়ে আসেন। কর্মকর্তারা ও প্রতিনিধিরা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দ্বন্দ্ব এড়াতে প্রস্তাবটি গ্রহণ করার পক্ষে ছিলেন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইয়ারল্যাপিড আলোচনা শেষে এই প্রস্তাবটি অনুমোদন করেন।

এরপর একপর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র ইজরায়েলে গুদাম স্থাপন করে যাতে আবার কোনও সংকটে পড়লে তারা এটি ব্যবহার করতে পারে। ২০০০ এর দশকে, মার্কিন সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর যুদ্ধাস্ত্র অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রকল্পটি আরও সম্প্রসারিত করা হয়। কিন্তু ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে দায়িত্ব সমূহের পুনর্বিন্যাসের পর এটি এখন মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড দ্বারা পরিচালিত হয়। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের প্রতিবেদন অনুসারে, ২০০৬ সালে হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধের সময় এবং ২০১৪ সালে গাজা উপত্যকায় হামাসের বিরুদ্ধে অভিযানের সময় ইজরায়েলকে মজুদ থেকে আমেরিকান অস্ত্র ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

পেন্টাগন গত বছর সাউথ কোরিয়ার কাছে ইউক্রেনে মার্কিন মজুদ যুদ্ধাস্ত্র স্থানান্তরের বিষয়ে যোগাযোগ করে। একজন সিনিয়র মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, অস্ত্র গুদামজাত করার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে ইসরায়েলিদের চেয়ে সাউথ কোরিয়ানরা বেশি আগ্রহী ছিল। তবে তারা সরাসরি ইউক্রেনে আর্টিলারি শেল পাঠানোর ব্যাপারে বিভিন্ন কারণে আপত্তি জানায়। সাউথ কোরিয়ার অস্ত্র রফতানির কিছু নিয়ম আছে যা লঙ্ঘন করেই ইউক্রেনে অস্ত্র যাচ্ছে।

রাশিয়ার আর্টিলারি ফায়ার সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। পেন্টাগন কর্মকর্তারা বলেন, কম সরবরাহের কারণেই সম্ভবত অস্ত্রের মজুদ প্রভাবিত হচ্ছে। অবশেষে, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে আরও দক্ষতার সঙ্গে গোলাবারুদ ব্যবহার করতে সাহায্য করছে। ইউক্রেনীয়রা এত বেশি আর্টিলারি ব্যারেজে গুলি চালাচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলোর সরবরাহ করা ১৫৫ মিলিমিটার হাউইটজার গুলির প্রায় এক তৃতীয়াংশ মেরামতের জন্য বাইরে পাঠানো হয়েছে।

গত বছর গ্রীষ্মে ইউক্রেন এবং রাশিয়ার মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের সময় পেন্টাগনের কর্মকর্তারা স্যাটেলাইট থেকে ছবি সংগ্রহ করে, যেখানে দুই বাহিনীর সীমান্তে কৃষিজমিতে ধ্বংসযজ্ঞ দেখা যায়। এরপর থেকে মার্কিন কর্মকর্তারা ইউক্রেনীয়দের তাদের আর্টিলারি আরও বিচক্ষণতার সাথে ব্যবহার করার জন্য উৎসাহিত করে। তারা হাইমারস এর মতো উন্নত রকেট ইউক্রেনে পাঠায়।

(বিশেষ দ্রষ্টব্য: প্রতিবেদনটি চ্যানেল আই থেকে নেওয়া হয়েছে। সেই প্রতিবেদনই তুলে ধরা হয়েছে। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার কোনও প্রতিনিধি এই প্রতিবেদন লেখেননি।)

বন্ধ করুন