বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > কোভিশিল্ড, স্পুটনিকের থেকে কেন কোভ্যাক্সিনের দাম এতটা বেশি?
কেন কোভ্যাক্সিনের দাম এতটা বেশি ? (MINT_PRINT)
কেন কোভ্যাক্সিনের দাম এতটা বেশি ? (MINT_PRINT)

কোভিশিল্ড, স্পুটনিকের থেকে কেন কোভ্যাক্সিনের দাম এতটা বেশি?

  • বেসরকারি হাসপাতালে জিএসটি, সার্ভিস চার্জ সহ ডোজ প্রতি ১৪১০ টাকায় মিলবে কোভ্যাক্সিন। 

কয়েকদিন আগেই ঘোষণা করে ভারতে উপলব্ধ তিন করোনা টিকার সর্বোচ্চ দাম নির্ধারণ করে দেয় কেন্দ্র। কেন্দ্রের দেওয়া তালিকা হিসেবে, কোভিশিল্ডের একটি ডোজ সর্বোচ্চ ১৫০ টাকার সার্ভিস চার্জ সহ ৭৮০ টাকায় বিক্রি করা যাবে বেসরকারি হাসপাতাল থেকে। এছাড়া রাশিয়ার স্পুটনিক ভি বেসরকারি হাসপাতালে মিলবে সর্বোচ্চ ডোজ প্রতি ১১৪৫ টাকায়। এর মধ্যেই ১৫০ টাকার সার্ভিস চার্জ অন্তর্ভুক্ত। তবে সবথেকে দাম বেশি ভারত বায়োটেকের তৈরি কোভ্যাক্সিনের। জিএসটি, সার্ভিস চার্জ সহ এই টিকার দাম নির্ধারিত হয়েছে ডোজ প্রতি ১৪১০ টাকায়।

এরপর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে, কোভ্যাক্সিনের দাম এত বেশি কেন? আসলে কোভ্যাক্সিন এবং কোভিশিল্ড বা স্পুটনিক তৈরির প্রযুক্তি পুরোপুরি ভিন্ন। ভারত বায়োটেকের তৈরি কোভ্যাকসিন নিষ্ক্রিয় অর্থাৎ মৃত করোনা ভাইরাস দিয়ে তৈরি। এর জন্য অত্যন্ত দামী সেরাম আমদানি করতে হচ্ছে ভারত বায়োটেককে। সেই সেরামে ভাইরাস জন্ম দিতে হচ্ছে। পুরো কাজটাই হচ্ছে বিএসএল ল্যাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে দেহে থাকা করোনা ভাইরাসকে চিহ্নিত করে প্রতিরক্ষা গড়ে তোলে কোভ্যাক্সিন। ল্যানসেট বলছে, কোভ্যাকসিন দুই ধরণের বুস্টার ব্যবহার করে। ফলে বাকি নিস্ক্রিয় সার্স-কোভ-২ টিকার পরিবর্তে কোভ্যাকসিন বেশি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। চিনের দুটি কোম্পানি এই পদ্ধতিতে টিকা বানালেও তার মধ্যে একটি বুস্টার রয়েছে। তবে এই একই প্রযুক্তিতে তৈরি ব়্যাবিসের টিকার দাম মাত্র ২০০ টাকা। বিশেষজ্ঞদের আশা, টিকার উত্পাদন বাড়লে দামও কমবে। সাধারণত টিকা উত্পাদনের খরচের থেকে তার দাম কয়েক গুণ পর্যন্ত বেশি হতে পারে প্রাথমিক স্তরে। কারণ তখন গবেষণায় খরচ হয় বেশি। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীদের টিকা সম্পর্কে শিক্ষা দিতেও খরচ হয় প্রাথমিক ভাবে।

এদিকে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি এবং অ্যাস্ট্রেজেনেকা গবেষণা করে তৈরি করেছে কোভিশিল্ড টিকা। ভারতে যার উৎপাদক হল সেরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া। যার মধ্যে রয়েছে শিম্পাঞ্জিকে সংক্রমিত করতে পারা এডিনো ভাইরাস। স্পাইক প্রোটিনের জিন ডোপিংয়ে বানানো এটি ভ্যাকসিন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে চিহ্নিত করবে। প্রায় একই প্রযু্ক্তি ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে স্পুটনিক ভি। তবে স্পুটনিক ও কোভিশিল্ডের দামের পার্থক্যের কারণ, বর্তমানে স্পুটনিক আমদানি করতে হচ্ছে ভারতকে। পরবর্তীতে ভারতে এর উত্পাদন শুরু হতে এর দাম কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্পুটনিক উত্পাদনের জন্য ডঃ রেড্ডি'স-এর সঙ্কে চুক্তি হয়েছে রাশিয়ান সংস্থার।

বন্ধ করুন