মুক্তি পাওয়ার পরে সংবাদমাধ্যমের সামনে উপস্থিত হলেন ফারুক আবদুল্লা।
মুক্তি পাওয়ার পরে সংবাদমাধ্যমের সামনে উপস্থিত হলেন ফারুক আবদুল্লা।

সবাই মুক্তি না পেলে রাজনীতি নিয়ে কথা নয়, বন্দিদশা থেকে ফিরে বললেন ফারুক

যত দিন পর্যন্ত না বাকি সবাই মুক্তি পাচ্ছেন, রাজনৈতিক বিষয়ে আমি কথা বলব না। আশা করি সেই বিষয়ে সরকার সক্রিয় পদক্ষেপ করবে।

‘বিশ্বাস হচ্ছে না, আমি মুক্ত। আশা করি বাকিরাও তাড়াতাড়ি মুক্তি পাবেন।’ প্রায় সাত মাস বন্দিদশায় থাকার পরে মুক্তি পেয়ে এমনই মন্তব্য করলেন জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লা।

শুক্রবার জম্মু ও কাশ্মীরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এক নির্দেশিকায় ফারুক আবদুল্লার উপর থেকে জননিরাপত্তা আইনে আটক রাখার নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। এর ফলে প্রায় সাত মাসের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়েছেন লোক সভার অশীতিপর সাংসদ।

মুক্তি পাওয়ার পরে কালো পোশাকে সংবাদমাধ্যমের সামনে উপস্থিত হয়ে ফারুক বলেন, ‘আজ ভাব প্রকাশের জন্য আমার কাছে যথেষ্ট শব্দ নেই। আজ আমি মুক্তি পেয়েছি। এবার আবার দিল্লি গিয়ে সংসদের অধিবেশনে যোগ দিতে পারব, আপনাদের সকলের হয়ে কথা বলতে পারব।’

তবে সেই সঙ্গে তিনি জানান, ‘যত দিন পর্যন্ত না বাকি সবাই মুক্তি পাচ্ছেন, রাজনৈতিক বিষয়ে আমি কথা বলব না।আশা করি সেই বিষয়ে সরকার সক্রিয় পদক্ষেপ করবে।’

গত ৫ অগস্ট সংবিধানের ৩৭০ বাতিলের পরে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিবৃতি প্রকাশ করেন ফারুক আবদুল্লা। সেই সঙ্গে তাঁকে বন্দি করা হয়নি বলায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে তিনি মিথ্যাবাদী বলেন।

এর পরেই জম্মু ও কাশ্মীরের জননিরাপত্তা আইন অনুযায়ী ফারুক আবদুল্লার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে তাঁকে বন্দি করার সিদ্ধান্ত নেয় জম্মু ও কাশ্মীরের স্বরাষ্ট্র দফতর। এর আগে এই আইন প্রয়োগ করা হয়েছে সন্ত্রাসবাদী ও বিচ্ছিন্নতাকামী নেতাদের বিরুদ্ধে। ফারুকের সঙ্গেই বন্দি হন তাঁর ছেলে তথা জম্মু ও কাশ্মীরের আর এক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। আটক হন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতিও।

সম্প্রতি এই তিন নেতা-সহ জম্মু ও কাশ্মীরের বন্দি নেতাদের মুক্তির দাবিতে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেন ৮ শীর্ষ বিরোধী দলের নেতারা।

এ দিন ফারুক আবদুল্লা জানান, ‘আমার মুক্তির জন্য যাঁরা কথা বলেছেন, সেই রাজ্য ও দেশবাসীর প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আমার মুক্তির জন্য প্রার্থনাকারী প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানাতে চাই।’

বন্ধ করুন