বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > আয়কর রিটার্ন জমার সময়সীমা বেড়েছে, জরিমানা বাবদ সুদেও কি মিলবে রেহাই?
করোনাভাইরাসের জেরে আয়কর রিটার্ন ফাইলের সময়সীমা বাড়িয়েছে কেন্দ্র। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গত অর্থবর্ষের (২০২০-২১) আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে। (ছবিটি প্রতীকী)
করোনাভাইরাসের জেরে আয়কর রিটার্ন ফাইলের সময়সীমা বাড়িয়েছে কেন্দ্র। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গত অর্থবর্ষের (২০২০-২১) আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে। (ছবিটি প্রতীকী)

আয়কর রিটার্ন জমার সময়সীমা বেড়েছে, জরিমানা বাবদ সুদেও কি মিলবে রেহাই?

  • করোনাভাইরাসের জেরে আয়কর রিটার্ন ফাইলের সময়সীমা বাড়িয়েছে কেন্দ্র। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গত অর্থবর্ষের (২০২০-২১) আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে।

করোনাভাইরাসের জেরে আয়কর রিটার্ন ফাইলের সময়সীমা বাড়িয়েছে কেন্দ্র। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গত অর্থবর্ষের (২০২০-২১) আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন, সেই সময়সীমা বাড়ানোর ফলে জরিমানা বাবদ যে সুদ দিতে হত, তা থেকে রেহাই পাবেন না করদাতারা। যা বকেয়া করের দায় হিসেবে আগেই মিটিয়ে দিতে হত।

কর প্রদান করতে দেরি হলে ১৯৬১ সালের আয়কর আইনের তিনটি ধারার (২৩৪এ, ২৩৪বি এবং ২৩৪সি) আওতায় কোনও ব্যক্তিকে সুদ দিতে হয়। কোনও করদাতা যদি সময়মতো (এমনিতে ৩১ জুলাই) আয়কর রিটার্ন জমা দিতে না পারেন, তাহলে ২৩৪এ ধারার আওতায় তাঁকে সুদ দিতে হয়। প্রতি মাসে এক শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে করদাতাকে। আয়কর রিটার্নস জমা দেওয়ার সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর কোনও মাসের পয়লা তারিখেও যদি সুদ দেওয়া হয়, তাহলে পুরো মাসের সুদ নেওয়া হবে। এমনিতে গত বছর যে করদাতাদের ‘সেলফ অ্যাসেসমেন্ট ট্যাক্স'-এর পরিমাণ এক লাখ টাকা পর্যন্ত ছিল, তাঁদের ছাড় দিয়েছে কেন্দ্র। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কর যদি এক লাখ টাকার বেশি হয়, তাহলে সুদ নেওয়া হবে। অর্থাৎ আপাতত আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হলেও অগস্ট এবং সেপ্টেম্বরে এক শতাংশ হারে সুদ গুণতে হবে তাঁকে। যতদিন সময়সীমা বাড়ানো হবে, ততদিন সেই সুদ গুনতে হবে।

আয়কর আইনের ২৩৪বি ধারার আওতায় কোনও ব্যক্তি যদি ‘অ্যাডভান্সড ট্যাক্স’ না দেন বা করের ৯০ শতাংশের কম জমা দেন, তাহলে তাঁকে এক শতাংশ হারে সুদ দিতে হয়। ২০৮ ধারা অনুযায়ী, কোনও অর্থবর্ষে কোনও ব্যক্তিকে যদি কর-বাবদ ১০,০০০ টাকা বা বেশি দিতে হয়, তাহলে তাঁকে ‘অ্যাডভান্সড ট্যাক্স’ দিতে হবে। যদি সেই কাজ করতে ব্যর্থ হন, তাহলে করদাতাকে ২৩৪বি ধারার আওতায় প্রতি মাসে এক শতাংশ হারে সুদ গুনতে হয়। যা এপ্রিল মাস থেকে কর না মেটানোর দিন পর্যন্ত বিবেচিত হয়। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, আয়কর রিটার্নস ফাইলের ক্ষেত্রে কিছুটা দেরি করলেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অতি অবশ্যই ‘অ্যাডভান্সড ট্যাক্স’ মিটিয়ে দেওয়া উচিত।

অন্যদিকে, ২৩৪সি ধারায় আওতায় নির্দিষ্ট কিস্তির তুলনায় কম ‘অ্যাডভান্সড ট্যাক্স’ দেওয়া হয়, তাহলে সুদ ধার্য করা হয়। কোনও করদাতাকে ১৫ জুন, সেপ্টেম্বর, ডিসেম্বর এবং মার্চ মাসের মধ্যে যথাক্রমে ১৫ শতাংশ, ৪৫ শতাংশ, ৭৫ শতাংশ এবং ১০০ শতাংশ ‘অ্যাডভান্সড ট্যাক্স’ জমা দিতে হবে। চাটার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট প্রকাশ হেগড়ে জানিয়েছেন, কোনও ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিস্তির তুলনায় কম ‘অ্যাডভান্সড ট্যাক্স’ দিলেই সেই ত্রৈমাসিকে তিন শতাংশ হারে সুদ ধার্য করবে আয়কর দফতর।

বন্ধ করুন