বাড়ি > ছবিঘর > সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু বলিউডের জন্য যে সব প্রশ্ন রেখে গেল

সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু বলিউডের জন্য যে সব প্রশ্ন রেখে গেল

  • সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে বলিউডকে।বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর জানতে চায় গোটা দেশ। বলিউড ইন্ডাস্ট্রির বেশ কিছু তারকাদের কাছে সেই প্রশ্ন রেখেছিলাম আমরা, জানুন কী উত্তর দিলেন তাঁরা। 
১৪ জুন আচমকা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্য ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক অপূরণনীয় ক্ষতি। মাত্র ৩৪ বছর বয়সে এক উজ্জ্বল প্রতিভার কেরিয়ারে অকাল ইতি। কিন্তু সুশান্তের মৃত্যু অনেক প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে বলিউডকে। বিশেষত স্বজনপোষণ নিয়ে যে বিতর্ক শুরু হয়েছে বি-টাউনে তা একদিকে যেমন দুর্ভাগ্যজনক তেমনই ভীষণরকমভাবে অ্যার্লামিং। তেমনই মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও বেশ কিছু প্রশ্ন রেখে গেলেন সুশান্ত সিং রাজপুত।  (REUTERS)
1/7১৪ জুন আচমকা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্য ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক অপূরণনীয় ক্ষতি। মাত্র ৩৪ বছর বয়সে এক উজ্জ্বল প্রতিভার কেরিয়ারে অকাল ইতি। কিন্তু সুশান্তের মৃত্যু অনেক প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে বলিউডকে। বিশেষত স্বজনপোষণ নিয়ে যে বিতর্ক শুরু হয়েছে বি-টাউনে তা একদিকে যেমন দুর্ভাগ্যজনক তেমনই ভীষণরকমভাবে অ্যার্লামিং। তেমনই মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও বেশ কিছু প্রশ্ন রেখে গেলেন সুশান্ত সিং রাজপুত।  (REUTERS)
১. বলিউডকে কি সত্যি একটা বড়ো পরিবার হিসাবে চিহ্নিত করা যায়? মনোজ বাজপেয়ী:  না বলিউড কোনও পরিবার নয়। আমাকে কেউ এটা বলে বোকা বানাতে পারেনি, আমরা বোকা নই। আমরা ছড়ানো-ছেটানো,এখানে অনেক আলাদা আলাদা গ্রুপ রয়েছে। আমি তো কোনও দলেই পড়ি না। আমি তো সত্যা মুক্তির পরেই ঠিক করে নিয়েছিলাম এখানে আমার কাছে যা কাজ আসবে সেটা করব,সেটাতেই ফোকাস করব এবং বাড়ি যাব। নিজের শর্তে কাজ করব,ব্যাস এতটুকুই। তবে হয়ত ইন্ডাস্ট্রি একদিন একসঙ্গে আসবে, এখন না হলেও ভবিষ্যতে আসবে-নিজের ভালোর জন্য,এখানে গণতন্ত্র বজায় থাকবে তবে-সবার মঙ্গলের জন্য।
2/7১. বলিউডকে কি সত্যি একটা বড়ো পরিবার হিসাবে চিহ্নিত করা যায়? মনোজ বাজপেয়ী:  না বলিউড কোনও পরিবার নয়। আমাকে কেউ এটা বলে বোকা বানাতে পারেনি, আমরা বোকা নই। আমরা ছড়ানো-ছেটানো,এখানে অনেক আলাদা আলাদা গ্রুপ রয়েছে। আমি তো কোনও দলেই পড়ি না। আমি তো সত্যা মুক্তির পরেই ঠিক করে নিয়েছিলাম এখানে আমার কাছে যা কাজ আসবে সেটা করব,সেটাতেই ফোকাস করব এবং বাড়ি যাব। নিজের শর্তে কাজ করব,ব্যাস এতটুকুই। তবে হয়ত ইন্ডাস্ট্রি একদিন একসঙ্গে আসবে, এখন না হলেও ভবিষ্যতে আসবে-নিজের ভালোর জন্য,এখানে গণতন্ত্র বজায় থাকবে তবে-সবার মঙ্গলের জন্য।
২. স্বজনপোষণ কি সত্যি আউটসাইডারদের জন্য বড়ো চিন্তার বিষয়? তাপসী পান্নু- একদমই তাই। কিন্তু তেমনই রয়েছে ধোঁকা খাওয়ার চিন্তা, জোর করে অথবা যৌন নির্যাতনের ভয় কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় অযাচিত কারণে কাটাছেড়ার ভয়,বিনা কোনও দোষে। এই প্রত্যেকটা বিষয় ইন্ডাস্ট্রির একজন নতুন ট্যালেন্টের জন্য খুবই চিন্তার। নোপোটিজমের ছাতার তলায় থাকা অনেকের জন্য আমি অনেক ছবি,অনেক সুযোগ হারিয়েছি। তবে হার না মানার জেদটাকে সঙ্গে রাখতে হবে,লড়াই করতে হবে। স্টারকিড হওয়ারও বেশ কিছু ভালো এবং খারাপ দিক রয়েছে। তেমনই আউটসাইডার হওয়ারও।  (ছবি-ইনস্টাগ্রাম)
3/7২. স্বজনপোষণ কি সত্যি আউটসাইডারদের জন্য বড়ো চিন্তার বিষয়? তাপসী পান্নু- একদমই তাই। কিন্তু তেমনই রয়েছে ধোঁকা খাওয়ার চিন্তা, জোর করে অথবা যৌন নির্যাতনের ভয় কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় অযাচিত কারণে কাটাছেড়ার ভয়,বিনা কোনও দোষে। এই প্রত্যেকটা বিষয় ইন্ডাস্ট্রির একজন নতুন ট্যালেন্টের জন্য খুবই চিন্তার। নোপোটিজমের ছাতার তলায় থাকা অনেকের জন্য আমি অনেক ছবি,অনেক সুযোগ হারিয়েছি। তবে হার না মানার জেদটাকে সঙ্গে রাখতে হবে,লড়াই করতে হবে। স্টারকিড হওয়ারও বেশ কিছু ভালো এবং খারাপ দিক রয়েছে। তেমনই আউটসাইডার হওয়ারও।  (ছবি-ইনস্টাগ্রাম)
৩. টেলিভিশন থেকে বলিউডে আসেন যে সব অভিনেতা-তাঁদের কী বেশি স্ট্রাগল করতে হয় ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা করে নিতে?ম্রুনাল ঠাকুর: বলিউডে প্রত্যেক মানুষের একটা নিজের স্ট্রাগল থাকে। আমিও যখন শুরু করেছি, আমাকেও সেই স্টিরিওটাইপের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে-টেলিভিশন অভিনেতারা বলিউডে সফল হয় না। আমাকেও বিশ্বাস রাখতে হয়েছে নিজের শিল্পের উপর এবং নিজের কথায় মরাঠি ভাষার টান ঝেরে ফেলতে হয়েছে। সব এই সব স্ট্রাগলগুলো আমাকে আরও পরিণত করেছে।
4/7৩. টেলিভিশন থেকে বলিউডে আসেন যে সব অভিনেতা-তাঁদের কী বেশি স্ট্রাগল করতে হয় ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা করে নিতে?ম্রুনাল ঠাকুর: বলিউডে প্রত্যেক মানুষের একটা নিজের স্ট্রাগল থাকে। আমিও যখন শুরু করেছি, আমাকেও সেই স্টিরিওটাইপের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে-টেলিভিশন অভিনেতারা বলিউডে সফল হয় না। আমাকেও বিশ্বাস রাখতে হয়েছে নিজের শিল্পের উপর এবং নিজের কথায় মরাঠি ভাষার টান ঝেরে ফেলতে হয়েছে। সব এই সব স্ট্রাগলগুলো আমাকে আরও পরিণত করেছে।
৪. অভিনেতাদের মনে কি সারাক্ষণ এই চিন্তা ঘুরপাক খায় যদি তোমার ছবি না চলে তাহলে বলিউড ছুঁড়ে ফেলে দেবে? আহনা কুমরা- আমরা এমনই একটা জগতে বাস করছি যে সেখানে তুমি সঠিকভাবে কাজ না করতে পারলে তুমি সফল নও-এই তকমা সেঁটে যাবে তোমার নামের পাশে। তোমার সাফল্য হল তোমার প্রোডাক্ট (ছবি) কত ব্যবসা করল। সেটা সব ব্যবসার শর্ত,শুধু বলিউডের নয়। সেটা বললেও এটা সত্যি আউটসাইডারদের ক্ষেত্রে কাজটা বেশি কঠিন-কারণ তাঁদের হাতে সুযোগ কম। একজন স্টারকিড ফ্লপ ছবি দিয়েও যা সুযোগ পায় সেটা একজন আউটসাইডার পায় না। (ছবি-ইনস্টাগ্রাম)
5/7৪. অভিনেতাদের মনে কি সারাক্ষণ এই চিন্তা ঘুরপাক খায় যদি তোমার ছবি না চলে তাহলে বলিউড ছুঁড়ে ফেলে দেবে? আহনা কুমরা- আমরা এমনই একটা জগতে বাস করছি যে সেখানে তুমি সঠিকভাবে কাজ না করতে পারলে তুমি সফল নও-এই তকমা সেঁটে যাবে তোমার নামের পাশে। তোমার সাফল্য হল তোমার প্রোডাক্ট (ছবি) কত ব্যবসা করল। সেটা সব ব্যবসার শর্ত,শুধু বলিউডের নয়। সেটা বললেও এটা সত্যি আউটসাইডারদের ক্ষেত্রে কাজটা বেশি কঠিন-কারণ তাঁদের হাতে সুযোগ কম। একজন স্টারকিড ফ্লপ ছবি দিয়েও যা সুযোগ পায় সেটা একজন আউটসাইডার পায় না। (ছবি-ইনস্টাগ্রাম)
৫. ব্যর্থতার ভয় এবং পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে না নিতে পারাটা কী কাউকে আত্মহননের পথে ঠেলে দেয়?  অধ্যায়ন সুমন: জীবন শেষ করে দেওয়া কোনও সমস্যার সমাধান নয়,কিন্তু হ্যাঁ এটা অস্বীকার করবার জায়গা নেই হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কী অসম্ভব চাপ রয়েছে। কারণ বিষয়টা শুধু টাকাপয়সার নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একটা মরীচিকা-যার নাম খ্যাতি। তাই ব্যর্থ হলে তোমার আশেপাশে কাছের মানুষজন থাকাটা খুব প্রয়োজন। তোমাকে বুঝতে হবে এই সবকিছুই ক্ষণস্থায়ী। সাত-আট বছরে আমিও চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। আবার ধীরে ধীরে চেষ্টা করছি। 
6/7৫. ব্যর্থতার ভয় এবং পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে না নিতে পারাটা কী কাউকে আত্মহননের পথে ঠেলে দেয়?  অধ্যায়ন সুমন: জীবন শেষ করে দেওয়া কোনও সমস্যার সমাধান নয়,কিন্তু হ্যাঁ এটা অস্বীকার করবার জায়গা নেই হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কী অসম্ভব চাপ রয়েছে। কারণ বিষয়টা শুধু টাকাপয়সার নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একটা মরীচিকা-যার নাম খ্যাতি। তাই ব্যর্থ হলে তোমার আশেপাশে কাছের মানুষজন থাকাটা খুব প্রয়োজন। তোমাকে বুঝতে হবে এই সবকিছুই ক্ষণস্থায়ী। সাত-আট বছরে আমিও চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। আবার ধীরে ধীরে চেষ্টা করছি। 
মানসিক স্বাস্থ্য কি অভিনেতাদের জীবনের খুব গুরুত্ব পূর্ন একটা বিষয় যা তাঁরা এড়িয়ে যায়? দিব্যা দত্তা- আলোচনা করার থেকে, কার সঙ্গে এবং কীভাবে তুমি মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলবে সেটা জরুরি। কারণ মানুষ অভিনেতাদের খুব তাড়াতাড়ি জাজ করতে শুরু করে দেয়। সবাই বলবে ওর  তো এই সমস্যা, একজন থেকে দুজন-তারপর ধীরে ধীরে সবাই জেনে যাবে। সেটা ডিপ্রেশনের শিকার কোনও মানুষকেই সাহায্য করবে না। নিজের মধ্যেই আগে প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করতে হবে। বাইরের দুনিয়াটা খুব মেকি-তাই নিজের পরিবার ও বন্ধুদের সাহায্য খুব দরকার,নিঃসন্দেহে এটা কঠিন। আমারা ইন্ডাস্ট্রিতে একে অপরকে শুধু হাই আর হ্যালো বলতে অভ্যস্ত। এর বাইরের সফরটা তোমার একার,সেটা কখনও কখনও মারাত্মক একাকীত্বে ভরপুর। (ছবি-ইনস্টাগ্রাম)
7/7মানসিক স্বাস্থ্য কি অভিনেতাদের জীবনের খুব গুরুত্ব পূর্ন একটা বিষয় যা তাঁরা এড়িয়ে যায়? দিব্যা দত্তা- আলোচনা করার থেকে, কার সঙ্গে এবং কীভাবে তুমি মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলবে সেটা জরুরি। কারণ মানুষ অভিনেতাদের খুব তাড়াতাড়ি জাজ করতে শুরু করে দেয়। সবাই বলবে ওর  তো এই সমস্যা, একজন থেকে দুজন-তারপর ধীরে ধীরে সবাই জেনে যাবে। সেটা ডিপ্রেশনের শিকার কোনও মানুষকেই সাহায্য করবে না। নিজের মধ্যেই আগে প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করতে হবে। বাইরের দুনিয়াটা খুব মেকি-তাই নিজের পরিবার ও বন্ধুদের সাহায্য খুব দরকার,নিঃসন্দেহে এটা কঠিন। আমারা ইন্ডাস্ট্রিতে একে অপরকে শুধু হাই আর হ্যালো বলতে অভ্যস্ত। এর বাইরের সফরটা তোমার একার,সেটা কখনও কখনও মারাত্মক একাকীত্বে ভরপুর। (ছবি-ইনস্টাগ্রাম)
অন্য গ্যালারিগুলি