বিসিসিআইয়ের সিংহাসনে বসার পর প্রথম সাংবাদিক বৈঠকে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় (ছবি সৌজন্য এএফপি)
বিসিসিআইয়ের সিংহাসনে বসার পর প্রথম সাংবাদিক বৈঠকে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় (ছবি সৌজন্য এএফপি)

100 Hours 100 Stars: 'সানার পাশে বসতে ভালো লাগে, ওর বানানো চিকেন খাই', লকডাউনের মাঝে বললেন সৌরভ

  • ক্রিকেট তাঁকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। ধৈর্য ধরে রাখা, মাটি কামড়ে পড়ে থাকা। বললেন বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে চলছে লকডাউন। ঘরবন্দি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ও। তারই মাঝে ৯৪.৩ রেডিয়ো ওয়ান ও ১০৪ ফিভার এফ এমের #100Hours100Stars-র প্রথম শো'তে কথা বললেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক। 

৯৪.৩ রেডিয়ো ওয়ানের রেডিয়ো জকি অরবিন্দের সঙ্গে ভিডিয়ো কলে সৌরভ জানালেন, লকডাউনে কী কী করছেন, কীভাবে বাড়িতে সময় কাটাচ্ছেন। দেখে নিন সেই আলাপচারিতার কিছু অংশ -

অরবিন্দ : লকডাউন কেমন কাটছে?

সৌরভ : শুরুতে খারাপ লাগছিল না। বাড়িতে সময় কাটানোর এরকম সুযোগ পাওয়া যায় না। গত কয়েক বছর কাজের জন্য এখানে যাওয়া, ওখানে যাওয়া - প্রতি সপ্তাহে বিমান ধরার জীবন হয়ে গিয়েছিল। গত ৩০-৩২ দিন ধরে বাড়িতে মেয়ে, স্ত্রী, মা, দাদা-সহ পরিবাবের সঙ্গে আছি। বহুদিন পর এরকম সময় পেয়েছি। ওদের সঙ্গে খুব এনজয় করেছি। তবে বাইরের পরিস্থিতি দেখে দুঃখও হচ্ছে। কারণ অনেক মানুষ সমস্যায় পড়েছেন। কোথা থেকে আসছে, কীভাবে আসছে - কেউ জানে না। এতজনের মৃত্যু হয়েছে। দুঃখ হয়। আবার ভয়ও লাগে। সতর্ক থাকি। বাড়ি থেকে এক-দু'জন লোক আসা-যাওয়া করেন। খাবার আসে। রেশন আসে। এটা মিশ্র অনুভূতি। এটাই চাইব, এটা (করোনাভাইরাস) তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাক।

অরবিন্দ : এটা টেস্ট ম্যাচ চলছে। এই সেশন Covid-১৯-এর নামে। আপনি যেমন বরাবর বলেন, এই সেশনটা টিকে যাও। পরের সেশনটা আমাদের হবে।

সৌরভ : টেস্ট ম্যাচ তো চলছে। কিন্তু অত্যন্ত বিপজ্জনক উইকেটে ম্যাচ চলছে। বল সিমও হচ্ছে, স্পিনও হচ্ছে। ব্যাটসম্যানদের কাছে ‘মার্জিন অফ এরর’-এর জায়গা একেবারে কম। সেই ‘মার্জিন অফ এরর’-এর উপরেই আপনাকে টিকে থাকতে হবে, রানও বাঁচাতে হবে, ভালো দিনও দেখতে হবে। এখন মুশকিল। কিন্তু আমরা সবাই আশায় বাঁচি। ভালো দিন আসবে।

অরবিন্দ : সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ও কি বাড়ি থেকে কাজ করছেন?

সৌরভ : হ্যাঁ। বাড়ি থেকেই কাজ করছি। বিসিসিআই, আইসিসি, নিজের কাজ করি। এখন নিজের কাজ কিছুটা কম। শ্যুটিং বন্ধ, স্কুল বন্ধ, ক্রিকেটের কাজ বন্ধ। নথিপত্র নিয়ে, প্রশাসনিক কাজকর্ম করি।

অরবিন্দ : আপনি মানসিকভাবে চাঙ্গা থাকার কথা বলেন। ঘরে কীভাবে নিজেদের মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখব?

সৌরভ : এই খেলাটা আমায় অনেক কিছু শিখিয়েছে। হাই প্রেশার পরিস্থিতি, রিয়েল লাইফ, আপনাকে রান করতে হবে, এক বলের পার্থক্য - আপনার চিন্তাভাবনা বা ফুটওয়ার্ক ভুল হলে আপনি দ্বিতীয় সুযোগ পাবেন না। সেটা ব্য়ক্তিগত জীবনেও সাহায্য করে। সতর্ক থাকার ক্ষেত্রে, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে - সেকেন্ডের ব্যবধানে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কাল বা দু'মিনিট দেরিতে ম্যাচ ফসকে যাবে। তো এই খেলা আমায় অনেক কিছু শিখিয়েছে। ধৈর্য, মাটি কামড়ে ধরে পড়ে থাকা শিখিয়েছে। এই বিশ্বাস করতে শিখিয়েছে - আমরা রান করব, ম্যাচ জিতব। মাথায় দুটো জিনিস থাকে - ব্যর্থতা ও সাফল্য। আপনি যখন দীর্ঘদিন ধরে খেলেন তখন আপনার চিন্তাভাবনাটা সেভাবেই করেন যে সাফল্য আসবে। জীবনও সেরকম। কঠিন সময়ে এসেছে। সেটা থেকে বেরিয়ে যাব, এমনই ভাবনাচিন্তা থাকে। আমি সেটা করার জন্য উপযুক্ত।

#100Hours100Stars"/>

অরবিন্দ : লকডাউনে কী কী সিনেমা দেখেছেন?

সৌরভ : আমি একমাসে খুব সিনেমা দেখেছি - চার থেকে পাঁচটা। একটা সময় পর সিনেমা দেখতে ইচ্ছা করে না। আদতে সানা যে সিনেমা দেখে, সেই সিনেমা দেখি। কারণ ওর সঙ্গে বসার সুযোগ পেয়ে যাই। কয়েকটি বাংলা সিনেমা দেখি। কয়েকটা হিন্দি সিনেমা দেখেছি। চেষ্টা করি, মেয়ে যেমন করছে, পরিবার যেমন করছে, সেরকম করতে। কারণ লকডাউন উঠে গেলে আমরা সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়ব। তখন সময় পাব না। তাই সেটার সবথেকে ভালো ব্য়বহারের চেষ্টা করছি।

অরবিন্দ : সানা তো বড় হচ্ছে। ও কখনও বলে, বাবা এই সিনেমাটা দেখব? অ্যাভেঞ্জার্স, আয়রন ম্যান দেখে আসি বলে জোর করে? আর আপনি বলেন, নব্বইয়ের দশকে আমরা এটা দেখেছি?

সৌরভ : আমার মনে হয়, সানা এখন আয়রন ম্যান দেখার বয়স পেরিয়ে গিয়েছে। ওর বয়স ১৮। আয়রন ম্যান বা ওরকম নিয়ে খুব একটা উৎসাহী নয়। সানা সিনেমা দেখে। তবে আমায় জোর করে না। আসলে আমি ওর কাছে এসে বসি। ও বলে, তুমি অন্য সিনেমা দেখে নাও, আমি এটা দেখেছি। ও নিজের প্রাইভেসি চায়। এখন বয়ঃসন্ধি চলছে। প্রাপ্তবয়স্ক হচ্ছে। যাই হোক, ওর সঙ্গে সময় কাটাতে ভালো লাগে। ও রান্নাও করে। সন্ধ্যায় কখনও গিয়ে চিকেন, কখনও স্যুপ, কখনও পাস্তা বানায়। পাস্তা বানানো তো সহজ। চিকেন বানায়, ডাল (বানায়)। রান্নাও আসতে আসতে শিখছে। ওটা আমরা ভালো লাগে। ওর সঙ্গে দাঁড়িয়ে রান্না দেখা। ঠিকঠাক খাবার বানায় (হাসি)। 

অরবিন্দ : আপনি তো খেতে ভালোবাসেন। বিরিয়ানির ভক্ত আপনি। তো লকডাউনে আপনি বাড়ি আছেন। স্পেশ্যাল কী কী হচ্ছে?

সৌরভ : এই সময়ে মানুষ ভয় পেয়ে আছেন, তাই হালকা খাবার খাচ্ছি। আমি এত ভাত খেতাম না। কিন্তু গত ২০-২৫ দিন ভাত খেয়েছি প্রচুর। ভাত, ডিম, ডাল, সবজিই এখন স্বাস্থ্যকর খাবার। খাসির মাংস বন্ধ করে দিয়েছি। মাঝে মাঝে মুরগির চিকেন খেয়ে নিই, যখন সানা বানায়। হালকা খাওয়ার চেষ্টা করছি। এই সময়ে বাজারে না যাওয়াই ভালো। বেশি ভারী জিনিস না খেয়ে হালকা জিনিস খাওয়া ভালো।

বন্ধ করুন