বাড়ি > ময়দান > 'জাতীয় সঙ্গীতের সময় গায়ে কাঁটা দিচ্ছিল', সাফে সোনার ডাবলের পর বললেন অনুশ্রী
সোনা জয়ের পর অনুশ্রী (ছবি সৌজন্য সংগৃহীত)
সোনা জয়ের পর অনুশ্রী (ছবি সৌজন্য সংগৃহীত)

'জাতীয় সঙ্গীতের সময় গায়ে কাঁটা দিচ্ছিল', সাফে সোনার ডাবলের পর বললেন অনুশ্রী

  • অনুশ্রী বলেন,"সোনা জেতার পর যখন জাতীয় সঙ্গীত বাজে, সেই মুহূর্তটাই গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে। অসাধারণ মুহূর্ত।

ছেলেবেলায় চুটিয়ে ক্রিকেট খেলে বেড়াতেন। বয়স কিছুটা বাড়ার পর জীবনে আসে ভলিবল। সেটাই ক্রমশ হয়ে ওঠে ধ্যান,জ্ঞান,নেশা। আর আজ প্রথম বাঙালি মহিলা ভলিবল খেলোয়াড় হিসেবে দুটি এশিয়ান ও দুটি সাফ গেমসে খেলার নজির গড়ে ফেলেছেন ত্রিবেণীর মেয়ে অনুশ্রী ঘোষ। নামের পাশ জ্বলজ্বল করছে সাফের দুটি সোনা। যার একটি এসেছে কয়েকদিন আগেই।

সাফ জয়ের পর হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে কথা বললেন অনুশ্রী। জানালেন সোনা জেতার অনুভূতি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।

কীভাবে খেলা শুরু ?

স্কুলে ভলিবল খেলতেন অনুশ্রীর মা। ফলে রক্তেই ছিল ভলিবল। মায়ের অনুপ্রেরণায় ২০০৬ সালে বাড়ির কাছে মগরায় একটি কোচিং ক্যাম্পে ভরতি হন। মিনিট ১৫ সাইকেল চালিয়ে রোজ সেখানে অনুশীলন করতে যেতেন। সেখানে কোচেদের নজর এড়ায়নি বছর ১১-র অনুশ্রীর প্রতিভা। তাঁর কথায়, "ছোটোবেলা থেকে ক্রিকেট ভালোবাসতাম। তখন জানতাম না ভলিবল কী। মা’র অবশ্য ভলিবল পছন্দ ছিল। পরে জানতে পারি, মগরায় ভলিবল ক্যাম্প আছে। সেখানেই ভরতি হই।"

কোর্টে অনুশ্রী (ছবি সৌজন্য সংগৃহীত)
কোর্টে অনুশ্রী (ছবি সৌজন্য সংগৃহীত)

ক্রমশ উত্থান

সেই শুরু। তারপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। দ্রুত জাতীয় মানচিত্রে উঠে আসতে থাকেন। খেলা শুরুর এক বছরের মধ্যেই বাংলার হয়ে মিনি-ন্যাশানালে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পান। তখন অনুশ্রীর বয়স ১২। ২০০৮ ও ২০০৯ সালে সাব-জুনিয়র এবং ২০১০ সালে জুনিয়র বিভাগে খেলেন অনুশ্রী। দেশের ভলিবল মহলে আলোচিত হতে থাকে তাঁর নাম। অনুশ্রী বলেন, "২০১১ সালে তিনটি বিভাগেই খেলেছিলাম। পরের বছর ভারতের জুনিয়র দলে সুযোগ পাই।" কিছুদিন পরে সিনিয়র দলেও ঢুকে পড়েন ত্রিবেণীর মেয়ে। কথাটা বলার সময় গর্ব ও প্রশস্তির মিশেলে এক অনুভূতি ঝরে পড়ছিল অনুশ্রীর গলা থেকে।

রেলে চাকরি

২০১২ সালে রেলওয়ে থেকে অফার লেটার আসে। পূর্ব রেলওয়ে চাকরিজীবন শুরু করেন অনুশ্রী। তখন থেকেই বাংলা ছেড়ে রেলওয়েজের হয়ে খেলা শুরু করেন তিনি।

এশিয়ান গেমস

২০১৪ সালে এশিয়ান গেমসে যান অনু্শ্রী। এখনও পর্যন্ত সেটাই ছিল অনুশ্রীর খেলোয়াড় জীবনের সবথেকে টুর্নামেন্ট। কেমন ছিল প্রথমবার এই পর্যায়ের টুর্নামেন্ট খেলার অভিজ্ঞতা? অনুশ্রী বলেন, "খুব ভালো অভিজ্ঞতা। এশিয়ান গেমসের মান আরও ভালো। চিন, দক্ষিণ কোরিয়া – সব দেশই খুব ভালো। (ওদের পর্যায়ে নিজেদের খেলা তুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য) আমাদের অনুশীলনের ধরন থেকে শুরু করে সবকিছু পালটাতে হবে। পরিকাঠামো আরও আধুনিক করতে হবে। তবেই আমরা এশিয়ান গেমসে সাফল্য পাব।"

পরের এশিয়ান গেমসেও খেলেন অনুশ্রী। আরও ভালো হয়েছে খেলা। ততদিনে খেলোয়াড় হিসেবে বেড়েছে অভিজ্ঞতা। তবে ইনচেওনের মতো মন খারাপকে সঙ্গী করে জার্কাতা থেকে বিমানে উঠতে অনুশ্রীকে। কোথায় বারবার পিছিয়ে পড়তে হচ্ছে, সেটা আরও পরিষ্কার হয় তাঁর কাছে। অনুশ্রী বলেন, "অন্য দলগুলি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলে এশিয়ান গেমসে আসে। আমাদের কী হয়, আমরা সোজা গেমসে খেলতে যাই। ফলে সেখানে গিয়ে প্রথম এক-দু’টো ম্যাচ ধাতস্থ হতেই কেটে যায়। বুঝতে অসুবিধা হয়। অন্য দেশগুলি সেই অভিজ্ঞতা নিয়েই খেলতে আসে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমাদের খেলার অভিজ্ঞতা কম।"

সাফে সোনা

এশিয়ান গেমসে মনের মতো ফল না হলেও সাফ গেমসে দু’বারই সোনা জিতেছেন অনুশ্রী। ২০১৬ সালে সোনা জয়ের পর দ্বিতীয় সোনা এসেছে কয়েকদিন আগেই। সে কথা বলার সময় অনুশ্রীর গলা থেকে সীমাহীন তৃপ্তি ও আবেগ ঝরে পড়ে। তাঁর কথায়, "সোনা জেতার পর যখন জাতীয় সঙ্গীত বাজে, সেই মুহূর্তটাই গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে। অসাধারণ মুহূর্ত।

সাফ গেমসে অনুশ্রী (ছবি সৌজন্য সংগৃহীত)
সাফ গেমসে অনুশ্রী (ছবি সৌজন্য সংগৃহীত)

বাংলার ভলিবল ভবিষ্যত কেমন?

রাজ্য থেকে নতুন নতুন প্রতিভা উঠে আসছে বলে মত অনুশ্রীর। তাঁর কথায়, "গত বছর মিনি, সাব-জুনিয়র ও ইউথ তিনটি বিভাগেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলা। ওদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। আমি চাই, আরও মেয়ে এগিয়ে আসুক। তারা ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করুক।"

কোচিংয়ে আসবেন ?

কোচিংয়ে আসতে ইচ্ছুক হলেও নিজের অ্যাকাডেমি খোলার কোনও পরিকল্পনা নেই অনুশ্রীর। তবে মগরায় নিজের ক্লাবের হয়ে কিছু করতে চান। অনুশ্রী বলেন, "বাড়ি এলে এখনও মগরার ক্লাবেই অনুশীলন করতে যাই দু’বেলা। ক্লাবের হয়েই কিছু করতে চাই।"করুক।"

বন্ধ করুন