বাংলা নিউজ > ময়দান > সেঞ্চুরি করার পরেই চিরকুট বের করে ছেলেকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালেন অনুষ্টুপ
ছেলেকে এ ভাবেই শুভেচ্ছা জানালেন অনুষ্টুপ।

সেঞ্চুরি করার পরেই চিরকুট বের করে ছেলেকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালেন অনুষ্টুপ

  • ৩৮ বছরের অনুষ্টুপ রঞ্জিতে এই নিয়ে ১০টি শতরান করে ফেললেন। রঞ্জির কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম দিন ঝাড়খণ্ডের বিরুদ্ধে অনুষ্টুপ ৮৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। সেখান থেকে মঙ্গলবার ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে ১৯৪ বলে তিনি ১১৭ রান করে শাহবাজ নাদিমের বলে ক্যাচ আউট হন। 

সুদীপ ঘরামির পর মঙ্গলবার অনুষ্টুপ মজুমদারও শতরান করে ফেললেন। তাও ব্যাটিং অর্ডার বদলে। শেষ বারের রঞ্জিতে ছয়ে ব্যাট করতে নেমেছিলেন অনুষ্টুপ। অধিকাংশ ম্যাচে অনুষ্টুপ এবং শাহবাজ আহমেদের জুটি বাংলাকে ম্যাচে বাঁচিয়ে রাখত। সেমিফাইনালে ইডেনে কর্নাটকের বিরুদ্ধে অনুষ্টুপই সেঞ্চুরি করে বাংলাকে জেতার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিলেন।

এ বার তাঁকে খেলতে হচ্ছে চার নম্বরে। মনোজ তিওয়ারির জায়গায়। মনোজ খেলছেন পাঁচে। গ্রুপ পর্ব থেকেই চারেই খেলছেন অনুষ্টুপ। আর এই চারে খেলেই কোয়ার্টার ফাইনালে দুরন্ত ছন্দে সেঞ্চুরি করে ফেললেন তিনি। ছয় থেকে চারে উঠে এলেও পারফরম্যান্সে কোনও প্রভাব পড়েনি তাঁর।

এ দিন বেঙ্গালুরুর জাস্ট অ্যাকাডেমিতে ঝাড়খণ্ডের বিরুদ্ধে শতরান করেন অনুষ্টুপ। সেঞ্চুরির পরেই পকেট থেকে একটি কাগজ বের করে দেখান অনুষ্টুপ। তাতে লেখা, ‘শুভ জন্মদিন পোপো। তোমায় ভালবাসি।’ ছেলেকে এ ভাবেই জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালেন অনুষ্টুপ। ছেলের থেকে দূরে রয়েছেন। তাঁকে মিস করলেও যে কিছুই করার নেই।

ছেলে পোপও টিভি-র পর্দায় বাবার এমন শুভেচ্ছাবার্তা দেখে উচ্ছ্বসিত। বাবার শতরানের পর এমনিতেই ছোট্ট পোপ আনন্দে নাচছিলেন। তার পর এ রকম শুভেচ্ছা দেখে বলে ওঠেন, ‘অসাধারণ উপহার’।

আরও পড়ুন: রঞ্জিতে অভিষেকে দ্বিশতরান, মুম্বইয়ের সুভেদ লিখে ফেললেন ইতিহাস, ছুঁলেন গুরুর নজির

৩৮ বছরের অনুষ্টুপ রঞ্জিতে এই নিয়ে ১০টি শতরান করে ফেললেন। রঞ্জির কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম দিন ঝাড়খণ্ডের বিরুদ্ধে অনুষ্টুপ ৮৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। সেখান থেকে মঙ্গলবার ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে ১৯৪ বলে তিনি ১১৭ রান করে শাহবাজ নাদিমের বলে ক্যাচ আউট হন। তবে তিনি আউট হওয়ার আগে বাংলাকে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলেন। এ দিকে সুদীপের শেষ পর্যন্ত দ্বিশতরান হয়নি। ১৮৬ রানে আউট হয়ে যান তিনি।

অভিষেক রমন প্রথম দিন রিটায়ার্ড হার্ট হলেও দ্বিতীয় দিন অনুষ্টুপ আউট হলে তিনি আবার ব্যাট করতে নামেন। এবং রমনও হাফসেঞ্চুরি করে ফেলেন। প্রথম দিন পেশির টানের কারণে রমন ৪১ রান করে মাঠ ছেড়েছিলেন। তবে দ্বিতীয় দিন তিনি ৬১ রান করে আউট হন। অভিষেক পোড়েল ৬৮ রান করেন। মনোজ তিওয়ারি ৫৪ করে অপরাজিত রয়েছেন। দ্বিতীয় দিনের শেষে বাংলা ৫ উইকেট হারিয়ে ৫৭৭ রান করে ফেলেছে।

সবুজ ঘাসে ভরা পিচে টসে জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিতীয় বার ভাবতে হয়নি ঝাড়খণ্ড অধিনায়ক সৌরভ তিওয়ারিকে। ঝাড়খণ্ড ভেবেছিল, বাংলাকে প্রথমে ব্য়াট করতে নামিয়ে কম রানে আটকে ফেলবে। সে গুড়ে বালি। বরং ঝাড়খণ্ডের পরিকল্পনাকে ভেস্তে বড় রানের পাহাড় গড়ে পাল্টা ঝাড়খণ্ডকে চাপে ফেলে দিয়েছে বাংলা।

বন্ধ করুন