বাংলা নিউজ > ময়দান > মাত্র ৪২ বছরেই প্রয়াত হলেন এশিয়ান গেমসের সোনাজয়ী বক্সার
ডিঙ্কো সিং।
ডিঙ্কো সিং।

মাত্র ৪২ বছরেই প্রয়াত হলেন এশিয়ান গেমসের সোনাজয়ী বক্সার

  • ১৯৯৮ সালে এশিয়ান গেমসে ডিঙ্কোর সোনার হাত ধরেই মণিপুরেও বক্সিং নিয়ে উন্মাদনা বেড়ে গিয়েছিল। ৬ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও অলিম্পিক্সে পদকজয়ী মেরি কম থেকে শুরু করে বাকি বক্সারদের অনুপ্রেরণা ছিলেন ডিঙ্কো।

সোভাপতি সামোম

অকালেই চলে গেলেন ১৯৯৮ সালের এশিয়ান গেমসে সোনজয়ী বক্সার এন ডিঙ্কো সিং।  ডিঙ্কো বহু দিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার মণিপুরের সেকটা গ্রামে নিজের বাড়িতেই মাত্র ৪২ বছর বয়সেই প্রয়াত হন ভারতের অন্যতম সফল বক্সার।

গত বছর জুনে তাঁর করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর শোনা গিয়েছিল। সে সময় দিল্লিতে চিকিৎসা করাতে গিয়েই করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন ডিঙ্কো। সেই লড়াইয়েও সাফল্য পান। তবে শেষ রক্ষা হল না। ডিঙ্কোর মৃত্যুতে টুইটে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং। তিনি লিখেছেন, ‘আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে শ্রী এন ডিঙ্কোর মৃত্যুতে আমি হতবাক এবং গভীর ভাবে দুঃখিত। পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত ডিঙ্কো সিং-এর মতো অসাধারণ একজন বক্সারকে মণিপুর পেয়েছিল। ওঁর শোকাহত পরিবারকে আমি সমবেদনা জানাই। ওঁর আত্মা শান্তি পাক।’

হকি ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট জ্ঞানেন্দ্র নিঙ্গোমবাম, যিনি নিজেও মণিপুরের বাসিন্দা, ডিঙ্কোর অকাল প্রয়াণে গভীর ভাবে শোকাহত। ফেসবুকে একটি পোস্টে জ্ঞানেন্দ্র লিখেছেন, ‘এনজি ডিঙ্কো সিং-এর মৃত্যুতে গভীর ভাবে শোকাহত আমরা। ১৯৯৮ সালে ব্যাঙ্কক এশিয়ান গেমসে কিংবদন্তি বক্সার সোনা জিতেছিলেন। ২০১৩ সালে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন। তিনি অর্জুনও পেয়েছেন। ওঁর অকাল প্রয়াণে গোটা ক্রীড়া জগতেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে।’ 

১৯৯৮ সালে এশিয়ান গেমসে ডিঙ্কোর সোনার হাত ধরেই মণিপুরেও বক্সিং নিয়ে উন্মাদনা বেড়ে গিয়েছিল। ৬ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও অলিম্পিক্সে পদকজয়ী মেরি কম থেকে শুরু করে বাকি বক্সারদের অনুপ্রেরণা ছিলেন ডিঙ্কো। ২০১৬ সালে তাঁর ক্যান্সার ধরা পড়ে। ২০১৭ সালে দিল্লির ইন্সটিটিউট অফ লিভার এন্ড বিলিয়ারি সায়েন্সে প্রায় ১৪ ঘণ্টা ধরে তাঁর অস্ত্রোপচার হয়। তার পর থেকে নিয়মিত চেক আপের জন্য তাঁকে দিল্লি যেতে হত। গত বছর এপ্রিলে দিল্লি গিয়ে তিনি ফেরার সময়ে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। কিন্তু তখন ডিঙ্কো সুস্থ হয়ে ওঠেন। ইম্ফলের সাইতে বক্সিং কোচ হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন তিনি।

১৬ বছর পর ভারতের কোনও বক্সার ১৯৯৮ সালে এশিয়ান গেমসে সোনা পেয়েছিলেন। স্বাভাবিক ভাবেই ডিঙ্কোকে ঘিরে উন্মাদনার ভেসে গিয়েছিল গোটা দেশ। এ ছাড়াও ১৯৯৭ সালে ব্যাঙ্ককে কিংস কাপ জিতেছিলেন ডিঙ্কো। তাঁর সাফল্যকে কুর্নিশ জানাতে মণিপুরের একটি রাস্তার নাম ডিঙ্কোর নামে করা হয়েছে।

বন্ধ করুন