বাংলা নিউজ > ময়দান > দ্বিতীয় ম্যাচেও জয়ী বাংলাদেশ, অজিদের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের হাতছানি টাইগারদের সামনে
সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচেও জয়ী বাংলাদেশ (ছবি: টুইটার আইসিসি)

দ্বিতীয় ম্যাচেও জয়ী বাংলাদেশ, অজিদের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের হাতছানি টাইগারদের সামনে

  • সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নিয়েছিল অজিরা। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১২১ রান তুলতে সমর্থ হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। জবাবে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ জয় পেল ৫ উইকেটে।

শুভব্রত মুখার্জি: টি-২০ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে আর মাত্র কয়েক মাস পরেই। তার আগেই নিজেদের ঘরের মাঠে স্বপ্নের ফর্মে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। ম্যাথু ওয়েডের নেতৃত্বাধীন অজিদের বিরুদ্ধে মুখোমুখি হয়েছে টাইগাররা। সেই সিরিজের প্রথম ম্যাচেই ঐতিহাসিক জয়ের পরে দ্বিতীয় ম্যাচে রীতিমতো লড়াই করে জিতে আপাতত সিরিজে তারা ২-০ ফলে এগিয়ে গেল। অর্থাৎ পরবর্তী ম্যাচে জিতলেই অজিদের বিরুদ্ধে তারা ঐতিহাসিক সিরিজ জয় সম্পন্ন করবে।

বুধবার মিরপুরের শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে ফের ক্রিকেট বিশ্ব সাক্ষী থাকল টাইগারদের বিক্রমের। এদিন অবশ্য প্রতি মূহুর্তে বদলেছে ম্যাচের রং। জয়- পরাজয়ের দোলাচলে দুলেছে দু দেশের সমর্থকেরা। করোনার ফলে মাঠে দর্শক প্রবেশের অনুমতি ছিল না। ফলে টিভির সামনে বসে মনোমুগ্ধকর এক ম্যাচের সাক্ষী থেকেছেন দর্শকরা। দুই তরুণ বাংলাদেশি ক্রিকেটার আফিফ ও সোহানের দারুণ ব্যাটিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টানা দ্বিতীয় জয় পেল বাংলাদেশ। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ জয় পেল ৫ উইকেটে। এই ম্যাচ জেতায় আগামী শুক্রবার সিরিজ জয় নিশ্চিত করার সুযোগ থাকছে মাহমুদউল্লাহ বাহিনীর সামনে।

এদিন জয়ের লক্ষ্যে রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা খুব খারাপ হয়। তৃতীয় ওভারে সৌম্যকে (০) বোল্ড করে দেন মিচেল স্টার্ক। প্রথম ম্যাচে ২ রান করার পর আজ শূন্য করেই সাজঘরে ফিরতে হল সৌম্যকে।সাকিব উইকেটে কাউন্টার অ্যাটাকিং ভঙ্গিতে খেলা শুরু করেন। পরপর দুই বাউন্ডারি মেরে ম্যাচ ঘোরানোর ইঙ্গিত দেন। তবে পরের ওভারে হ্যাজেলউডের বলে বোল্ড হয়ে ১৩ বলে ৯ রান করে সাজঘরে ফিরে যান নঈম। শাকিবের সঙ্গে জুটি বাধেন মেহেদি হাসান। তাদের জুটিতে বাংলাদেশ ফের ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তবে ২৬ রানে শাকিবকে বোল্ড করে প্যাভিলিয়নে ফিরিয়ে অজিদেরকে ম্যাচে ফেরান অ্যান্ড্রু টাই। ৯ ওভারে ৫৮/৩ তখন বাংলাদেশের স্কোর। ২২ গজে নামেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। ৪ বলে কোনও রান না করে তিনি অ্যাস্টন আগারের বলে বোল্ড হলে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ।

১ রানের ব্যবধানে দুই বড় তারকাকে হারিয়ে তখন বাংলাদেশের সামনে বিপদ বেড়েছে। অ্যাডাম জাম্পার বলে মেহেদি হাসান ২৪ বলে ২৩ রান করে স্টাম্প আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে গেলে তখন বেশ ব্যাকফুটে টাইগাররা। দলের জয়ের জন্য তখনো দরকার ৫২ বলে ৫৫ রান। এই অবস্থায় দলকে ফের ম্যাচে ফেরান দুই তরুণ আফিফ হোসেন ও নুরুল হাসান সোহান। আর কোনো বিপর্যয় হতে দেননি এই দুই তরুণ। হ্যাজেলউডের করা ১৯তম ওভারের চতুর্থ বলে বাউন্ডারি মেরে দলকে জয়ের কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেন আফিফ। ৪৪ বলে তারা জুটিতে আসে অবিচ্ছিন্ন ৫৬ রান । আফিফ ৩১ বলে ৩৭ অপরাজিত রান ও সোহান ২১ ২২ রানে অপরাজিত থাকেন।

এদিন সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নিয়েছিল অজিরা। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১২১ রান তুলতে সমর্থ হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। ৩১ রানে অজিদের দুই উইকেটের পতন ঘটার পরে দ্রুত হেনরিক্স ও মার্শের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় অস্ট্রেলিয়া। ৫২ বলে ৫৭ রানের জুটি গড়ে এই দুজন। ২৫ বলে ৩০ রান করা হেনরিক্সকে বোল্ড করেন শাকিব। মিচেল মার্শ ৪২ বলে ৪৫ করে আউট হয়ার পরেই খেলা‌ ঘুরে যায়। ১০৩ রানে পাঁচ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। নির্ধারিত ২০ ওভারে অস্ট্রেলিয়া সংগ্রহ করে ৭ উইকেটে ১২১ রান। ৪ ওভারে ২৩ রানে ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সবথেকে সফল বোলার মুস্তাফিজ।

বন্ধ করুন