বাংলা নিউজ > ময়দান > কুলিং পিরিয়ডের নিয়ম শিথিলের আর্জি BCCI-র, সৌরভ, শাহদের ভাগ্য ঝুলে সুপ্রিম কোর্টে
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও জয় শাহ (ছবি: পিটিআই) (PTI)

কুলিং পিরিয়ডের নিয়ম শিথিলের আর্জি BCCI-র, সৌরভ, শাহদের ভাগ্য ঝুলে সুপ্রিম কোর্টে

  • বিচারপতি চন্দ্রচূড়ের বেঞ্চ বিসিসিআই সংবিধানের একটি ধারা তুলে ধরে বলেন একজন ক্রিকেটার একটি ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকলে তিনি আর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন না।

শুভব্রত মুখার্জি: নিজেদের সংবিধানে একাধিক পরিবর্তন আনতে উদ্যোগী বিসিসিআই। সেই বিষয়ে তাদের আর্জি নিয়ে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে শুরু হয়েছে বিষয়টির উপর শুনানি। আরএম লোধা কমিটি বিসিসিআইয়ের সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে বেশ কিছু পয়েন্ট প্রস্তাব করেছিলেন। ২০১৮ সালে যা কোর্টের তরফে অনুমোদিতও হয়। এবার সেইসব পয়েন্টের বেশ কিছু পয়েন্ট সংস্কারের লক্ষ্যেই বিসিসিআইয়ের আর্জি নিয়ে সর্বোচ্চ আদালতে শুনানি শুরু হল।

দুজন বিচারকের বেঞ্চে এই শুনানি শুরু হয়েছে। যে বেঞ্চে রয়েছেন বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় এবং বিচারপতি হিমা কোহলি। তাদের সামনে বিসিসিআইয়ের যুক্তি তুলে ধরছেন লিগাল কাউন্সিল তুষার মেহেতা। যিনি ঘটনাচক্রে কেন্দ্রীয় সরকারের সলিসিটর জেনারেল। তার সঙ্গে রয়েছেন অ্যামিকাস কুরি মনিন্দর সিং। কোর্টের তরফে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বিহারের বক্তব্যও শোনা হয়েছে। যারা এই কেসের অন্যতম পার্টি। ২০১৩ সালে আইপিএল কেলেঙ্কারির পরেই বিহার ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই লোধা কমিটির সংস্কার চালু হয়েছিল বিসিসিআইয়ে।

বুধবার দুপুরে ফের শুনানি হবে। তবে সেদিন কোনও চূড়ান্ত বিচার জানানো হবে কিনা তা বলা হয়নি। উল্লেখ্য দুই বছরে এই প্রথমবার আজ অর্থাৎ মঙ্গলবার বিসিসিআইয়ের আর্জি শুনল সর্বোচ্চ আদালত। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর প্রথম বিসিসিআইয়ের তরফে আর্জি জানানো হয়েছিল। ২০২০ সালের এপিলে নয়া আবেদন করা হয়। সেপ্টেম্বর মাসের শেষেই বিসিসিআইয়ের নির্বাচন হওয়ার কথা। সেই কারণেই বিসিসিআইয়ের তরফে বারবার কোর্টকে শুনানির জন্য আবেদন জানানো হচ্ছিল।

কর্মকর্তাদের বাধ্যতামূলক 'কুলিং অফ' পিরিয়ডের যে নিয়ম তা বিবেচনার আবেদন জানানো হয়েছে। বোর্ড সেক্রেটারির ক্ষমতায়নের পক্ষেও আবেদন জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে বিসিসিআই যদি তাদের সংবিধান বদলাতে চায় তাহলে কোর্টের অনুমতি ছাড়াই যাতে করতে পারে তার আবেদনও জানানো হয়েছে।

বিসিসিআইয়ের তরফে অ্যামিকাস কুরি মনিন্দর সিং কোর্টকে কুলিং অফ পিরিয়ড নিয়ে নয়া যুক্তি দেখিয়েছেন। তাদের মতে একজন যদি রাজ্য অ্যাসোসিয়েশনে একটি টার্ম অর্থাৎ তিন বছর কাটান এবং তারপর তিনি বিসিসিআইয়ে আসেন তাহলে তাকে কুলিং অফে পাঠানোর আগে অন্ততপক্ষে দুটি টার্ম অর্থাৎ ছয় বছর থাকার সুযোগ দেওয়া হোক। লোধা কমিটির সুপারিশ অনুসারে বর্তমানে সংশোধিত হয়েছে বিসিসিআইয়ের সংবিধান। সেই অনুযায়ী একজন রাজ্য সংস্থায় একটি টার্ম (৩ বছর) কাটানোর পরপরেই বিসিসিআইয়ে আর মাত্র একটি টার্ম (৩ বছর) কাটাতে পারেন তারপরেই তাকে কুলিং অফে যেতে হয়। এবার সেই নিয়মের কার্যত বদল চাওয়া হয়েছে।

তুষার মেহেতা যে প্রস্তাবিত সংশোধনী জমা করেছেন তাতে লেখা হয়েছে কুলিং অফ পিরিয়ডের জন্য রাজ্য সংস্থায় কাটানো টার্ম এবং বিসিসিআইয়ে কাটানো টার্মকে যাতে আলাদা করে বিবেচনা করা হয়। কোর্ট এই প্রস্তাব মানলে নিজেদের রাজ্য সংস্থায় একটি টার্ম (৩ বছর) কাটানো সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এবং জয় শাহ দুজনেই বিসিসিআইয়ে দু'টি টার্ম অর্থাৎ ছয় বছর পদে থাকার সুযোগ পাবেন। এই আবেদনের পিছনে বিসিসিআইয়ের যুক্তি রাজ্য সংস্থা এবং বিসিসিআই দুটি আলাদা আলাদা স্বতন্ত্র সংস্থা। যাদের নিজস্ব আলাদা আলাদা আইন কানুন রয়েছে। পাশাপাশি এটাও বলা হয়েছে মাত্র তিন বছর সময়ে একজনের পক্ষে একটি সংস্থাকে সঠিকভাবে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় নয়।

মেহেতা যুক্তি দেখিয়েছেন এর ফলে যেমন একজন ব্যক্তি চিরকালীন বিসিসিআইয়ের পদে আসীন থাকবেন না ঠিক তেমন রাজ্য সংস্থায় তাদের যে অভিজ্ঞতা হয়েছে তাও নষ্ট হবে না। দীর্ঘ সময়ে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা কোর্টের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। তা হল এই মুহূর্তে কোনও মন্ত্রী, সরকারী চাকুরে বা পাবলিক অফিসে কোনও পদে আসীন কোনও ব্যক্তি বিসিসিআইয়ের নির্বাচন লড়তে পারেন না।

 সেই সুযোগ যাতে দেওয়া হয় তার আবেদন জানানো হয়েছে। তুষার মেহেতার পক্ষে যুক্তি দেখানো হয়েছে মন্ত্রী বা সরকারি চাকুরে হয়ত এই নির্বাচনে লড়তে আগ্রহী হবেন না। তবে এমন অনেক ক্রিকেটার রয়েছেন যারা খেলার ছাড়ার পরে বিভিন্ন পাবলিক অফিসে পদে রয়েছেন তারা এই নির্বাচনে লড়তে আগ্রহী হতে পারেন। এখনকার নিয়মে এই প্রাক্তন ক্রিকেটারদের পক্ষেও নির্বাচনে লড়া সম্ভব নয়। তিনি যুক্তি দেখান গল্ফের ক্ষেত্রে একজন প্রাক্তনী কত ভালো কাজ করছেন।

জাস্টিস চন্দ্রচূড় বিসিসিআই সংবিধানের একটি ধারা তুলে ধরে বলেন একজন ক্রিকেটার একটি ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকলে তিনি আর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন না। এরপর সলিসিটর জেনারেলের তরফে বলা হয় ৭০ বছর বয়স হয়ে গেলে বর্তমান বিসিসিআইয়ের সংবিধান অনুযায়ী একজন কর্মকর্তা আইসিসিতে আর যাওয়ার সুযোগ পাননা। সেই নিয়ম তারা বদলের কথা বলেছেন। যার বিরুদ্ধ যুক্তি দিয়ে জাস্টিস চন্দ্রচূড় জানিয়েছেন জুনিয়র বিসিসিআই কর্মকর্তার পক্ষেও বিসিসিআইকে আইসিসির মঞ্চে সঠিকভাবে প্রতিনিধিত্ব করা সম্ভব। জাস্টিস চন্দ্রচূড় জানিয়েছেন নবীন কর্মকর্তাদের উচিত বিসিসিআইয়ের হয়ে আইসিসিতে প্রতিনিধিত্ব করা।

তুষার মেহেতা যুক্তি দেখিয়েছেন আইসিসিতে, বিসিসিআইয়ের প্রতিনিধিত্ব করতে গেলে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি নেটওয়ার্কিং খুব জরুরি। আর এই কারণেই ৭০ বছর বয়সেই যে মাপকাঠি রয়েছে তা তুলে দেওয়া উচিত। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনীর দাবি জানানো হয়েছে বিসিসিআইয়ের তরফে যেখানে বর্তমানে একজন বিসিসিআইয়ের ৯ বছর কর্মকর্তা থাকার পরে জেনারেল কাউন্সিলের সদস্য হতে পারেন না। সেই নিয়মের সংশোধন করার আবেদন করা হয়েছে।

তুষার মেহেতার তরফে বলা হয়েছে বর্তমানে বিসিসিআইয়ের সংবিধান পরিবর্তন করতে কোর্টের অনুমোদন নিতে হয়। বিসিসিআই একটি স্বতন্ত্র সংস্থা। সুতরাং তাদের এই ক্ষমতা দেওয়া হোক যাতে করে তাদের পরিবর্তনের জন্য অনুমোদন আগে থেকে নেওয়ার প্রয়োজন না পড়ে।

ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বিহারের তরফে সমস্ত বিষয়টির বিরোধিতা করা হয়েছে। তাদের পক্ষে যুক্তি দেখানো হয়েছে সংস্কারের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে তা ধাক্কা খাবে যদি এই সব দাবি মানা হয়। কারণ সেক্ষেত্রে বিসিসিআই সর্বশক্তিমান হয়ে যাবে এবং স্বেচ্ছাচারিতার জায়গা তৈরি হবে। তাদের তরফে যুক্তি দেওয়া হয়েছে ন্যাশনাল স্পোর্টস কোড নবীনদের সামনে আনার কথা বলে। সেকথা মাথায় রাখা হয় যাতে কোনও সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার ক্ষেত্রে।

বন্ধ করুন