বাংলা নিউজ > ময়দান > 'মা দুর্গার আশীর্বাদ', অভাবের অন্ধকার গলি থেকে জাতীয় দলের 'রাজপথে' বাংলার মুকেশ

'মা দুর্গার আশীর্বাদ', অভাবের অন্ধকার গলি থেকে জাতীয় দলের 'রাজপথে' বাংলার মুকেশ

মুকেশ কুমার (PTI)

মুকেশ কুমারের ক্রিকেট কেরিয়ারের উত্থানটা রূপকথায মতন। একটা সময় হাড়ের রোগের ফলে ক্রিকেট কেরিয়ার নিয়েই ছিল অনিশ্চয়তা। কম বয়সে ঘোর অভাবের সংসারে বড় হয়ে ওঠা।

শুভব্রত মুখার্জি: রবিবারেই ঘরের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে তাদের দল ঘোষণা করেছে ভারতীয় বোর্ড। বিসিসিআইয়ের ঘোষণা করা ১৫ সদস্যের দলে জায়গা করে নিয়েছেন বাংলার পেসার মুকেশ কুমার। গোটা বাংলা জুড়ে উৎসবের আবহ। দুর্গাপুজো এখন তার মধ্যগগনে। আর তার মাঝেই সপ্তমীতে সুখবর পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই আপ্লুত মুকেশ কুমার। অভাবের গন্ধগলি থেকে জাতীয় দলের 'রাজপথে' পৌঁছে যাওয়া মুকেশ কুমার এখন জাতীয় দলের হয়ে প্রথম একাদশে খেলার বিষয়ে স্বপ্নে বুঁদ।

সদ্য সমাপ্ত ইরানি ট্রফিতেও খেলেছেন মুকেশ কুমার। বল হাতে পারফরম্যান্সও খুব ভালো। ইরানি ট্রফির দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে হোটেলে ঢোকার পরেই সুখবরটি পান মুকেশ। ফোনে তিনি সংবাদ প্রতিদিনকে তার প্রতিক্রিয়াও জানিয়েছেন। তার মতে প্রথমে কী বলবেন তা তিনি বুঝতেই পারেননি। কলকাতায় পুজো চলার মধ্যেই ভারতীয় দলে ডাক পাওয়াতে আরও বেশি খুশি তিনি। ভারতীয় দলে ডাক পাওয়া প্রসঙ্গে তার মত 'আমি আর শাহবাজ একই সঙ্গে রয়েছি। মাতারাণীর কৃপা, বুঝলেন পুরোটাই মাতারাণীর কৃপা।'

মুকেশ কুমারের ক্রিকেট কেরিয়ারের উত্থানটা রূপকথায মতন। একটা সময় হাড়ের রোগের ফলে ক্রিকেট কেরিয়ার নিয়েই ছিল অনিশ্চয়তা। কম বয়সে ঘোর অভাবের সংসারে বড় হয়ে ওঠা। সেখান থেকে আজকের এই উত্থানটা কার্যত স্বপ্ন। একটা সময় ম্যাচ খেলা বা অনুশীলন করার মতন একজোড়া জুতোও ছিল না। বন্ধুদের কাছ থেকে রীতিমতো পয়সা ধার করেই জোগাড় করতে হয়েছিল জুতো জোড়া।

মুকেশের বাবা প্রয়াত কাশীনাথ সিং প্রয়াত হয়েছেন। পেশায় তিনি সাধারণ ট্যাক্সিচালক ছিলেন। সেই টাকাতেই তিনি ছেলেকে ক্রিকেট শিখিয়েছেন। রবিবার তার জীবনের অন্যতম সেরা মুহূর্তের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে প্রয়াত বাবকে মনে পড়ছিল মুকেশের। সেকথাও তিনি জানিয়েছেন অকপটে। ৩ বার সিআরপিএফের পরীক্ষা দিয়েছিলেন তিনি। তবে সফলতা আসেনি। সংবাদ প্রতিদিনকে মুকেশ অস্ফুটে জানিয়েছেন খবরটা শোনার পর নাকি তার মাথাটা ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল। রঞ্জি যখন খেলতেন তখন নাকি তার বাবা বিশ্বাসই করেননি যে ক্রিকেট খেলে ছেলের পক্ষে ভালো কিছু করা সম্ভব। জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার খবর শুনে নাকি তার মা কেঁদেও ফেলেছিলেন। তার বাড়িতেও সবাই নাকি আনন্দে কেঁদে ফেলেছিলেন।

প্রাক্তন বাংলা পেসার রণদেব বসুর হাত ধরেই বাংলা দলের ভিশন ২০২০ প্রকল্পের মাধ্যমেই উঠে এসেছিলেন মুকেশ। রণদেব তাঁর ট্রায়াল নেন। বোলিং দেখামাত্র তাঁর নাম প্রস্তাব করেন ভিশন ২০২০'র তৎকালীন পেস বোলিং কোচ ওয়াকার ইউনিসকে। দীর্ঘদিনের অপুষ্টির কারণে হাড়ের রোগ হয় মুকেশের। সেই সময়ও তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন রণদেব। তার কথাতেই তৎকালীন সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে মুকেশের চিকিৎসার সমস্ত বন্দোবস্ত করে দিয়েছিলেন। তারপরের ইতিহাসটুকু সকলের জানা। বাংলা দল, ভারতীয় 'এ' দল হয়ে এবার সোজা সিনিয়র দলে ঢুকে পড়েছেন তিনি।

বন্ধ করুন