বাংলা নিউজ > ময়দান > অলিম্পিক্সের ছাড়পত্র পেয়ে নতুন ইতিহাস লিখলেন ফেন্সার ভবানী
ভবানী দেবী।
ভবানী দেবী।

অলিম্পিক্সের ছাড়পত্র পেয়ে নতুন ইতিহাস লিখলেন ফেন্সার ভবানী

  • প্রথম ভারতীয় ফেন্সার হিসেবে অলিম্পিক্সের যোগ্যতা অর্জন করলেন চেন্নাইয়ের ভবানী দেবী। এর আগে আট বার জাতীয় ফেন্সিং চ্যাম্পিয়ন হলেও অলিম্পিক্সের ছাড়পত্র পাননি। হাঙ্গেরিতে চলতি ফেন্সিং বিশ্বকাপের মাঝেই অলিম্পিকের ছাড়পত্র জোগাড় করেন ভবানী। টোকিয়ো অলিম্পিক্সে ব্যক্তিগত স্যাব্রে ইভেন্টে অংশ নেবেন তিনি।

অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান। অলিম্পিক্সের ছাড়পত্র অর্জন করে নতুন ইতিহাস লিখলেন চেন্নাইয়ের ২৭ বছরের কন্যা। প্রথম ভারতীয় ফেন্সার হিসেবে টোকিয়ো অলিম্পিক্সে অংশ নেবেন ভবানী দেবী। হাঙ্গেরিতে ফেন্সিং বিশ্বকাপের মাঝেই অলিম্পিক্সের ছাড়পত্র পেয়ে গেলেন তিনি। এর আগে ভারতের কোনও ফেন্সার অলিম্পিক্সের যোগ্যতা অর্জন করেননি।

চলতি ফেন্সিং বিশ্বকাপের উপর নির্ভর করে আগামী ৫ এপ্রিল প্রকাশিত হবে নতুন র‍্যাঙ্কিং। এশিয়া-ওশিয়ানিয়া বিভাগে ব্যক্তিগত ইভেন্টে বরাদ্দ ছিল মাত্র দু’টি স্থান। তার মধ্যে একটি স্থান দখল করেছেন কমনওয়েলথ চ্যাম্পিয়নশিপে সোনাজয়ী স্যাব্রে ফেন্সার। অ্যাডজাস্টেড অফিসিয়াল র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী টোকিয়োর টিকিট নিশ্চিত করলেন চেন্নাইয়ের তরুণী।

একেবারে সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসেছেন ভবানী। তাঁর বাবা পুরোহিত। সামান্য আয়ে ফেন্সিংয়ের মতো খরচসাপেক্ষ ইভেন্টে অংশ নেওয়াটা কষ্টসাধ্য বিষয় ছিল। কিন্তু ভবানীর জেদ, একাগ্রতা, ভালবাসা আর সংকল্পের জেরে শেষ পর্যন্ত সব বাধা টপকে অলিম্পিক্সের দরজা খুলে দিয়েছে তাঁর সামনে। এর আগে আট বার জাতীয় ফেন্সিংয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন ভবানী। কিন্তু অলিম্পিক্সের ছাড়পত্র কোনও বার পাননি। এ বার করোনার মাঝেও তাই নিজের প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখতে চাননি। একেবারে নিভৃতে ট্রেনিং চালিয়ে গিয়েছেন। যার ফল হাতেনাতেই পেলেন ভবানী।

খেলাধূলার পাশাপাশি পড়াশোনাতেও বেশ ভাল চেন্নাইয়ের তরুণী। মেধাবী ছাত্রী হিসেবে তাঁর সুনাম রয়েছে। চেন্নাইয়ের সেন্ট জোসেফ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে পড়াশোনা করেছেন। রাহুল দ্রাবিড় তাঁর আইকন। দ্রাবিড়ের অ্যাথলেটিক মেন্টরশিপ প্রোগ্রামের সাহায্য পেয়েই নিজের লক্ষ্যে পৌঁছতে পেরেছেন ভবানী। দ্রাবিড়ের এই সংস্থা অ্যাথলিটদের নানা ভাবে সাহায্য করে থাকে। 

২০১৬ রিও অলিম্পিকের যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পর ইতালির প্রশিক্ষক নিকোলা জানোত্তির সঙ্গে কঠিন অনুশীলনে ডুবে গিয়েছিলেন। টোকিয়োকে পাখির চোখ করে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন। স্বাভাবিক ভাবেই অলিম্পিক্সের যোগ্যতা অর্জনের পর চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি ভবানী। বহু দিনের লড়াই তাঁর সার্থক হয়েছে। ভবানী বলেন, ‘এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। অনেক পরিশ্রমের পর এই ফল পেয়েছি। এর জন্য আমার পরিবার, আমার কোচ সকলের সাহায্য পেয়েছি। প্রত্যেকে আমার পাশে ছিল। এই মুহূর্তটার জন্য কবে থেকে অপেক্ষা করে ছিলাম। গত এক বছর ধরে বিশেষত লকডাউনের সময় আমি অলিম্পিক্সের লক্ষ্য নিয়েই নিজেকে তৈরি করে গিয়েছি। অবশেষে নিজেকে মুক্ত লাগছে।’

বন্ধ করুন