বাংলা নিউজ > ময়দান > 'আমার দলের প্রতি অসত্‍ হতে পারব না',বিদায়বার্তায় কি চোখ ভিজেছে আগ্রাসী বিরাটেরও?
বিরাট কোহলি। (ফাইল ছবি, সৌজন্যে পিটিআই)
বিরাট কোহলি। (ফাইল ছবি, সৌজন্যে পিটিআই)

'আমার দলের প্রতি অসত্‍ হতে পারব না',বিদায়বার্তায় কি চোখ ভিজেছে আগ্রাসী বিরাটেরও?

  • বিরাটের সেই বিদায়বার্তা থেকেই স্পষ্ট যে প্রতিটি শব্দে আবেগের চূড়ান্ত বিস্ফোরণ হয়েছে।

ভারতীয় ক্রিকেটের মসনদে শেষ হল বিরাট কোহলির যুগের। শনিবার সন্ধ্যায় টেস্টের ইতিহাসে ভারতের সবথেকে সফল অধিনায়ক জানালেন, তিনি আর ভারতীয় ক্রিকেট দলের নেতৃত্ব দেবেন না। সঙ্গে আবেগে সিক্ত বার্তা লিখলেন। কী বললেন তিনি, দেখে নিন -

‘দলকে সঠিক দিকে নিয়ে যেতে সাত বছরের প্রতিটা দিন পরিশ্রম করেছি। নিরবিচ্ছিন্ন অধ্যবসায় বজায় রেখে চলেছি। চূূড়ান্ত সততার সঙ্গে আমি সেই কাজটা করেছি। সেখানে কিছু ফাঁক রাখিনি। সবকিছুকেই কোনও না কোনও সময় থামতে হয়। আমার কাছে ভারতীয় দলের টেস্ট দলের অধিনায়কত্ব (ছাড়ার) সময় এসে গিয়েছে। দীর্ঘ যাত্রাপথে প্রচুর সাফল্য এসেছেে। ব্যর্থতারও সম্মুখীন হতে হয়েছে। কিন্তু কখনও প্রয়াস বা আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি হয়নি। আমি যা কিছু করি, তাতে বরাবর ১২০ শতাংশ উজাড় করে দেওয়ার তত্ত্বে বিশ্বাস করে এসেছি। আমি যদি সেটা করতে না পারি, তাহলে আমি ভালোভাবে জানি যে সেটা করা আমার পক্ষে ঠিক নয়। আমার হৃদয়ে পুরোপুরি স্বচ্ছতা আছে। আমার দলের প্রতি আমি অসত্‍ হতে পারব না।

এত দীর্ঘ সময় ধরে আমায় দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ প্রদানের জন্য বিসিসিআইকে ধন্যবাদ জানাই। আরও বেশি করে ধন্যবাদ জানাচ্ছি আমার সতীর্থদের, যারা প্রথম দিন থেকে দলকে নিয়ে আমার যে লক্ষ্য ছিল, তা পূরণের ক্ষেত্রে সঙ্গী হয়েছে। কোনও পরিস্থিতিতে তারা হাল ছাড়েনি। তোমরা এই যাত্রাকে এতটা সুন্দর এবং স্মরণীয় করে তুলেছ। রবি ভাই (রবি শাস্ত্রী) এবং সকল সাপোর্ট স্টাফরা এই গাড়ির ইঞ্জিন হয়ে কাজ করেছেন। যাঁরা লাগাতার টেস্ট ক্রিকেটে আমাদের উপরের দিকে নিয়ে গিয়েছেন। সেই লক্ষ্যকে বাস্তবে পরিণত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। শেষে মহেন্দ্র সিং ধোনিকে বড়সড় ধন্যবাদ জানাতে চাই। যিনি অধিনায়ক হিসেবে আমার উপর ভরসা রেখেছিলেন এবং বিশ্বাস করেছিলেন যে আমি ভারতীয় ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব।’

বিরাটের সেই বিদায়বার্তা থেকেই স্পষ্ট যে প্রতিটি শব্দে আবেগের চূড়ান্ত বিস্ফোরণ হয়েছে। যে লোকটা জাতীয় দলের জন্য নিজের সবকিছু উজাড় করে দিয়েছেন (হয়ত কারও ভালো লেগেছে, কারও ভালো লাগেনি বিরাটের আচরণ), অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণার সময় আবেগে ভেসে গিয়েছেন সেই বিরাট। হয়ত চোখও ভিজে গিয়েছিল তাঁর। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের দৌলতে তা বোঝা না গেলেও নিজের বিদায়বার্তার ছত্রেছত্রে বুঝিয়ে দিয়েছেন, খেলাটা বরাবর আবেগের সঙ্গে খেলেছেন। অধিনায়কত্বের সময়ও ছিল আবেগ।

বন্ধ করুন