ম্যারাথন রানার অমৃক সিং।
ম্যারাথন রানার অমৃক সিং।

করোনায় মৃত্যু প্রবীণ ম্যারাথন রানার ওয়াহেগুরু বাবার, ওস্তাদকে হারালেন ফৌজা সিং

  • একশোর বেশি ম্যারাথনে দৌড়েছেন টিম ফৌজার অন্যতম সদস্য।

করোনা ভাইরাস কেড়ে নিল ওয়াহেগুরু বাবার প্রাণ। ওস্তাদকে হারিয়ে মুষড়ে পড়লেন বিশ্বের প্রবীণতম ম্যারাথন রানার ফৌজা সিং। আগেই প্রয়াত হয়েছেন টিম ফৌজার আরেক সদস্য অজিত সিং। তিন মূর্তির দু'জন পরলোকের পথে পা বাড়ানোয় একা হয়ে গেলেন ফৌজা।

করোনা আক্রান্ত হয়ে বার্মিংহ্যাম সিটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন প্রবীণ দৌড়বিড় অমৃক সিং। গত ২২ এপ্রিল হাসপাতালেই মৃত্যু হয় ৮৯ বছর বয়সি শিখ ম্যারাথন রানারের, যিনি বন্ধুমহলে পরিচিত ছিলেন ওয়াহেগুরু বাবা নামে। সারা জীবনে একশোর বেশি ম্যারাথনে দৌড়েছেন অমৃক। দেশ-বিদেশ থেকে পদক জিতেছেন প্রায় ৬৫০টি।

অমৃক, অজিত ও ফৌজা, তিনজনে মিলে গড়ে তুলেছিলেন 'টিম ফৌজা'। তিন সর্দার বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে একসঙ্গে ২০টিরও বেশি ম্যারাথনে অংশ নিয়েছেন। ২০০৬ সালে পারভেজ মুশারফের ডাকে সাড়া দিয়ে তিনজনে দৌড়েছিলেন লাহোর ম্যারাথনে।

অমৃক ও অজিত অনেক আগে থেকেই দূরপাল্লার দৌড়ে অংশ নিতেন। মূলত অমৃকের অনুপ্রেরণাতেই ফৌজা সিং স্বল্প দূরত্বের প্রতিযোগিতা ছেড়ে ম্যারাথন রানার হয়ে ওঠেন। তাই ফৌজার কাছে অমৃক ছিলেন তাঁর গুরু বা ওস্তাদ।

তিনজনের মধ্যে সব থেকে বয়স্ক ফৌজাই, যিনি এখন ১০৯ বছরের। ৮৭ বছর বয়সে মারা যান অজিত। অমৃক সিং ১৯৭০ সাল থেকে গ্লাসগোয় থাকতেন। জলন্ধরের ফৌজা নিজের থেকে বয়সে ছোট ওস্তাদের মৃত্যুতে স্বাভাবিকভাবেই ভেঙে পড়েছেন।

টিম ফৌজা পরবর্তী সময়ে ব্রিটেনে 'শিখস ইন দ্য সিটি' নামে পরিচিত হয়। যোগ দেন আরও দু'জন সর্দার কর্ণেল সিং ও গুরবক্স সিং। দু'জনেই তুলনায় বয়সে অনেক ছোট।

মৃত্যুকালে অমৃক সিং বেশ কয়েকবার 'ওয়াহেগুরু' শব্দটি উচ্চারণ করেন, যার মানে বুঝতে পারেননি ডাক্তাররা। পরে তাঁর নাতি পমন সিংকে তাঁরা জানিয়েছিলেন বোধহয় কোনও প্রিয়জনকে তিনি খুঁজছিলেন শেষবেলায়।

বন্ধ করুন