বাড়ি > ময়দান > করোনায় জার্মানিতে আটকে আনন্দ, অনলাইনে দাবা খেলছেন ছেলের সঙ্গে!
সরকারি নীতি মেনে চলার পরামর্শ আনন্দের। ছবি-পিটিআই (PTI)
সরকারি নীতি মেনে চলার পরামর্শ আনন্দের। ছবি-পিটিআই (PTI)

করোনায় জার্মানিতে আটকে আনন্দ, অনলাইনে দাবা খেলছেন ছেলের সঙ্গে!

  • সন্ধ্যাটা কেটে যায় একাতেরিনবার্গে অনুষ্ঠিত ক্যান্ডিডেটস দাবার অনলাইন ধারাভাষ্য দিয়ে।

বিশ্বজুড়ে লকডাউন। বন্ধ আন্তর্জাতিক উড়ান। বার্তা একাই, 'বাড়িতে থাকুন, নিরাপদে থাকুন।' সঙ্গে রয়েছে সোশ্যাল ডিসট্যান্সিংয়ের দিকে নজর। এই অবস্থায় বাড়ি ছেড়ে সফর করা কারও পক্ষে সম্ভব নয়। ঠিক তেমনই সফর শেষ করে কারও পক্ষে আপাতত বাড়ি ফেরাও অসম্ভব। কিংবদন্তি দাবাড়ু বিশ্বনাথন আনন্দ এই মুহূর্তে দ্বিতীয় দলের সদস্য। গত ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি রয়েছেন জার্নানিতে। যে টুর্নামেন্টের জন্য তিনি ওদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন, তা স্থগিত হয়ে গিয়েছে। তা সত্ত্বেও দেশে ফিরে আসার রাস্তা নেই ভিশির সামনে।

জার্মানিতে বসে কী করছেন আনন্দ? করোনা ভাইরাস নিয়ে এমন সংকটময় মুহূর্তে পরিবার ছেড় কেমন আছেনে তিনি? কীভাবে কটছে সময়? পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দাবাড়ু নিজেই জানালেন ভিডিও কলে পরিবারের সঙ্গে আড্ডা, ছেলের সঙ্গে অনলাইন দাবা এবং ধারাভাষ্যকারের নতুন ভূমিকা নিয়েই আপাতত দিন কাটছে তাঁর।

জার্মানির লকডাউনে আটকে পড়া আনন্দ জানান, 'ওএসজি বাডেন-বাডেনের হয়ে চেস বুন্দেশলিগা খেলার জন্য গত ফেব্রুয়ারিতে জার্মানি এসেছিলাম। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কায় ম্যাচগুলি বাতিল হয়ে গিয়েছে। ভারতে ফেরার আগে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ফ্র্যাঙ্কফুর্টের কাছে আমার আবাসনে স্বেচ্ছায় নিজেকে কিছুদিন গৃহবন্দী করে রাখার সিদ্ধান্ত নিই। ইতিমধ্যে ভারত সরকার আন্তর্জাতিক উড়ানে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। সুতরাং নিজেকে ও পরিবারকে বিপদে ফেলার ঝুঁকি না নিয়ে তা মেনে চলা আবশ্যক।'

এই অবস্থায় সারা দিনে কী করেন, তার একটা স্পষ্ট ছবি অনুরাগীদের সামনে তুলে ধরেন ভিশি। তিনি জানান, 'এমন পরিস্থিতিতে আগে কখনও পড়িনি। এটা একেবারেই অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি। ভিডিও চ্যাটে ছেলে অখিল ও স্ত্রী অরুনার সঙ্গে কথা হয় প্রতিদিন। কঠিন সময়ে নিজেদের মধ্যে কথা বলে খুশি থাকার চেষ্টা করি। ছেলের সঙ্গে অনলাইনে দাবা খেলি। সাধারণত আমি দিনের বেশিরভাগ সময় আবাসনেই থাকি। মাঝে মাঝে বাইরে বেরতে হয় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য। তাছাড়া ভিড় এড়িয়ে মাঝে মধ্যে একটু হেঁটে আসি। এছাড়া যোগা ও স্ট্রেচিংয়ের মাধ্যমে নিজেকে ফিট রাখার চেষ্টা করি। সন্ধ্যাটা কেটে যায় একাতেরিনবার্গে অনুষ্ঠিত ক্যান্ডিডেটস দাবার অনলাইন ধারাভাষ্য দিয়ে। এটা আমার কাছে একেবারে নতুন অভিজ্ঞতা। এতদিন আমি ক্যান্ডিডেটসসে অংশ নিতাম। এবার বাকিদের খেলা নিয়ে অলোচনা করতে দারুণ লাগছে।'

শেষে আনন্দ জানান, 'যতদূর ভারতে ফেরার প্রশ্ন, সেটা নির্ভর করছে দু'দেশের উড়ান নীতির উপর। আপাতত ২৮ মার্চ পর্যন্ত যাবতীয় আন্তর্জাতিক উড়ান বন্ধ। তার পর পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। এটা ঠিক যে, করোনা ভাইরাস এখন আন্তর্জাতিক সমস্যা। এমন সময়ে সরকারি নীতি মেনে চলা উচিত সকলের।'


বন্ধ করুন