বিদেশ থেকে ফিরেই নিজেকে স্বেচ্ছায় গৃহবন্দী করে নেন সানিয়া। ছবি- আইএএনএস। (IANS)
বিদেশ থেকে ফিরেই নিজেকে স্বেচ্ছায় গৃহবন্দী করে নেন সানিয়া। ছবি- আইএএনএস। (IANS)

ইন্ডিয়ান ওয়েলসে খেলতে গিয়ে করোনা নিয়ে ভয় পেয়েছিলেন, অকপট সানিয়া

ভাইরাস যে এভাবে সারা বিশ্বে আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়বে, তা আশা করেননি ভারতীয় টেনিস তারকা।

প্রাথমিকভাবে বিষয়টিকে পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ ভেবে হালকাভাবে নিয়েছিলেন। করোনা ভাইরাস যে এভাবে সারা বিশ্বে দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে, তা আশা করেননি সানিয়া মির্জা। যখন বুঝতে পারলেন মহামারী তাঁদের আশেপাশে এসে পৌঁছেছে, সঙ্গত কারণেই ভয় পেয়েছিলেন ভারতীয় টেনিস তারকা।

করোনা নিয়ে নিজের উপলব্ধির কথা জানাতে গিয়ে সানিয়া বলেন, ইন্ডিয়ান ওয়েলসে খেলতে গিয়ে করোনার প্রভাব প্রথম টের পান। তাঁর কথায়, '৮ মার্চ সকালে দুবাই থেকে রওনা দিই। ইন্ডিয়ান ওয়েলসে গিয়ে পৌঁছই অন্তত ২০ ঘণ্টা পরে। যাওয়ার এক ঘণ্টা পরে আমার কাছে খবর আসে টুর্নামেন্ট বাতিল হয়ে গিয়েছে। সেই প্রথমবার করোনার প্রভাব বুঝতে পারি। ভাইরাস নিয়ে বিস্তর আলোচনা শুনেছি তার আগেই। প্রাথমিকভাবে সমস্যাটা পূর্ব এশিয়ায় সীমাবদ্ধ বলেই মনে হয়েছিল। তবে ভাবিনি বাড়ির এত কাছে এসে গিয়েছে করোনা। আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়েছে ভাইরাস। এটা উপলব্ধি করেই রীতিমতো ভয় পেয়ে যাই।'

পরে সানিয়া জানান যে, বাড়ি ফেরার পথেও তিনি মানুষের মধ্যে লক্ষ্য করেছেন করোনার আতঙ্ক। স্বাভাবিকভাবেই হায়দারবাদে নিজের বাড়িতে ফিরে স্বেচ্ছায় গৃবহন্দী থাকার সিদ্ধান্ত নেন সানিয়া ও তাঁর বাবা ইমরান মির্জা। হায়দরাবাদি টেনিস সুন্দরীর কথায়, 'সেই মুহূর্তে আইসোলেশন বাধ্যতামূলক ছিল না। তবে আমাদের মনে হয়েছিল সকলের নিরাপত্তার জন্য এটা করা দরকার।'

লকডাউনে কীভাবে কাটছে সময়, সানিয়া জানালেন সেকথা। তিনি বলেন, 'বাড়িতে ছেলে ইজহানকে নিয়েই বেশিরভাগ সময় কাটে। এমন সংকটজনক পরিস্থিতিতে টেনিসের কথা মাথায় আসাই উচিত নয়। সুরক্ষিত থাকলে পরে টেনিস কোর্টে নামা যাবে। তবে নিজেকে ফিট রাখতে যতটুকু প্রয়োজন, ট্রেনিং করি বাড়িতে। ভাগ্য ভালো যে, আমার বাড়িতে একটা টেনিস কোর্ট রয়েছে। তাতে অবশ্য পুরদস্তুর অনুশীলন করার কথা একবারও ভাবিনি। শুধু মাত্র গা ঘামানো ছাড়া বাকি সময়টা পরিবারের সঙ্গেই কাটছে।'

শেষে অলিম্পিক পিছিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে সানিয়া জানান, 'এমন অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে টোকিও অলিম্পিক পিছিয়ে যাওয়াই স্বাভাবিক ছিল। এটা ভালোর জন্যই হয়েছে। খেলাধুলোর জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশ দরকার হয়। আশা করি আগামী বছর দারুণ পরিবেশে আমরা অলিম্পিক খেলতে পারব। আপাতত চাই সবকিছু দ্রুত স্বাভাবিক হোক।'

বন্ধ করুন