বাংলা নিউজ > ময়দান > CWG 2022: ‘এটা গোটা দেশের আনন্দ’,অচিন্ত্যর সাফল্যের দুই স্তম্ভ মা আর দাদা উচ্ছ্বাসে ভাসছেন
অচিন্ত্যর সাফল্যে উচ্ছ্বসিত মা-দাদা।

CWG 2022: ‘এটা গোটা দেশের আনন্দ’,অচিন্ত্যর সাফল্যের দুই স্তম্ভ মা আর দাদা উচ্ছ্বাসে ভাসছেন

  • অচিন্ত্য শিউলির সোনা জয়ের সাফল্যে গর্বিত তাঁর মা-দাদা। আনন্দের জোয়ারে ভাসছেন। অল্প বয়সে বাবাকে হারানোর পর মা আর দাদাই তাঁকে আগলে রেখেছেন অচিন্ত্যকে। তাঁরাই অচিন্ত্যর সাফল্যের পিছনে বড় স্তম্ভ। স্বাভাবিক ভাবেই বাড়ির ছোট ছেলের সাফল্য উচ্ছ্বাসে ভাসলেন তাঁরা।

এক জন জরির কাজ করে ছেলের স্বপ্ন পূরণে সাহায্য করেছেন। মায়ের সেই রক্ত জল করা পরিশ্রমের মর্যাদা দিলেন ছেলে।

অন্য জন ভাইকে সাফল্যের দিকে ঠেলে দিতে নিজের স্বপ্নকে জলাঞ্জলি দিয়েছেন। নিজে খেলা ছেড়ে ভাইকে তৈরি করেছেন। সেই দাদার আত্মত্যাগকে সফল করেছেন দেউলপুরের ২০ বছরের তরুণ।

অচিন্ত্য শিউলির সোনা জয়ের সাফল্য তাঁরা গর্বিত। আনন্দের জোয়ারে ভাসছেন। অল্প বয়সে বাবাকে হারানোর পর মা আর দাদাই তাঁকে আগলে রেখেছেন। তাঁরাই অচিন্ত্যর সাফল্যের পিছনে বড় স্তম্ভ। স্বাভাবিক ভাবেই বাড়ির ছোট ছেলের সাফল্য উচ্ছ্বাসে ভাসলেন তাঁরা।

আরও পড়ুন: অচিন্ত্যর সাফল্যে উচ্ছ্বসিত বাংলা সহ গোটা দেশ,মমতা থেকে মোদীর শুভেচ্ছা

রবিবার দেড়টা নাগাদ ঘুম জড়ানো চোখে স্থানীয় ক্লাবে হাজির হয়েছিলেন দৈউলপুরের বাসিন্দারা। অচিন্ত্যর সাফল্যের সাক্ষী থাকার জন্য লাগানো হয়েছিল বড় স্ক্রিন। ইভেন্ট শুরুর বেশ কিছুক্ষণ আগে থেকেই টিভির পর্দায় চোখ ছিল দেউলপুরবাসীর। অচিন্ত্য সোনা জিততেই বাজি, নাচ, গানে আনন্দে মাতলেন সকলে।

আরও পড়ুন: বাংলার প্রথম অ্যাথলিট হিসেবে গেমসে সোনা জিতে রেকর্ড হাওড়ার অচিন্ত্যর

অচিন্ত্যর বাবা পেশায় একজন ভ্যান চালক ছিলেন। তাঁর মারা যাওয়ার পর সংসারে কার্যত নুন আনতে পান্তা ফুরনোর অবস্থা হয়ে গিয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে জরির কাজ করে তিনজনের সংসার টানেন মা পূর্ণিমা শিউলি। ছেলের চাহিদা মেটান কষ্ট করে রোজগার করেই। আর ছেলের এই সাফল্যে গর্বে বুক ভরে যাচ্ছে মায়ের। পূর্ণিমা দেবীর কথায়, ‘এতো শুধু আমাদের আনন্দ নয়। সবার। গোটা দেশ আনন্দ করছে। গর্বে বুক ভরে যাচ্ছে। ভীষণ খুশি আমি।’

যদিও ভারোত্তোলনে আসার কোনও ইচ্ছেই ছিল না অচিন্ত্যর। তবে দাদা অলোক শিউলির জন্যই তিনি ভারোত্তোলনে আসেন। ভাইয়ের জন্য যো দাদা আত্মত্যাগ করেছিলেন, সেই সোনা জিতে দাদাকেই পদক উৎসর্গ করেছেন। ভাইয়ের সাফল্যে দাদা অলোকের চোখে আনন্দাশ্রু। অলোক বলছিলেন, ‘বাড়ির কাছেই একটি ছোট জিম ছিল। খুবই সাধারণ মানের জিম। শরীরচর্চা করতে ভালোবাসতাম। রোজ ওই জিমেই যেতাম। অচিন্ত্য ভীষণ শান্ত ও লাজুক প্রকৃতির। ওর আত্মবিশ্বাস বাড়াতে জিমে নিয়ে যেতে শুরু করি। বাবা পরিবারের মেরুদণ্ড ছিলেন। গরীব ছিলাম, কিন্তু বাবা চলে যাওয়ার পর সর্বহারা হয়ে যাই। এমনকী বাবার শেষকৃত্যের জন্যও টাকা ছিল না। এক আত্মীয়ের কাছে টাকা ধার করতে হয়।’ তবে অচিন্ত্যর সাফল্য যেন তাঁদের সব না পাওয়া, যাবতীয় আক্ষেপ, যন্ত্রণায় প্রলেপ দিয়েছে।

বন্ধ করুন