বাংলা নিউজ > ময়দান > CWG 2022: বাবা ভ্যান চালাতেন, সংসার চলত ৫০০টাকায়, লড়াই করে সোনা জয়, তবু খুশি নন অচিন্ত্য
মায়ের সঙ্গে অচিন্ত্য।

CWG 2022: বাবা ভ্যান চালাতেন, সংসার চলত ৫০০টাকায়, লড়াই করে সোনা জয়, তবু খুশি নন অচিন্ত্য

  • হাওড়া থেকে দু'ঘণ্টার বাস জার্নি করে যেতে হয় দেউলপুর গ্রামে। সেখানেই বেড়ে ওঠা সোনার ছেলে অচিন্ত্যর। ছোটবেলায় ভারোত্তোলনের ​​প্রতি বিশেষ আগ্রহই ছিল না। দাদার অনুপ্রেরণা এবং আত্মত্যাগে তিনিই এখন বাংলার সোনার ছেলে। দাদা অলোককেই তাঁর সোনার পদক উৎসর্গ করলেন অচিন্ত্য।

ছোট থেকেই লড়াই করে এসেছেন দারিদ্র্যের সঙ্গে। অচিন্ত্যর বাবা পেশায় একজন ভ্যান চালক ছিলেন। ৯ বছর আগেই তিনি প্রয়াত হন। তার পর সংসারে কার্যত নুন আনতে পান্তা ফুরনোর অবস্থা হয়ে গিয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে ভাইয়ের খেলা বন্ধ হতে দেননি অচিন্ত্যর দাদা অলোক শিউলি। তার জন্য নিজে খেলা ছেড়ে দিয়েছিলেন। সেই দাদাকেই পদক উৎসর্গ করলেন অচিন্ত্য।

বাবা মারা যেতে মা কোনও মতে জরির কাজ করে সংসার চালাতেন। তাঁর সাপ্তাহিক আয় খুব বেশি হলে ছিল মাত্র ৫০০ টাকা। মাকে সাাহায্য করতে দুই ভাইও জরির কাজ করতেন। সেই টাকাতেই চলত সংসার। আর ভাইয়ের খেলায় যাতে কোনও বাধা না আসে, তার জন্য লড়াই করে গিয়েছেন অচিন্ত্যর দাদা। নিজের কেরিয়ার নিয়ে ভাবেননি। দাদার এই আত্মত্যাগের কথা ভোলেননি অচিন্ত্য। তাই কমনওয়েলথের সোনার পদক উৎসর্গ করেছেন নিজের দাদাকেই।

আরও পড়ুন: বাংলার প্রথম অ্যাথলিট হিসেবে গেমসে সোনা জিতে রেকর্ড হাওড়ার অচিন্ত্যর

অচিন্ত্য বলেছেন, ‘বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে দাদাই আমার জন্য সব কিছু করেছে। আর তাই এই পুরস্কার আমি আমার দাদা এবং কোচকে উৎসর্গ করতে চাই। দাদা নিজে ওয়েট লিফটিং করত। কিন্তু আমার দিকে তাকিয়ে ও ছেড়ে দেয়।’

এর আগে অচিন্ত্যর দাদা অলোক শিউলি বলেছিলেন, ‘পরিবারের আর্থিক অবস্থা খারাপের জন্য আমরা দুই ভাই পড়াশুনার পাশাপাশি জরির কাজ করতাম। ২০১০ সালে আমি অষ্টম দাসের কাছে ভারোত্তোলন প্রশিক্ষণ নেওয়া শুরু করার পর ২০১১ সাল থেকে ভাইকে সেখানে নিয়ে যাই। ২০১৩ সালে আমরা দুই ভাই একসঙ্গে ন্যাশানাল ভারোত্তলক প্রতিযোগিতায় অংশও নিয়েছিলাম।’

আরও পড়ুন: তৃতীয় দিনে ভারোত্তলনে জোড়া সোনা জিতল ভারত

রবিবার মাঝ রাতের পর থেকে হাওড়ার দেউলপুর গ্রামের অচিন্ত্যকে চেনে গোটা দেশ। তবে কমনওয়েলথে সোনা জিতেও খুশি হতে পারেননি ২০ বছরের তরুণ। তাঁর দাবি, ‘এই লড়াইটা ছিল আমার নিজের সঙ্গে। সোনা জিততে আমি আসিনি। এসেছিলাম নিজের রেকর্ডটা টপকে যেতে। চেষ্টাও করেছিলাম। কিন্তু শেষপর্যন্ত সেটা আর করতে পারলাম না। তাই খানিকটা খারাপই লাগছে।’

বার্মিংহ্যাম কমনওয়েলথ গেমসের মঞ্চে বাংলাকে গর্বে ভরিয়ে ভারোত্তলন ছেলেদের ৭৩ কেজি বিভাগে গেমসে রেকর্ড গড়ে সোনা জেতেন অচিন্ত্য। অচিন্ত্য স্ন্যাচ বিভাগে ১৪৩ কেজি ওজন তুলেছেন। পাশাপাশি ক্লিন অ্যান্ড জার্ক বিভাগে তিনি ১৭০ কেজি ওজন তুলে দেশের হয়ে এক নয়া ইতিহাস রচনা করেন তিনি। মোট ৩১৩ কেজি ওজন তুলে সোনার হাসি হাসেন প্রত্যন্ত দেউলপুরের অচিন্ত্য।

বন্ধ করুন