বাংলা নিউজ > ময়দান > ‘অন্যায় হলে, মোকাবিলা করতে সাহস দরকার’,কোচের সঙ্গে ঝামেলা নিয়ে মুখ খুললেন মিতালি
মিতালি রাজ এবং রমেশ পাওয়ার।

‘অন্যায় হলে, মোকাবিলা করতে সাহস দরকার’,কোচের সঙ্গে ঝামেলা নিয়ে মুখ খুললেন মিতালি

  • ২০১৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিতে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে ভারতের একাদশে অন্তর্ভুক্ত না করার পরেই দুইজনের মধ্যে ঝামেলা লাগে।

ভারতের মহিলা ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক মিতালি রাজ গত সপ্তাহে তাঁর বর্ণাঢ্য কেরিয়ারে ইতি টেনেছেন। ৩৯ বছরের তারকা, যিনি ২০০টিরও বেশি ওডিআই-এ ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন, শ্রীলঙ্কার টি-টোয়েন্টি এবং ওডিআই সফরের জন্য ভারতীয় দল ঘোষণার কয়েক ঘন্টা আগে টুইটারে তাঁর অবসরের সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন।

মিতালি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মহিলাদের মধ্যে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ করেছেন। পাশাপাশি নিজের একটা আলাদা জায়গা তিনি তৈরি করেছেন। তবে এর মাঝেও বিতর্ক থেকেই গিয়েছে। যেমন ২০১৮ সালে ভারতের প্রধান কোচ রমেশ পাওয়ারের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন মিতালি।

২০১৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে ভারতের প্লেয়িং একাদশে অন্তর্ভুক্ত না করার পরেই সেই বিতর্ক জন্ম নিয়েছিল। এর পরে কোচের সঙ্গে মিতালির সম্পর্কের ভাঙন ধরে। এই বিষয়ে সে সময়ে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল বিসিসিআই-কে।

ইন্ডিয়া টুডে-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিতালি এ কথা বলতে গিয়ে জানান, পুরো ঘটনায় তিনি বড় অঘাত পেয়েছিলেন।

মিতালি বলছিলেন, ‘যখন আপনি বিশৃঙ্খলার মধ্যে থাকেন, তখন সোজাসুজি চিন্তাভাবনা করার ক্ষতা লোপ পায়। কারণ তখন পুরো পরিস্থিতি আবেগে পূর্ণ থাকে। তবে সেই সময়ে হৃদয় থেকে না ভেবে মস্তিষ্ক দিয়ে ভাবতে হবে। তবে পরিস্থিতি ঘেটে থাকলে বা সমস্যার মধ্যে থাকলে কখনও-ই স্পষ্ট ভাবে ভাবতে পারবেন না কিছু।’

আরও পড়ুন: ‘মহিলারাই মহিলা ক্রিকেটকে ভালো বোঝে’, এ বার প্রশাসনে আসাটাই আসল টার্গেট মিতালির

আরও পড়ুন: সচিন-মিয়াঁদাদ-জয়সূর্যকে পিছনে ফেললেন মিতালি রাজ

তিনি যোগ করেছেন, ‘কিছু সময় নিন এবং এটি থেকে বেরিয়ে আসুন এবং তার পরে তৃতীয় ব্যক্তির জায়গায় নিজেকে রেখে বিষয়টি ভাবুন। তা হলে বিষয়টি অনেক ভালো বুঝবেন। এবং কোনও ঠিক বা ভুল, সেটাও পরিষ্কার হয়ে যাবে। কখনও কখনও এটি চুপচাপ থাকাই সঠিক সিদ্ধান্ত হয়। আবার আপনার সঙ্গে অনুচিত কোনও কাজ করা হলে, সেটার মোকাবিলা করার জন্য সাহসও দরকার হয়। সবাই গল্পের শুধুমাত্র একটি দিক জানে। আমার একটাই উদ্দেশ্য ছিল - সেরা সর্বোত্তম ক্রিকেট খেলা। এবং এটাই আমি করতে পারি। যদি প্রতি বার আমি মাঠে নামি এবং আমি আমার সেরাটা দিতে চাই, সেই জায়গাটা আমাকে অর্জন করতে হয়, এটা শুধু আমার দক্ষতার বিষয় নয়, এটা আমার মানসিক অবস্থারও বিষয়।’

মিতালি রাজ এখানেই থামেননি। তিনি আরও বলেছেন, ‘আর ভালো পারফরম্যানস করতে এবং আমার সেরাটা দেওয়ার জন্য আমাকে আমার মনকেও চনমনে রাখতে হয়েছিল। তাই, সেই ভালো মানসিক জায়গায় থাকার জন্য আমাকে আঘাত, রাগ, হতাশা, বিরক্তির সেই মুহুর্ত কাটিয়ে উঠতে হয়েছিল। কারণ আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে, আমার উদ্দেশ্যটি সেই ঘটনায় জড়িয়ে থাকা নয়। আর খেলা আমাকে এটাই শিখিয়েছে। ক্রিকেটে আপনি যখন সেঞ্চুরি করেন, তার পরের দিন আপনি আবার প্রথম থেকে শুরু করতে হয়। আপনি সেই শতরান থেকে শুরু করবেন না। স্পষ্টতই সেই বিষয়টি (মিতলিকে দল থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে রমেশ পাওয়ারের সঙ্গে ঝামেলা) আমাকে কিছুটা আঘাত করেছিল। কিন্তু আমি কাটিয়ে উঠেছিলাম এবং সেই কারণেই আমি গত দেড় বছরে যা পারফরম্যান্স করেছি, সেটা করতে সক্ষম হয়েছি।’

বন্ধ করুন