বাংলা নিউজ > ময়দান > শুরু টানাপোড়েন! মরশুমের শেষে বিচ্ছেদ হতে পারে শ্রী সিমেন্ট ও ইস্টবেঙ্গলের

শুরু টানাপোড়েন! মরশুমের শেষে বিচ্ছেদ হতে পারে শ্রী সিমেন্ট ও ইস্টবেঙ্গলের

শুরু টানাপোড়েন! মরশুমের শেষে বিচ্ছেদ হতে পারে শ্রী সিমেন্ট ও ইস্টবেঙ্গলের (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্যে পিটিআই)

আবারও কি মুখ্যমন্ত্রীকে হস্তক্ষেপ করতে হবে?

শুভব্রত মুখার্জি

দীর্ঘ ‘নাটকের’ পরে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপে কেটেছিল ইস্টবেঙ্গল ক্লাব এবং শ্রী সিমেন্টের মনোমালিন্য। তারপরেই আইএসএলে নিজেদের দ্বিতীয় মরশুমে খেলতে নেমেছিল ইস্টবেঙ্গল দল। যদিও একেবারে শেষ মুহূর্তে কোনওরকমে জোড়াতালি দিয়ে কার্যত দল নামানোর ফলে স্বাভাবিকভাবেই তাদের পারফরম্যান্স অত্যন্ত খারাপ। 

পয়েন্ট তালিকায় একবারে তলার দিকে রয়েছে লাল-হলুদ বাহিনী। চলতি মরশুম প্রায় শেষলগ্নে। এমন আবহে আরও খারাপ খবর অপেক্ষা করছে লাল-হলুদ সমর্থকদের জন্য। সূত্রের খবর, মরশুম শেষেই ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে বিচ্ছেদের পথে হাঁটতে চলেছে শ্রী সিমেন্ট কর্তৃপক্ষ।

পরিস্থিতি যে দিকে এগোচ্ছে, তাতে করে নতুন মরশুমে নতুন বিনিয়োগকারীর সন্ধান করতে হতে পারে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব কর্তৃপক্ষকে। দুই বছর ক্লাবের বিনিয়োগকারী হিসেবে ছিল এই সংস্থা। ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর থেকেই বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ক্লাবের অম্লমধুর সম্পর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। গত বছরই ক্লাব থেকে সরে যেতে চেয়েছিল শ্রী সিমেন্ট। শেষ মুহূর্তে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপে সমস্যা আপাতভাবে মিটে যায়। গতবারের মতো শেষ মুহূর্তের কোনও নাটকীয়তা চায় না শ্রী সিমেন্ট কর্তৃপক্ষ। তাই তারা আগেভাগেই সম্পর্ক ছিন্ন করার প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে সূত্রের খবর।

সূত্রের খবর, ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের কর্তাদের অসহযোগিতাকে দায়ী করছেন শ্রী সিমেন্ট। চলতি মরশুমের দল তৈরির ক্ষেত্রে ক্লাবের তরফে শ্রী সিমেন্টকে কোনও সহযোগিতা করা হয়নি। যার প্রভাব পড়েছে আইএসএলে ইস্টবেঙ্গলের পারফরম্যান্সে। এখনও পর্যন্ত ১৭টি ম্যাচ খেলে মাত্র একটিতে জিতেছে এসসি ইস্টবেঙ্গল। ন’টি ম্যাচে তারা হারের মুখ দেখেছে। শ্রী সিমেন্ট কর্তৃপক্ষ গত দুই বছরে ক্লাবের ফুটবল দলের হয়ে ১০০ কোটি টাকার উপর বিনিয়োগ করেছে। প্রথম বছরে তারা ৫৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিল। দল তৈরি করতে লেগেছে প্রায় সাড়ে ১৬ কোটি টাকা। কোচিং স্টাফদের পিছনে খরচ করা হয়েছে প্রায় চার কোটি টাকা। এর পাশাপাশি একাধিক আনুষাঙ্গিক খরচ তো রয়েছে। শ্রী সিমেন্ট এই টাকা বিনিয়োগ করে ঘরে তুলতে পেরেছে মাত্র ১৪ - ১৫ কোটি টাকা। যার মধ্যে রয়েছে স্পনসরশিপ বাবদ ৪০-৫০ লক্ষ টাকা। ফলে আর্থিক দিক থেকে ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিনিয়োগকারীরা। ফলে সবমিলিয়ে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সঙ্গে আর সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যেতে রাজি নন শ্রী সিমেন্ট কর্তারা।

বন্ধ করুন