বাংলা নিউজ > ময়দান > ইস্টবেঙ্গলে নীতু সরকারের পদত্যাগ চেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়
ইস্টবেঙ্গলের শীর্ষকর্তা নীতু সরকার (ছবি: গুগল)
ইস্টবেঙ্গলের শীর্ষকর্তা নীতু সরকার (ছবি: গুগল)

ইস্টবেঙ্গলে নীতু সরকারের পদত্যাগ চেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়

কর্তা ও ইনভেস্টারের লড়াইয়ে যুক্ত হল ইস্টবেঙ্গলের রিয়াল পাওয়ার, নীতু সরকারের পদত্যাগ চেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়

ইস্টবেঙ্গল কর্তা ও ইনভেস্টারের লড়াইয়ে এবার নতুন মোড়। এই লড়াইয়ে যুক্ত হল লাল হলুদের রিয়াল পাওয়ার। শ্রী সিমেন্ট ও ইস্টবেঙ্গেলের সাবেকি কর্তাদের লড়াইয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে ঝড় তুলল ইস্টবেঙ্গলের সব থেকে বড় সমর্থক সংগঠন ইবিআরপি। প্রায় দেড় লক্ষ সমর্থক রয়েছে এই গ্রুপে। তারা এবার সোশ্যাল মিডিয়াতে ইস্টবেঙ্গলের শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার (নীতু সরকার)-এর পদত্যাগের দাবি তুলল। সোশ্যাল মিডিয়াতে হ্যাসট্যাগ নীতু আউটের ঝড় তুলেছে তারা।

কিন্তু কেন এমন পদক্ষেপ নিয়েছে ইবিআরপি। সেই প্রসঙ্গে হিন্দুস্তান টাইমসের সঙ্গে তাদের সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য রবিশঙ্কর সেন কথা বললেন। 

ইস্টবেঙ্গল রিয়াল পাওয়ারের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য রবিশঙ্কর সেন জানান, ‘২০১৭ সালে ক্লাবে যখন কিংফিসারের মতো সংস্থা ছিল তখন আমরা তাদের কাছে দাবি রেখেছিলাম যে আপনারা যেই পরিমান অর্থ ক্লাবকে দিচ্ছেন সেটা ঠিকঠাক ভাবে বুঝে নিন, কোথায় কী খরচ হচ্ছে সেটা দেখে নিন। তখন থেকেই আমাদের এটাই দাবি ছিল।’ 

রবিশঙ্কর আরও জানান ‘ফুটবলে কর্পোরেট আসা দরকার। বড় ফুটবল ক্লাব যদি তোমাকে চালাতে হয় তাহলে কর্পোরেটের হাতেই তোমাকে সেটা তুলে দিতে হবে। কর্পোরেট যে টাকাটা ইনভেস্ট করতে পারে সেটাতে টুর্নামেন্ট খেলতে পারা যায়, আমাদের দাবি ক্লাব কর্তারাও যদি সেই টাকাটা আনেন সেটা আনুক কিন্তু সেটা যেন কর্পোরেট হয়।’

ক্লাবের শীর্ষকর্তা নীতু সরকারের পদত্যাগ প্রসঙ্গে রবিশঙ্কর সেন জানান, ‘ক্লাবের কর্মসমিতি মানে নীতুদা, অনার ইচ্ছাতেই কোয়েস ও শ্রী সিমেন্ট এসেছে, সেটাকে আমরা তখন সাধুবাদ জানিয়েছিলাম, কিন্তু এখন কর্মসমিতি সই করছেনা কারণ নীতুদা চাইছেননা। নীতু দা নয়, শ্রী সিমেন্টের সঙ্গে ক্লাবের টার্মশিটে সই করে ছিলেন ক্লাবের অন্য দুজন কর্তা, এখন যখন ফাইনাল এগ্রিমেন্ট সই করার কথা তখন নীতুদা সই করতে চাইছেননা। বলছেন আমি সই করবনা, মানে বিষয়টা এগোচ্ছেনা নীতুদার জন্যই। উনি থাকুননা, উনি থাকলেও আমাদের কোনও সমস্যা নেই, শুধু উনি সইটা করে দিন।’

শ্রী সিমেন্টের পক্ষে যুক্তি দিয়ে রবিশঙ্কর জানিয়েছেন, ‘কর্পোরেটের একটা পলিশি থাকে, তারা তার বাইরে গিয়ে কোনও কাজ করতে পারবেনা, তারা তো সেই ভাবেই কাজ করবে, সেটা তো মানতেই হবে। তারাই টিম করবে, তারাই কন্ট্রোল করবে, এটাই তো স্বাভাবিক, আমরা সেটাই বলেছিলাম।’

নীতুদা কী তাহলে ভুল করছেন, এই প্রশ্নে উত্তরে রবিশঙ্কর সেন জানান, ‘তর্কের খাতিরে মেনে নিলাম নীতুদা ঠিক,তাহলে যেটা ভুল সেটা উনি বলুন। তিনি শুধু টার্মশিটের পাতার কথা বলছেন। যদি কোনও ভুল থাকে সেটা উনি বলুন না। আমাদের দরকার নেই, প্রেসকে ডেকেই বলুননা। উনি সেটা করছেননা। তাহলে আমরা কী ধরব।’

ক্লাবের শীর্ষকর্তা নীতু সরকারের উদ্দেশ্যে রবিশঙ্কর সেন জানান, ‘ওনাকে বুঝতে হবে উনি আমাদের রিপ্রেসেনটেটিভ। কী সমস্যা হবে সেটা উনি বলুন না। আমাদের না বললেও প্রেসকে বলুননা। লকডাউন তাই সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়া আমরা করতেই বা কী পারি। আমরা বলতে পারি সই করুন। এটা ওনাকেই বুঝতে হবে।’ 

তবে যা বোঝা যাচ্ছে তাতে মনে হয় এটা হল লড়াইয়ের শুরু। হাতে সময় কম, পরের মরসুমের জন্য দল গঠন করতে গেলে এখন থেকেই মাঠে নামতে হবে কর্তাদের। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে আবারও দলগঠনে দেরি হবে। যার প্রভাব পড়বে মাঠে। লাল হলুদ সমর্থকদের একটাই দাবি সব সমস্যা যেন খুব তাড়াতাড়ি মিটে যায়।   

বন্ধ করুন