বাংলা নিউজ > ময়দান > ছোটবেলাতেই পাচার হওয়া কাহিনই অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন মো ফারাহ
মো ফারাহ। ছবি: টুইটার

ছোটবেলাতেই পাচার হওয়া কাহিনই অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন মো ফারাহ

  • পাচার হওয়ার পথে গৃহস্থালীতে ভৃত্যের কাজ, নিয়োগদাতার পরিবারের শিশুর দেখভাল করার কাজও তাকে করতে হয়েছে। মো ফারাহ বলেন 'বছরের পর বছর ধরে আমি এগুলো আড়াল করে রেখেছিলাম। কিন্তু এটা চিরদিন আড়াল করে রাখা যায় না।

শুভব্রত মুখার্জি: বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সের সমর্থক হয়েও ব্রিটিশ অ্যাথলিট মো ফারাহকে চেনেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ পেয়েছেন নাইটহুড। তার নামের আগে যোগ হয়েছে ‘স্যার’ উপাধি। কিন্তু মো ফারাহ নামটিই নাকি তার আসল নাম নয়! এতদিন ধরে চেপে থাকা সত্যকে এবার সামনে আনলেন মো ফারাহ নিজেই। অজানা কাহিনি সামনে এনে তিনি জানালেন মাত্র ৯ বছর বয়সেই পাচার চক্রের শিকার হয়েছিলেন তিনি। তাকে পাচার করে দেওয়া হয়েছিল। তার আসল নাম হুসেইন আবদি কাহিন!

প্রসঙ্গত অলিম্পিক্সে চারটি ও বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে ৬টি সোনা জিতে দূরপাল্লার দৌড়ের ইতিহাসে নজির সৃষ্টি করেছেন মো ফারাহ। তাকে নিয়ে তথ্যচিত্র প্রকাশ করেছে বিবিসি। সেখানেই উঠে এসেছে কিংবদন্তির জীবনের এক 'অন্ধকারময় অতীত'। এতদিন সকলেই জানত বাবা-মায়ের সঙ্গে সোমালিয়া থেকে পালিয়ে ইংল্যান্ডে এসেছিলেন মো ফারাহ। কিন্তু আসল সত্যিটা হল পালিয়ে নয় শিশু পাচারের শিকার হয়ে ইংল্যান্ডে এসেছিলেন তিনি। আর ওই সময় তার নাম বদলে হুসেইন আবদি কাহিন থেকে করা হয় মো ফারাহ।

উল্লেখ্য ‘দ্য রিয়েল মো ফারাহ’ নামক তথ্যচিত্রে অকপটে এইসব কথাই জানিয়েছেন তিনি। পাচার হওয়ার পথে গৃহস্থালীতে ভৃত্যের কাজ, নিয়োগদাতার পরিবারের শিশুর দেখভাল করার কাজও তাকে করতে হয়েছে। মো ফারাহ বলেন 'বছরের পর বছর ধরে আমি এগুলো আড়াল করে রেখেছিলাম। কিন্তু এটা চিরদিন আড়াল করে রাখা যায় না।

৩৯ বছর বয়সি এই অ্যাথলিটের বাড়ি ছিল সোমালিয়া থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া সোমালিল্যান্ডে। যদিও দেশটি এখনও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়নি। তার যখন ৪ বছর বয়স তখন সোমালিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তার বাবা আবদি। মো ফারাহর বয়স যখন আট কিংবা নয়। তখন তিনি পরিবারের সঙ্গে আসেন জিবুতিতে। সেখান থেকেই পাচারের শিকার হন। যে মহিলা তাকে পাচার করেছিলেন, তিনিই নাম বদলে দিয়েছিলেন। ওই মহিলার সঙ্গে পরে আর কখনও দেখা হয়নি বলেও জানিয়েছেন এই ৩৯ বছর বয়সি এই অ্যাথলিট।

প্রসঙ্গত মহম্মদ ফারাহ নামে বাস্তবে আরেকজন ছিলেন। কিন্তু তাকে পাচার করা হয়নি। তার বদলে কাহিনকে পাচার করেছিলেন ওই মহিলা। ভুয়ো কাগজপত্র তৈরি করেছিলেন ওই মহিলা। ইংল্যান্ডে পৌঁছনোর পর ওই মহিলা সব কাগজপত্র এবং আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য ছিঁড়ে ফেলেছিলেন। তখনই কাহিনের উপলব্ধি হয়েছিল বিপদে পড়তে চলেছেন তিনি। ১২ বছর বয়সে মো ফারাহ একদিন ভর্তিও হন ফেল্টহ্যাম কমিউনিটি কলেজে। সেখানেই শরীরশিক্ষার শিক্ষক অ্যালান ওয়াটকিনসনের নজরে পড়েন। তার হাত ধরেই নতুন পথচলা শুরু হয় মো ফারাহর।

বন্ধ করুন