বাংলা নিউজ > ময়দান > কোচ বাউচারের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি, তাই টেস্ট থেকে অবসর-বিস্ফোরক দাবি ডু'প্লেসির

কোচ বাউচারের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি, তাই টেস্ট থেকে অবসর-বিস্ফোরক দাবি ডু'প্লেসির

ফ্যাফ ডু'প্লেসি।

ডু'প্লেসির বিস্ফোরক দাবি, তৎকালীন হেড কোচ মার্ক বাউচার নাকি তাঁর অবসরের সিদ্ধান্তের জন্য দায়ি! মার্ক বাউচারের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির কারণেই নাকি তিনি অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এমনটাই তিনি খোলসা করেছেন তাঁর নতুন বইতে।

শুভব্রত মুখার্জি: সাম্প্রতিক অতীতে দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম সেরা ব্যাটার ফ্যাফ ডু'প্লেসি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন ফর্ম্যাটেই ব্যাট হাতে যথেষ্ট মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন তিনি। আইপিএলেও চেন্নাই সুপার কিংস দলের হয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস উপহার দিয়েছেন ফ্যাফ। সেই তিনিই হঠাৎ করেই একদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের টেস্টের আঙিনাকে বিদায় জানিয়েছিলেন। এত দিন পর সেই ঘটনার নেপথ্য কারণকেই সামনে আনলেন ফ্যাফ।

ডু'প্লেসির বিস্ফোরক দাবি, তৎকালীন হেড কোচ মার্ক বাউচার নাকি তাঁর এই সিদ্ধান্তের জন্য দায়ি! মার্ক বাউচারের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির কারণেই নাকি তিনি অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এমনটাই তিনি খোলসা করেছেন তাঁর নতুন বইতে।

আরও পড়ুন: মুহূর্তটা উপভোগ করতে চেয়েছিলাম- দুই পাক ওপেনারকে আউট করে আবেগে ভাসছেন আর্শদীপ

নিজের আত্মজীবনী ‘ফ্যাফ থ্রু ফায়ার’-এ এমনটাই লিখেছেন ফ্যাফ। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে টেস্ট ম্যাচ ক্রিকেটকে আলবিদা জানিয়েছিলেন ফ্যাফ ডু'প্লেসি। তিনি তাঁর বইতে লিখেছেন, তিনি যখন টি-২০ ক্রিকেটে ফিরে আসার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন, সেই সময়টায় একেবারে নিশ্চুপ ছিলেন কোচ মার্ক বাউচার, তৎকালীন ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান গ্রেম স্মিথ এবং নির্বাচক প্রধান ভিক্টর পিটসাঙ্গ। বিভিন্ন ইস্যুতে নিজের বইতে মুখ খুলেছেন ফ্যাফ ডু'প্লেসি।

‘দ্য ঘোস্টস অফ ইনসিকিউরিটি’ নামক অধ্যায়ে ফ্যাফ জাতীয় দলে নিজের ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়টা তুলে ধরেছেন। ২০১৯ সালে দলের কোচ হিসেবে বাউচারের প্রথম সিরিজ ছিল ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে। সেই সিরিজেই সংবাদ মাধ্যমের চুলচেরা বিশ্লেষণের মুখে পড়তে হয়েছিল ফ্যাফকে। তখন একজন কোচ হিসেবে ক্রিকেটারের পাশে যে ভাবে থাকার কথা ছিল বাউচারের, তিনি নাকি সেটা করেননি।

আরও পড়ুন: বাবরের ক্যাপ্টেন্সি নিয়ে কেন প্রশ্ন করা যাবে না, কবে শিখবে ও- কটাক্ষ পাক প্রাক্তনীর

এর পর ফ্যাফ আরও দাবি করেছেন, তিনি বাউচারকে জানিয়েছিলেন, তিনি তিন ফর্ম্যাটেই খেলতে চান। সেই সময়ে তিনি কিছুটা সময়ের জন্য ওয়ানডে থেকে বিশ্রাম নিতে চেয়েছিলেন। কারণ তখনও ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের তিন বছর দেরি ছিল। ফলে তিনি ওয়ানডের অধিনায়কত্বও ছাড়তে চান। সেই সময় বাউচার তাঁকে টি-২০'র অধিনায়কত্বও ছেড়ে দিতে বলেন। ফ্যাফ ভেবেছিলেন, সেই সময়ে তাঁকে বাউচার এটা প্রস্তাব হিসেবে দিচ্ছেন। এর আলাদা সেরকম গুরুত্ব নেই।

এর পরেই ফ্যাফ ডু'প্লেসি অনুভব করেন ড্রেসিংরুমে তাঁর সাথে সম্পর্কের শীতলতা বাড়ছে বাউচারের। পরবর্তীতে তাঁকে এটা উপলব্ধি করানো হয় যে, বাউচার টি-২০ এবং ওয়ানডে ফর্ম্যাটে কুইন্টন ডি'কককে অধিনায়ক হিসেবে চান। এই ঘটনার পরেই ফ্যাফ নিজে থেকেই টেস্ট অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়ার তাগিদ অনুভব করেন।

পরবর্তীতে পাকিস্তান সফরে করাচিতে খেলার পরেই ফ্যাফ অনুভব করেন, দেশের হয়ে টেস্ট খেলার যে ইচ্ছা, তাগিদ, ভালোবাসা তিনি অনুভব করতেন, এখন আর সেটা করছেন না। পাকিস্তান সফর থেকে ফেরার পরেই তিনি তৎকালীন বোর্ড প্রধান গ্রেম স্মিথকে জানিয়ে দেন, টেস্ট থেকে তাঁর সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা।

বন্ধ করুন