বাংলা নিউজ > ময়দান > মানসিক অবসাদের শিকার হয়েছিলেন বিরাট কোহলিও, স্বীকার করলেন নিজেই
বিরাট কোহলি। (ফাইল ছবি, সৌজন্য রয়টার্স)
বিরাট কোহলি। (ফাইল ছবি, সৌজন্য রয়টার্স)

মানসিক অবসাদের শিকার হয়েছিলেন বিরাট কোহলিও, স্বীকার করলেন নিজেই

  • মার্ক নিকোলাসের ‘নট জাস্ট ক্রিকেট’ পডকাস্ট-এ নিজের সম্পর্কে অজানা তথ্য তুলে ধরেছেন ভারত অধিনায়ক।

শুভব্রত মুখার্জি

মানসিক অবসাদ এমন একটি জিনিস, যাতে সাধারন মানুষ থেকে সেলিব্রিটি সকলেই আক্রান্ত হন মাঝে মধ্যে। দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততায় একে অপরের প্রতি সময়ের অভাব এর অন্যতম কারন। সাম্প্রতিক অতীতে তারকাদের মানসিক অবসাদের শিকার হওয়া নতুন কোনও ঘটনা নয়। অনেকে বুঝতে পারেন অবসাদে আক্রান্ত হওয়ার কথা। আবার অনেকে তা বুঝতেই পারেন না। সেই অবসাদকে সঙ্গী করেই কাজ চালিয়ে যান। অনেকে আবার চরমতম পথও বেছে নেন। সেই স্মৃতি উস্কে দিয়েই এবার ভারতীয় জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক কোহলি জানালেন, তিনিও অবসাদের শিকার হয়েছিলেন।

সাফল্যের চূড়া থেকে হঠাৎ করে ব্যর্থতার অন্ধগলির দর্শন পেলে ব্যাপারটা যেমন হয়, এক্ষেত্রেও ঠিক তাই হয়েছিল‌। ২০১৪ সালের ইংল্যান্ড সফরে ব্যাট হাতে পরপর ব্যর্থ হচ্ছিলেন বিরাট। কোনও কিছুই যেন ঠিক করে হচ্ছিল না। সেই সময়েই নিজেকে কোহলি মনে করতেন বিশ্বের সবথেকে একাকীত্বে ভোগা ব্যক্তি! এমন বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি স্বয়ং তারকার।

ইংল্যান্ডের প্রখ্যাত ধারাভাষ্যকার মার্ক নিকোলাসের ‘নট জাস্ট ক্রিকেট’ পডকাস্ট-এ নিজের সম্পর্কে এমন অজানা তথ্য তুলে ধরেছেন বিরাট। মানসিক অবসাদের শিকার কখনও হয়েছিলেন কিনা এমন প্রশ্ন আসতেই কোহলি জানালেন, 'হ্যা, সেসময় নিজেকে পৃথিবীর সবথেকে একা ব্যক্তি বলে মনে হতো। ঘুম থেকে ওঠার পর মনে হতো রান করতে পারব না। যা একেবারেই ভালো অনুভূতি নয়। সমস্ত ব্যাটসম্যানই কখনও না কখনও এমন অবস্থার মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন। যখন তাঁদের নিয়ন্ত্রণে আর কিছু থাকে না। অত্যন্ত কষ্টকর সময়টা।'

প্রসঙ্গত ২০১৪ সালে কোহলি অত্যন্ত খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে গেছেন। ইংল্যান্ড সফরে তাঁর ব্যাটে একেবারে রানের খরা চলছিল। ওই সফরে পাঁচ টেস্টে কোহলির স্কোর ছিল যথাক্রমে ১, ৮, ২৫, ০, ৩৯, ২৮, ০, ৭, ৬ এবং ২০। ১০ ইনিংসে তার রানের গড় ছিল মাত্র ১৩.৫০। পরের অস্ট্রেলিয়া সফরেই অবশ্য রানে ফেরেন বিরাট। তাঁর ব্যাটে রানের খরা কেটে আসে রানের সুনামি। অজিদের বিরুদ্ধে গোটা টেস্ট সিরিজে ৬৯২ রান করেন তিনি।

কোহলি জানান, 'এই বিষয় থেকে কীভাবে মুক্তি মিলবে তা বুঝতে পারা যায় না। এমন অবস্থায় পড়েছিলাম, যখন আমি কোনো কিছুই করতে পারছিলাম না। মনে হতো, আমি পৃথিবীর সবথেকে একা ব্যক্তি। সেই সময় আমার প্রয়োজন ছিল পেশাদারি সহায়তার।'

কোহলি আরও সংযোজন করেন, 'এমন একজনের প্রয়োজন ছিল যে আমাকে তার সময়টা উজাড় করে দেবে। যাঁর কাছে যে কোনও সময় নির্দ্বিধায় বলা যাবে- আমি কি অনুভব করছি। ঘুমোনো কঠিন হয়ে যায়। সকালে ঘুম থেকে উঠতে ইচ্ছে করত না।'

বন্ধ করুন