বাংলা নিউজ > ময়দান > ফুটবল > দু'টি ইস্যুতে আটকে চুক্তি জট, সমস্যা মেটাতে কোর কমিটি গঠন করল ইস্টবেঙ্গল
ইস্টবেঙ্গল ক্লাব।
ইস্টবেঙ্গল ক্লাব।

দু'টি ইস্যুতে আটকে চুক্তি জট, সমস্যা মেটাতে কোর কমিটি গঠন করল ইস্টবেঙ্গল

  • শুক্রবার ইস্টবেঙ্গল ক্লাব তাঁবুতে মোট ৪২ জন প্রাক্তন ফুটবলারকে নিয়ে বৈঠকে বসেছিল ক্লাবের কার্যকরী কমিটি। সেখানে এই চুক্তি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। আপাতত ১১ জন ফুটবলারের নাম ক্লাবের প্রেসিডেন্ট প্রণব দাশগুপ্তের কাছে পাঠানো হয়েছে।

ইস্টবেঙ্গলের চুক্তি নিয়ে টালবাহানা সেই চলছে তো চলছেই। এ বার এই চুক্তি জট মেটাতে ইস্টবেঙ্গল কর্তারা প্রাক্তন ফুটবলারদের নিয়ে একটি কোর কমিটি গঠন করে ফেলল। জানা গিয়েছে, ১১জন প্রাক্তন ফুটবলারকে নিয়েই এই কোর কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার ইস্টবেঙ্গল ক্লাব তাঁবুতে মোট ৪২ জন প্রাক্তন ফুটবলারকে নিয়ে বৈঠকে বসেছিল ক্লাবের কার্যকরী কমিটি। সেখানে এই চুক্তি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। আলোচনার মূল বিষয়ই ছিল, কী ভাবে এই চুক্তি জট কাটানো যায়, তার সমাধান বের করা। আপাতত ১১ জন ফুটবলারের নাম ক্লাবের প্রেসিডেন্ট প্রণব দাশগুপ্তের কাছে পাঠানো হয়েছে। আর এই ১১জন প্রাক্তন ফুটবলারের মধ্যে রয়েছেন মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য, ভাস্কর গঙ্গোপাধ্যায়,প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়, মিহির বসু, মেহেতাব হোসেন, রহিম নবি, অলোক মুখোপাধ্যায়, কৃষ্ণেন্দু রায়, বিকাশ পাঁজি, অতনু ভট্টাচার্য এবং সুমিত মুখোপাধ্যায়।

জানা গিয়েছে, বিনিয়োগকারী সংস্থা শ্রী সিমেন্ট এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলবে এই কোর কমিটি। মোদ্দা কথা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এই কোর কমিটি কাজ করবে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইস্টবেঙ্গলের বিষয় নিয়ে ওয়াকিবহল। তিনি লাল-হলুদ কর্তাদের 'ছেড়ে খেলা'র পরামর্শও দিয়েছেন। আর তার পরেই প্রণব দাশগুপ্ত এই সমস্যা সমাধানের জন্য আলোচনা করতে চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে তাঁর সময়ও চেয়েছেন।

এ দিকে শুক্রবারের আলোচনার পর কোর কমিটির কিছু সদস্যের বক্তব্য থেকে যে সারমর্ম  বেরিয়ে এসেছে, তাতে দেখা গিয়েছে, দু'টি ইস্যু নিয়েই জটিলতা রয়েছে। 

এক)  ক্লাব কর্তারা বিনিয়োগকারীদের হাতে সবটা তুলে দিতে রাজি। সে ক্ষেত্রে সমস্যা, ক্লাব হস্তান্তরের জন্য নো অবজেকশন সার্টিফিকেট দেওয়ার কোনও অধিকার নেই ইস্টবেঙ্গল কর্তাদের। কারণ এই তাঁবুটি সেনাবাহিনীর অধীনে রয়েছে। এর সঙ্গেই আরও একটি বিষয় হল, সোসাইটি অ্যাক্টকে অস্বীকার করতে পারে না ক্লাব। পাশাপাশি এই তাঁবুর সঙ্গে ১০২ বছরের ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে। সেই জায়গাটিও ভেবে দেখতে বলা হচ্ছে শ্রী সিমেন্টকে। এর বাইরে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের অন্য যা কিছু রয়েছে, সেগুলি তুলে দিতে আপত্তি জানাচ্ছেন না ক্লাব কর্তারা।

দুই) চুক্তি ভঙ্গের ক্ষেত্রে দুই পক্ষেরই সম্মতি থাকার দাবি তোলা হয়েছে। পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই যেন চুক্তি ভাঙার বিষয়ে দুই পক্ষেরই অধিকার থাকে। ইস্টবেঙ্গল কর্তাদের দাবি, এটি একটি ক্লাব, কোনও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নয়।

এই দু'টি সমস্যা মিটে গেলেই চুক্তি জটিলতা কেটে যাবে বলে দাবি কোর কমিটির কিছু সদস্যের। দেখার শেষ পর্যন্ত কী হয়!

বন্ধ করুন