বাংলা নিউজ > ময়দান > ফুটবল > EURO 2020: আত্মবিশ্বাসী ডেনমার্কের বাধা টপকাতে কালঘাম ছুটতে পারে বেলের ওয়েলসের
অনুশীলনে আত্মবিশ্বাসী ডেনমার্ক (ছবি:রয়টার্স) (Pool via REUTERS)

EURO 2020: আত্মবিশ্বাসী ডেনমার্কের বাধা টপকাতে কালঘাম ছুটতে পারে বেলের ওয়েলসের

  • 'উই আর রেড, উই আর হোয়াইট, উই আর ড্যানিশ ডিনামাইট' স্লোগানে মুখরিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েই গিয়েছে।

শুভব্রত মুখার্জি:  আজ থেকে শুরু হতে চলেছে ইউরো কাপ ২০২০'র নক আউট পর্যায়ের খেলা। প্রথম ম্যাচেই মুখোমুখি হবে ডেনমার্ক ও ওয়েলস। নিজেদের শেষ ম্যাচে রাশিয়াকে ৪-১ গোলে চূর্ণ করে অবিশ্বাস্যভাবে নক আউট পর্যায়ের টিকিট নিশ্চিত করা ড্যানিশ দলের বিরুদ্ধে ওয়েলসের লড়াইটা যে একেবারে সহজ হবে না তা বলাই যায়। বরঞ্চ এই ম্যাচে জিততে বেল, রামসিদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হবে একথা বুঝতে আলাদা করে কোন বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন নেই। দুটো ঘটনা ড্যানিশ টিমকে কার্যত একসূত্রে বেধে আত্মবিশ্বাসের চূড়ায় নিয়ে গেছে। ফিনল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ চলাকালীন এরিকসেনের মাটিতে লুটিয়ে পড়া। ১০-১৫ মিনিট মাঠেই আপ্রাণ চেষ্টা করে তাকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনার ঘটনা দলটাকে একসূত্রে বেধে ফেলেছিল। ফিনল্যান্ড, বেলজিয়ামের কাছে পরপর দু'ম্যাচ হেরে যখন টুর্নামেন্ট থেকে কার্যত ছিটকে যাওয়ার অবস্থা তাদের। তখন নিজেদের শেষ ম্যাচে রাশিয়ার বিরুদ্ধে অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলেন ড্যানিশরা। ৪-১ গোলের বিরাট জয়ে তারা পরের রাউন্ডে যাওয়া নিশ্চিত করে।

তাদের শেষ ম্যাচের জয় ১৯৯২ চ্যাম্পিয়ানদের আলাদা করে অক্সিজেনের যোগান যে দেবে তা বলাই বাহুল্য। প্রসঙ্গত ১৯৯২ সালে তারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সেবার তারা মূলপর্বের জন্য প্রথম ক্ষেত্রে কোয়ালিফাই পর্যন্ত করতে পারেনি। সেখান থেকে যেভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়ে তারা রুপকথার ইতিহাস লিখেছিল। এবার এরিকসেনের ঘটনার পরেও 'ড্যানিশ ডিনামাইটরা' সেই এক ইতিহাস লিখলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। ডেনমার্কের গোলে একেবারে 'চীনের প্রাচীর' হয়ে দুর্গ আগলাচ্ছেন লেস্টার সাটির গোলরক্ষক তথা কিংবদন্তি পিটার স্কিমাইচেলের পুত্র ক্যাসপার স্কিমাইচেল। তার সামনে ডিফেন্সের গুরুদায়িত্ব সামলানোর জন্য রয়েছেন অধিনায়ক সাইমন কিয়ের। মিডফিল্ডকে সবসময় ভরসা দিচ্ছেন ওয়াস ও ডেলেনি। আর আক্রমনভাগে এরিকসেনের অনুপস্থিতিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইউসুফ পুলসেন। যাদেরকে সামলানো ওয়েলসের পক্ষে যে একেবারেই সহজ কাজ হবে না তা বলাই যায়।

অপরদিকে ওয়েলসের গ্রুপ পর্যায়ের পারফরম্যান্স ও তেমন বলার মতন নয়। সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ড্র এবং দুর্বল তুরস্কের বিরুদ্ধে তারা জয় পেলেও তারা সেভাবে দৃষ্টিনন্দন ফুটবল খেলতে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের মার্কি ফুটবলার গ্যারেথ বেলের বয়সের কারণে স্পিড অনেকটাই কমেছে। ফলে মাঝমাঠ চিড়ে যে তাদের হঠাৎ হঠাৎ দৌড়গুলো আমরা রিয়াল মাদ্রিদ দলের হয়ে একসময় দেখতে অভ্যস্ত ছিলাম তা এই ইউরোতে একেবারে উধাও। গোলে ওয়ার্ড ভাল না খেললে হয়তো নক আউটের টিকিটও তারা পেতেন না। ডিফেন্সে আজ পুলসেনের বিরুদ্ধে ডেভিস,রবার্টস,মেমফেমদের সদা সতর্ক থাকতে হবে। মিডফিল্ডে বেল, রামসিকে যথাযথ সহায়তা করে তাদের ওয়ার্কলোড কমাতে হবে মোরেল,জেমসদের। সর্বোপরি  আপফ্রন্টে থাকা মুরকে বলের যোগান দিয়ে গোলের সুযোগ তৈরি করতে হবে শুধু তাই নয়, পাওয়া সুযোগ গুলোকে কাজে লাগাতে হবে। আর তা না হলে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর ড্যানিশদের বিরুদ্ধে জয় কার্যত দুরুহ ব্যপার বেলের ওয়েলসের। আর সেটা হলে গ্যালারি জুড়ে ফের একবার 'উই আর রেড, উই আর হোয়াইট, উই আর ড্যানিশ ডিনামাইট' স্লোগানে মুখরিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েই গিয়েছে।

বন্ধ করুন