বাংলা নিউজ > ময়দান > ফুটবল > Euro 2020: ১২১ মিনিটের গোলে গ্লাসগোয় ধামাকা, ১৭ বছর পর কোয়ার্টারে উঠল ইউক্রেন
গোলের পর উচ্ছ্বাস আর্টেম ভোভবিক। (ছবি সৌজন্য, টুইটার @EURO2020)
গোলের পর উচ্ছ্বাস আর্টেম ভোভবিক। (ছবি সৌজন্য, টুইটার @EURO2020)

Euro 2020: ১২১ মিনিটের গোলে গ্লাসগোয় ধামাকা, ১৭ বছর পর কোয়ার্টারে উঠল ইউক্রেন

  • ১৫ মিনিটের একটা পর্বে তো টুর্নামেন্টের নিজেদের সেরা ফুটবলটা খেলেন সুইডিশরা।

ঘড়িতে তখন ১২১ মিনিট। সবাই কার্যত ধরে নিয়েছেন, টাইব্রেকারে ফয়সালা হবে। ঠিক সেই সময় জ্বলে উঠলেন আর্টেম ভোভবিক। ঝিমিয়ে থাকা গ্লাসগোকে এক ঝটকায় নাড়িয়ে দিয়ে ১০ জনের সুইডেনের গোলে বল জড়িয়ে দিলেন। সেইসঙ্গে সুইডেনকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ১৭ বছর পর আবারও ইউরো কাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠল ইউক্রেন।

মঙ্গলবার গ্লাসগোয় শুরুতে দু'দলই মেপে এগোচ্ছিল। তারইমধ্যে দু'দলই একাধিক সুযোগ পায়। তারইমধ্যে ২৭ মিনিটে এগিয়ে যায় আন্দ্রে শেভচেঙ্কোর দল। গোল করেন ওলেকসান্দার জিনচেঙ্কো। সুইডেনের ডিফেন্স তাঁকে স্রেফ দেখতেই পেল না। ফাঁকা দাঁড়িয়ে গোল করে দিয়ে গেলেন। কিন্তু ঠিক হাফ-টাইমের আগে গোল শোধ করে দেন সুইডেনের এমিল ফর্সবার্গ। তার ফলে এবারের ইউরোয় চার ম্যাচে চার গোল করে ফেলেন তিনি। 

বিরতির পর দাপট অবশ্য বেশি ছিল সুইডেনের। বিশেষত ১৫ মিনিটের একটা পর্বে তো টুর্নামেন্টের নিজেদের সেরা ফুটবলটা খেলেন সুইডিশরা। সেই সময় কোনওক্রমে গোল খায়নি ইউক্রেন। বারপোস্টের বদন্যতায় বেঁচে যায় শেভচেঙ্কোর দল। দু'বার বারপোস্টে লাগে ফর্সবার্গের শট। সেই পরিস্থিতিতে আর কোন ঝুঁকি নেয়নি শেভচেঙ্কোর দল। মাঝে-মধ্যে প্রতি-আক্রমণে উঠলেও নির্ধারিত সময়ের শেষ ১৫ মিনিট তো কার্যত অতিরিক্ত সময় ম্যাচ নিয়ে যাওয়ার জন্য খেলে যায় তারা। ১-১ অবস্থায় শেষ হয় নির্ধারিত সময়।

অতিরিক্ত সময় অবশ্য খেলা সেভাবে গতি পায়নি। বরং হাজারবার রেফারির বাঁশি বাজছিল। ৯৮ মিনিট বিশ্রী ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন সুইডেনে সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার মার্কাস ড্যানিয়েলসন। সুইডেনকে ১০ জনে পেয়েও চেপে ধরতে পারেনি ইউক্রেন। ১২০ মিনিটের পর তিন মিনিট যোগ করা হয়। আর প্রথম মিনিটেই গ্লাসগোয় জাদু দেখান ভোভবিক। ডিফেন্ডারদের মধ্যে ছিটকে বেরিয়ে গোলদাতা জিনচেঙ্কোর মাপা ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে সুইডিশ জালে বল জড়িয়ে দেন তিনি। যা দেশের জার্সি তাঁর প্রথম আন্তর্জাতিক গোল।

সেই গোলের সৌজন্যেই ইউরোর ইতিহাসে তৃতীয়বার কোয়ার্টার-ফাইনালে পৌঁছে গিয়েছে ইউক্রেন। এর আগে ১৯৯২ সালে সেমিফাইনালে উঠেছিল ইউক্রেন। জার্মানির কাছে ২-৩ গোলে হেরে গিয়েছিল। ২০০৪ সালে কোয়ার্টার-ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে হৃদয়ভঙ্গ হয়েছিল। এবার কি শেভচেঙ্কোর মগজাস্ত্রে আবারও শেষ চারে যেতে পারবে ইউক্রেন? সেই উত্তর মিলবে আগামী রবিরার (ইংরেজি মতে রবিবার তথা ৪ জুলাই)। সেদিন রোমে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে নামবেন শেভচেঙ্কোর ছেলেরা।

বন্ধ করুন