বাংলা নিউজ > ময়দান > ফুটবলের মহারণ > Fifa WC 2022: জাতীয় সঙ্গীত না গাওয়ার শাস্তি- গ্রেফতার হতে পারেন ইরানের ফুটবলাররা

Fifa WC 2022: জাতীয় সঙ্গীত না গাওয়ার শাস্তি- গ্রেফতার হতে পারেন ইরানের ফুটবলাররা

ইরানের ফুটবলার জাতীয় সঙ্গীতই গাইলেন না।

সোমবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচের আগে তাঁদের দেশের জাতীয় সঙ্গীত বাজানোর সময় নীরব ছিলেন ইরানের ফুটবলাররা। আর এর জন্য দেশে ফেরার পর ভয়ানক পরিণতির মুখোমুখি হতে পারেন তাঁরা।

এ বার হিজাববিরোধী আন্দোলনের আঁচ এসে পড়ল বিশ্বকাপের মঞ্চে। নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে নিঃশব্দ প্রতিবাদ জানালেন ইরানের ফুটবলাররা। প্রশাসনকে কড়া বার্তা দিতে বিশ্বকাপের মঞ্চে জাতীয় সঙ্গীতই গাইলেন না তাঁরা।

সোমবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচের আগে তাঁদের দেশের জাতীয় সঙ্গীত বাজানোর সময় নীরব ছিলেন ইরানের ফুটবলাররা। আর এর জন্য দেশে ফেরার পর ভয়ানক পরিণতির মুখোমুখি হতে পারেন তাঁরা। এমনটাই বলা হয়েছে একটি প্রতিবেদনে। গ্রেফতার হতে পারেন ফুটবলাররা।

আরও পড়ুন: বিশ্বকাপের শুরুতে অঘটন, মেসিদের ২-১ হারিয়ে ইতিহাস সৌদির

ইরানের প্লেয়ারদের তাঁদের জাতীয় সঙ্গীত না গাওয়ার পিছনে মূল কারণই ছিল দেশের নিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। বিক্ষোভকারী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে জাতীয় সঙ্গীতে তাই গলা মেলালেন না ইরানের ফুটবলাররা। ইরানের সমর্থকেরাও কাতারের দোহার খলিফা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের ভিতরেও তীব্র প্রতিবাদে সামিল হয়েছিলেন। ক্যামেরায় দেখা গিয়েছে, স্টেডিয়ামে হাজির অনেক সমর্থকও জাতীয় সঙ্গীতের সময় চুপ ছিলেন। সেই সঙ্গে ‘ইরানের জন্য স্বাধীনতা’ এবং ‘নারীদের স্বাধীনতা’র আন্দোলনকে সমর্থন করে সমর্থকেরাও বিরোধীতার সুর তোলেন।

দু’মাস আগে প্রতিবাদী মাহশা আমিনির মৃত্যুর পর থেকে ফুঁসছে ইরান। হিজাব পুড়িয়ে, চুল কেটে ইসলামের নামে মহিলাদের শিকলবন্দি করার প্রতিবাদ করা শুরু হয়। সঠিক ভাবে হিজাব না পরার কারণে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন ২২ বছর বয়সী কুর্দি মাহশা আমিনি। গ্রেফতারের তিন দিনের মধ্যেই হাসপাতালে রহস্যমৃত্যু হয় তাঁর। যদিও, প্রশাসন বারবার দাবি করে এসেছে শারীরিক অসুস্থতার ফলেই মৃত্যু হয়েছে মাহশার। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ইরানে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভের আগুন।

আরও পড়ুন: লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্টের ছেলের গোলে খাতা খুলল US! ৬৪ বছরের খড়া কাটালেন বেল

আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবাধিকার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এবং অধ্যাপক ডেভিড ই. গুইন নিউজউইককে বলেছেন যে, জাতীয় সঙ্গীত না গেয়ে প্রতিবাদ করার কারণে শুধুমাত্র ইরানের প্লেয়াররা নন, তাঁদের পরিবারকে আটক করা হতে পারে। খারাপ পরিণতি হতে পারে তাঁদের।

ডেভিড ই. গুইন বলেন, ‘ইরানের শাসনব্যবস্থা স্পষ্ট ভাবে অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে বিদ্রোহ দমন করার জন্য নির্মম হবে ইরানের সরকার। যদিও জনসাধারণের অবস্থান একটি সময় পর্যন্ত খেলোয়াড়দের রক্ষা করতে পারে, বিশেষ করে যখন তারা বিশ্বকাপে ইরানের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করছে।’ প্রসঙ্গত ইংল্যান্ডের কাছে ২-৬ গোলে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে হেরে যায় ইরান।

বন্ধ করুন