বাংলা নিউজ > ময়দান > ফুটবলের মহারণ > হাত দিয়ে চেপে মুখ বন্ধ! ফিফার বিরুদ্ধেই বিদ্রোহ জার্মানির

হাত দিয়ে চেপে মুখ বন্ধ! ফিফার বিরুদ্ধেই বিদ্রোহ জার্মানির

ফিফার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ জার্মানির (AFP)

বিশ্বকাপের আগে থেকে বেশ কয়েকটি সমকামী প্রেমী অধিকার রক্ষা সংস্থার কাতার সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে। সেই প্রতিবাদে সামিল হয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলেল পাওয়ার হাউসরাও। কাতারে সমকামীতা নিষিদ্ধ।

শুভব্রত মুখার্জি: কাতারে ফুটবল বিশ্বকাপ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। আজ অর্থাৎ বুধবার চতুর্থ দিনের খেলা চলছে মরুপ্রদেশে। আর কাতার বিশ্বকাপের মঞ্চকেই প্রতিবাদের মঞ্চ হিসেবে বেছে নিয়েছেন একের পর এক ফুটবলার। বিতর্কও কম হচ্ছে না এই বিশ্বকাপকে ঘিরে। আর এবার এই প্রতিবাদের তালিকায় যুক্ত হল জার্মান সিনিয়র ফুটবল দলের নামও। অভিনব পদ্ধতিতে কার্যত বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিরুদ্ধে 'বিদ্রোহ' ঘোষণা করলেন অ্যান্টনি রুডিগাররা। নাকে হাত দিয়ে নাক চেপে ফিফার বিরুদ্ধে অভিনব প্রতিবাদ দেখালেন তাঁরা।

প্রসঙ্গত বিশ্বকাপের আগে থেকে বেশ কয়েকটি সমকামী প্রেমী অধিকার রক্ষা সংস্থার কাতার সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে। সেই প্রতিবাদে সামিল হয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলেল পাওয়ার হাউসরাও। কাতারে সমকামীতা নিষিদ্ধ। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সামিল হয়েছে জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, ইংল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, বেলজিয়াম, সুইডেন, নরওয়ে, এবং ওয়েলস। প্রতিবাদের অঙ্গ হিসেবে তারা একটি বিশেষ আর্মব্যান্ড তৈরি করেছে। যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ওয়ান লাভ’ আর্মব্যান্ড। এই রামধনু রঙা এই ব্যান্ড পরেই মাঠে খেলতে নামার কথা ছিল এই দেশগুলোর ফুটবলারদের। বাধ সেঁধেছে ফিফা। তাঁরা একদম কড়া ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে বিশ্বকাপের মঞ্চে এইসব করা যাবে না। এই ধরনের বেয়াদপি করলেই করা হবে মোটা অঙ্কের জরিমানা। পাশাপাশি কাতার সরকার ও তাদের নিয়ম অনুযায়ী এই কাজ করলে গ্রেফতার করতে পারে ফুটবলারদের। ফলে বাধ্য হয়েই প্রতিবাদের ধরণ, পন্থা সব বদলাচ্ছে দলগুলো।

ফিফা অবশ্য জানিয়েছে তাঁরা আয়োজক দেশ কাতারের স্থানীয় আইনের কথা ভেবেই সমকামীদের সমর্থনে ‘ওয়ান লাভ’ আর্মব্যান্ড তারা পরার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এই আর্মব্যান্ড পরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ইউরোপের ৭টি দেশ। ফিফার নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে তাই এবার তাঁদের বিরুদ্ধে অভিনব প্রতিবাদ জানালেন জার্মান ফুটবলাররা।

যে কোনও ফুটবল ম্যাচেই জাতীয় সঙ্গীতের পরে ফুটবলাররা একে অপরের সঙ্গে করমর্দন করেন। তারপরেই হয় গ্রুপ ফটো সেশন। খেলতে নামার আগে প্রথাগত ফটোসেশনে দাঁড়িয়েছিল জার্মানি দল। দেখা যায় জার্মানির সকলেই হাত দিয়ে মুখ ঢেকে ছবিটি তুলেছেন। সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল। ফিফা যে তাঁদের মুখ বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করছে এখানে সেটাই বোঝাতে চেয়েছেন তাঁরা। উল্লেখ্য এর আগে ওয়ানলাভ আর্মব্যান্ড পরে খেলতে চেয়েছিলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেন। তাঁকে গ্রেফতার ও হলুদ কার্ড দেখানোর হুমকিও দেওয়া হয় ফিফার তরফে। এরপর ফিফার দেওয়া আর্মব্যান্ড পরেই মাঠে নামতে বাধ্য হন তিনি। জার্মানরা এইসব দেখে শুনেই বদলে ফেললেন তাঁদের প্রতিবাদের ধরন।

বন্ধ করুন