বাংলা নিউজ > ময়দান > ফুটবলের মহারণ > Iran's Anti Hijab Protest in FIFA WC: হিজাব বিরোধী আন্দোলনের আঁচ বিশ্বকাপে, কাতারে স্টেডিয়ামে ইরানি সমর্থকদের হাতাহাতি

Iran's Anti Hijab Protest in FIFA WC: হিজাব বিরোধী আন্দোলনের আঁচ বিশ্বকাপে, কাতারে স্টেডিয়ামে ইরানি সমর্থকদের হাতাহাতি

কাতার বিশ্বকাপে ইরানের ‘হিজাব বিরোধী’ আন্দোলনের আঁচ।

কাতার বিশ্বকাপে ইরানের ‘হিজাব বিরোধী’ আন্দোলনের আঁচ। ইরানি সমর্থকদের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে স্টেডিয়ামেই।

কাতার বিশ্বকাপে একাধিক রাজনৈতিক ইস্যুর আঁচ পড়েছে। তার মধ্যে একটি হল ইরানের হিজাব বিরোধী আন্দোলন। এই আভহে গ্রুপ পর্যায়ে নিজেদের শেষ ম্যাচে ইরান হারার পর সেদেশের সমর্থকরা নিজেদের মধ্যেই হাতাহাতিতে জড়ান। সরকারের সমর্থনকারী গোষ্ঠীর সঙ্গে কাতারের স্টেডিয়ামেই সংঘর্ষ বাঁধে হিজাব বিরোধী আন্দোলনের সমর্থনকারীদের। নিরাপত্তারক্ষীরা সেই সংঘর্ষ থামাতে ব্যর্থ হন।

প্রসঙ্গত, বহু ইরানিই বিশ্বকাপে নিজেদের দলকে সমর্থন করতে নয়, বরং হিজাব বিরোধী বার্তা বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে কাতারের স্টেডিয়ামে গিয়েছিলেন। এই আবহে ম্যাচে ইরানের হারের পরই হিজাব বিরোধীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে। জানা গিয়েছে, এক মহিলা সমর্থককে কিছু ইরানি সমর্থক হেনস্থা করার পরই এই সংঘর্ষ বাঁধে। হেনস্থার শিকার মহিলা ‘women live in freedom’ লেখা টি-শার্ট পরেছিলেন।

প্রসঙ্গত, গতকাল হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচে আমেরিকার বিরুদ্ধে ১-০ ব্যবধানে হেরে যায় ইরান। এর জেরেই বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যায় ইরানিরা। দেশের হারের পরই রাস্তায় নেমে উল্লাস করতে দেখা গেল ইরানি নাগরিকদের। সেই ঘটনার ভিডিয়ো এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। উল্লেখ্য, গত তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে ইসালমি কট্টরপন্থী সরকার বিরোধী আন্দোলন জারি রয়েছে ইরানে। এই আবহে আন্দোলকারীদের দাবি ছিল, ইরানের দলকে যেন বিশ্বকাপ থেকে নিষিদ্ধ করা হয়। আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল, রাশিয়া যেটা ইউক্রেনের সঙ্গে করছে, ইরান সরকার সেটাই নিজেদের নাগরিকদের সঙ্গে করছে। এই কারণই রাশিয়াকে নিষিদ্ধ করা হলে ইরানকেও নিষিদ্ধ কার উচিত। তবে তাদের দাবি মেনে নেওয়া হয়নি। এরপরই আন্দোলনকারীরা নিজেদের দলের হারের আশা করে এসেছে।

উল্লেখ্য, বিশ্বকাপের শুরুর দিকে ফুটবলাররা আন্দোলনকারীদের সমর্থনের বার্তা দিয়েছিলেন। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে ইরানের অধিনায়ক সাংবাদিক সম্মেলনে সরাসরি বলেন যে তাঁর দল আন্দোসকারীদের সঙ্গে রয়েছে। এই আবহে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে প্রথম ম্যাচে কোনও ইরানি ফুটবলারই জাতীয় সঙ্গীত গায়নি। তবে এরপরই ইরান সরকার হুঁশিয়ারি দেয় ইরানি ফুটবলারদের। ফুটবলারদের পরিবারের সদস্যদের হেনস্থার হুঁশিয়ারি দেয় ইরান সরকার। এরপরই গ্রুপ পর্যায়ে ওয়েলসের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ম্যাচে ইরানের ফুটবলারদের জাতীয় সঙ্গীত গাইতে দেখা যায়। এই আবহে ইরানের আন্দোলনকারীদের অনেকেই চাইছিলেন যাতে আমেরিকার বিরুদ্ধে তাঁদের জাতীয় দল হেরে যায়। কারণ তাঁদের কাছে এই ফুটবল দল ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের প্রতীক।

বন্ধ করুন