বাংলা নিউজ > ময়দান > ফুটবলের মহারণ > ISL: হেরেই চলেছে লাল-হলুদ, ঘরের মাঠে এ বার হায়দরাবাদের কাছে আত্মসমর্পণ EBFC-র

ISL: হেরেই চলেছে লাল-হলুদ, ঘরের মাঠে এ বার হায়দরাবাদের কাছে আত্মসমর্পণ EBFC-র

ফের হারল ইস্টবেঙ্গল।

জামশেদপুরের পর হায়দরাবাদ- পর পর দুই ম্যাচে হার। কোনও ভাবেই ভাগ্য বদলাচ্ছে না ইস্টবেঙ্গলের। এ দিন কলকাতায় দাপুটে ফুটবল খেলে জয় ছিনিয়ে নিলেন ওগবেচেরা।‌ ১৪ ম্যাচে ১২ পয়েন্টেই আটকে থাকল লাল হলুদ। প্রথম ছয়ে শেষ করার কোনও সম্ভাবনাই রইল না। যদি না কোনও অলৌকিক ঘটনা ঘটে।

একের পর এক ম্যাচে বার। আবার হার। শুক্রবার ঘরের মাঠে হায়দরাবাদ এফসি-র কাছে ০-২ হারতে হল। আর এই হারের সঙ্গে সঙ্গেই ইস্টবেঙ্গল এফসি-র প্রথম ছয়ে থাকার আশা আরও ক্ষীণ হয়ে গেল। ক্রমশ এই আশা ক্ষীণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের লাখো সমর্থকদের কষ্ট, অভিমানও ক্রমশ বাড়ছে। এ দিন হারের পর দলের ব্রিটিশ কোচ স্টিফেন কনস্ট্যান্টাইন আরও এক বার বোঝানোর চেষ্টা করলেন, ঠিক কোথায় সমস্যা হচ্ছে।

জামশেদপুরের পর হায়দরাবাদ, ব্যাক টু ব্যাক হার। কোনও ভাবেই ভাগ্য বদলাচ্ছে না স্টিফেন কনস্ট্যানটাইনের দলের। এ দিন কলকাতায় দাপুটে ফুটবল খেলে জয় ছিনিয়ে নিলেন ওগবেচেরা।‌ দু'টি গোল করেন জেভিয়ার সিভেরিয়ো এবং আরেন ডি’সিলভা। ১৪ ম্যাচে ১২ পয়েন্টেই আটকে থাকল লাল হলুদ। প্রথম ছয়ে শেষ করার কোনও সম্ভাবনাই রইল না। যদি না কোনও অলৌকিক ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন: আনোয়ার আলিকে বিশাল বড় অঙ্কের প্রস্তাব, পরের মরশুমের দল গোছানো শুরু ATK MB-র

অন্য দিকে প্লে-অফের দিকে আরও একধাপ এগিয়ে গেল হায়দরাবাদ। টানা হারের জন্য মাঠমুখি হচ্ছে না সমর্থকরা। এদিনও মেরেকেটে হাজার দুয়েক সমর্থক ছিল। ইস্টবেঙ্গলের ডেরায় নিজামের শহরের দলের দাপট দেখল তাঁরা। ম্যাচের ৯ মিনিটে বোরজা হেরেরার পাস থেকে গোল করেন জেভিয়ার সিভেরিয়ো। ২৭ মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ এসেছিল। কিন্তু তাঁর শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। কাউন্টার অ্যাটাক ভিত্তিক ফুটবল খেলার চেষ্টা করছিল ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু হায়দরাবাদের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। একমাত্র ক্লেটন সিলভা কিছুটা চেষ্টা করেন। কিন্তু সাপোর্ট পাননি। অন্য দিকে গোল খাওয়ার রোগ এ দিনও সারল না। ম্যাচ শেষের ঠিক আগে আরও একটা গোল হজম করে ইস্টবেঙ্গল। অতিরিক্ত সময় ওগবেচের পাস থেকে গোল করেন ডি’সিলভা।

এর পরও প্রথাগত‌ ভাবে সাংবাদিক সম্মেলনে এসে কনস্ট্যানটাইন দাবি করবেন, ‘প্রথম গোলের ক্ষেত্রে আমাদের ভুল হয়েছে ঠিকই। প্রথমার্ধে দু'-একটা সুযোগও পেয়েছিলাম আমরা। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে তিনটে এমন সুযোগ পাই, যেগুলো কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচটা আমরা জিততেও পারতাম। সুযোগ হাতছাড়া করার শাস্তি পেতেই হবে। গত দু-তিনটে ম্যাচের চেয়ে আজ আমরা ভালো খেলেছি। দলের ছেলেদের স্পিরিট, পরিশ্রম ও লড়াই আপনারা সবাই দেখেছেন। তবে শুধু রক্ষণে নয়, আক্রমণেও আমরা প্রচুর ভুল করেছি। ছেলেরা আর একটু স্মার্ট ও সচেতন হলে ভালো হত। ওরা প্রচুর সুযোগ তৈরি করেছে। ওদের দোষ দেব না। যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে ওরা।’

আরও পড়ুন: সুযোগ মিসের খেসারত দিল বাগান- মুম্বইয়ের কাছে হারের নজির বজায় থাকল

ব্যর্থতার দায়ও নিজের কাঁধে নিয়ে প্রাক্তন ভারতীয় কোচ বলেন, ‘সব দোষ আমার, ব্যর্থতার সব দায়িত্ব নিতে আমার কোনও আপত্তি নেই। যেটা আমার হাতে নেই, তা নিয়ে আলোচনা করে লাভ নেই। জানি সমর্থকেরা সাফল্য চায়। কিন্তু তার জন্য সঠিক প্রস্তুতি দরকার। যদি তা না থাকে তা হলে ব্যর্থতা আসবেই। অন্যান্য দলগুলো যে ভাবে প্রস্তুত হয়েছে আমরা সে রকম প্রস্তুতি নিতে পারিনি। তা সত্ত্বেও আমরা চারটি ম্যাচে জিতেছি। তা সত্ত্বেও আমাদের দলে লিগের টপ স্কোরার রয়েছে। তা সত্ত্বেও আমরা দু-একজন খেলোয়াড় গড়ে তুলতে পেরেছি। এগুলো মাথায় রেখেই বলছি, পরের বছর ভিন্ন ছবি দেখতে পাবেন। আগামী মরশুমে দেখে নেবেন কী হয়।’

তাঁর কোচিং জীবনে এটিই সবচেয়ে খারাপ সময় কি না, জানতে চাওয়া হলে কনস্ট্যান্টাইন বলেন, ‘হারের দিক থেকে যদি ধরি, তা হলে বলব, হ্যাঁ। তবে আমি জানতাম এ রকম পরিস্থিতি আসবে। তবু ক্লাবের প্রতি আস্থা আছে। আমি বিশ্বাস করি, সব ঠিক হয়ে যাবে। আমি নিজেই সব ঠিক করে নিতে পারব। তবে আমাকে সময় দিতে হবে। কিছু নতুন খেলোয়াড়কে আনার সুযোগ দিতে হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গেলে আশা করি, কয়েক জনকে আনতে পারব দলে।’

কাকে দলে রাখবেন বা রাখবেন না, সে সিদ্ধান্ত এখন নিলেও তা জানাতে চান না লাল-হলুদ কোচ। বলেন, ‘এই মুহূর্তে সবাই আমার পরিকল্পনায় রয়েছে। সবাই আমার কাছে সুপারস্টার। কারণ, ছেলেরা প্রত্যেকেই যথেষ্ট পরিশ্রম করছে। তাই কাউকে বলিনি যে, সে বা তারা আমার পরিকল্পনার মধ্যে নেই। সে কথা বলার সময় এটা নয়।’

বন্ধ করুন