বাংলা নিউজ > ময়দান > ফুটবল > ড্রয়ের মানসিকতা নিয়ে খেলতে নেমে ফের হার SC EB-র, ম্যাচ জিতে ISL টেবলের তিনে উঠে এল কেরালা
আইএসএলের ৯ নম্বর ম্যাচে হারল এসসি ইস্টবেঙ্গল।

ড্রয়ের মানসিকতা নিয়ে খেলতে নেমে ফের হার SC EB-র, ম্যাচ জিতে ISL টেবলের তিনে উঠে এল কেরালা

  • এসসি ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে জয়ের ফলে ১৫ ম্যাচে ২৬ পয়েন্ট পেয়ে জামশেদপুর এফসি-কে (১৪ ম্যাচে ২৫) এক ধাপ নামিয়ে ছয় থেকে তিন নম্বরে উঠে এল কেরালা ব্লাস্টার্স। ফলে সেরা চার থেকে বেরিয়ে গেল মুম্বই সিটি এফসি (১৫ ম্যাচে ২৫)।

এসসি ইস্টবেঙ্গলকে ন’নম্বর হারের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে সেরা চারে ফিরে এল কেরালা ব্লাস্টার্স এফসি। সোমবার তিলক ময়দান স্টেডিয়ামে বসনিয়ান সেন্টার ব্যাক এনেস সিপোভিচের দ্বিতীয়ার্ধের গোলে ১-০ জয় পায় কোরালার দলটি। পুইতিয়ার কর্নার থেকে হিরো আইএসএলে তাঁর প্রথম গোলটি করে দলকে চলতি লিগের সাত নম্বর জয় এনে দেন এই দীর্ঘদেহী ডিফেন্ডার।

সোমবার কোনও দলই তেমন তীব্র পারফরম্যান্স দেখাতে না পারলেও আক্রমণের প্রবণতার দিক থেকে কিছুটা এগিয়েই ছিল কেরালার দলটি। সারা ম্যাচে যেখানে পাঁচটি শট গোলে রাখে তারা, সেখানে লাল-হলুদ শিবির মাত্র একটি শট গোলে রাখতে পেরেছে। সেই আন্তোনিও পেরোসেভিচকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আক্রমণেই বারবার ব্যর্থ হয় এসসি ইস্টবেঙ্গল শিবির। এই জয়ের ফলে ১৫ ম্যাচে ২৬ পয়েন্ট পেয়ে জামশেদপুর এফসি-কে (১৪ ম্যাচে ২৫) এক ধাপ নামিয়ে ছয় থেকে তিন নম্বরে উঠে এল কেরালা ব্লাস্টার্স। ফলে সেরা চার থেকে বেরিয়ে গেল মুম্বই সিটি এফসি (১৫ ম্যাচে ২৫)।

প্রথম দলে ছ’টি রদবদল করে খেলতে নামা এসসি ইস্টবেঙ্গল এ দিন শুরু থেকেই আক্রমণে ওঠার ঝুঁকি নেয়নি। ড্র করার মানসিকতা নিয়েই মাঠে নেমেছিল লাল-হলুদ ব্রিগেড। আশ্চর্যের বিষয় হল, তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষকে পেয়েও সে ভাবে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করেনি কেরালাও। সিপোভিচের গোলটি না হলে ম্যাচটি গোলশূন্য ভাবেই হয়তো শেষ হত। মাঝ মাঠের মধ্যেই আটকে ছিল খেলা। মাঝে মাঝে আক্রমণে উঠছিলেন কেরালার ফুটবলাররা। যদিও তৎপর লাল-হলুদ ডিফেন্স আটকে দিচ্ছিল আলভারো ভাস্কেজ, আদ্রিয়ান লুনাদের।

প্রথমার্ধে লাল-হলুদ রক্ষণ যথেষ্ট তৎপর থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই তারা গোল খেয়ে যায় কর্নার থেকে। পুইতিয়ার মাপা কর্নার উড়ে যায় দ্বিতীয় পোস্টে, যেখানে ছিলেন প্রায় সাড়ে ছ’ফুট উচ্চতার ডিফেন্ডার এনেস সিপোভিচ। তিনি লাফিয়ে উঠে হেড করে বল জালে জড়িয়ে দেন (১-০)। তাঁকে মহম্মদ রফিক মার্ক করলেও উচ্চতায় তাঁর নাগাল পাননি। সঙ্গে ছিলেন জয়নার লরেন্সো, হনামতেও। তাঁরাও সিপোভিচকে বাধা দিতে ব্যর্থ হন।

এই গোলের পর স্বাভাবিক ভাবেই চাঙ্গা হয়ে ওঠে কেরালা ব্লাস্টার্স। তবে এসসি ইস্টবেঙ্গলও হাল ছেড়ে দেয়নি। ৫৪ মিনিটে বক্সের মাথা থেকে গোলে শট নেন রফিক। কিন্তু তা ডিফ্লেক্ট হয়ে গোললাইনের বাইরে চলে যায়। এই সময়েই রাহুল পাশোয়ানকে তুলে নিয়ে অভিজ্ঞ জ্যাকিচাঁদ সিংকে নামান লাল-হলুদ কোচ মারিয়ো রিভেরা। উদ্দেশ্য অবশ্যই সমতা আনা। আক্রমণের ক্ষেত্রে পুরোটাই পেরোসেভিচ-কেন্দ্রিক হয়ে পড়েছিল লাল-হলুদ বাহিনী। ৭০ মিনিটের মাথায় বক্সের বাইরে থেকে সোজা গোলে ভলি মারেন ক্রোয়েশিয়ান ফরোয়ার্ড। যা দুর্দান্ত ভাবে লাফিয়ে ফিস্ট করে দেন কেরালার গোলকিপার প্রভসুখন গিল। এর পরেও কিছুটা চেষ্টা এসসি ইস্টবেঙ্গল করেছিল। কিন্তু সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি। এ দিকে এ দিনের ম্যাচে চতুর্থ হলুদ কার্ দেখার পরের ম্যাচে পাওয়া যাবে লাল-হলুদের হীরা মণ্ডলকে।

বন্ধ করুন