বাংলা নিউজ > ময়দান > ফুটবল > ‘ভৌমিকদা না থাকলে আমার কেরিয়ারই শেষ হয়ে যেত’, মহমেডানের কিপার কোচ হওয়ার দিনে চোখের জলে ভাসলেন সন্দীপ
ফিরে দেখা: আশিয়ান কাপ জয়ের ১৫ বছরের সেলিব্রেশনে সুভাষ ভৌমিকের সঙ্গ চন্দন দাস, ষষ্ঠী দুলে, অ্য়ালভিটো ডি'কুনহা এবং সন্দীপ নন্দী।
ফিরে দেখা: আশিয়ান কাপ জয়ের ১৫ বছরের সেলিব্রেশনে সুভাষ ভৌমিকের সঙ্গ চন্দন দাস, ষষ্ঠী দুলে, অ্য়ালভিটো ডি'কুনহা এবং সন্দীপ নন্দী।

‘ভৌমিকদা না থাকলে আমার কেরিয়ারই শেষ হয়ে যেত’, মহমেডানের কিপার কোচ হওয়ার দিনে চোখের জলে ভাসলেন সন্দীপ

  • সন্দীপের দাবি, তাঁর কেরিয়ারে সবচেয়ে বড় অবদান রয়েছে প্রিয় ভৌমিকদার। সন্দীপ বলছিলেন, ‘ভৌমিকদা আমার জীবনে অনেকখানি। আজকে আমি সন্দীপ নন্দীই হতে পারতাম না, যদি না ভৌমিকদা থাকত।’

চুটিয়ে দুই প্রধানে খেলেছেন তিনি। এ বার কোচ হয়ে ফিরলেন আর এক প্রধানে। মহমেডান স্পোর্টিংয়ের জার্সিতে না খেললেও, কোচ হয়ে সেই আক্ষেপটা মিটিয়ে নিতে চান সন্দীপ নন্দী। তবে মহমেডানের কোচ হওয়ার দিনেই উচ্ছ্বসিত হওয়ার বদলে চোখের জলে ভাসলেন সন্দীপ। 

সন্দীপকে ফোনে ধরা হলে, উচ্ছ্বাসের বদলে যেন কান্নায় গলা বুজে আসছিল তাঁর। হবে নাই বা কেন, সুভাষ ভৌমিককে যে তিনি নিজের দ্বিতীয় বাবা বলে মনে করতেন। কারণ সন্দীপের দাবি, তাঁর ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় অবদান রয়েছে প্রিয় ভৌমিকদার। সন্দীপ বলছিলেন, ‘ভৌমিকদা আমার জীবনে অনেকখানি। আজকে আমি সন্দীপ নন্দীই হতে পারতাম না, যদি না ভৌমিকদা থাকত। আমার কেরিয়ারে দু'টোর টার্নিং পয়েন্ট এসেছে ভৌমিকদার হাত ধরেই। না হলে হয়তো আমি অনেক আগেই আর সাধারণ পাঁচজন গোলকিপারের মতো হারিয়ে যেতাম।’

সন্দীপ নাগাড়ে বলে চলেছিলেন, ‘আমার জীবনে প্রথম টার্নিং পয়েন্ট ২০০২ সালে। টালিগঞ্জ থেকে ইস্টবেঙ্গলে সই করা। সেটা ভৌমিকদার জন্যই হয়েছিল। ২০০১-এ মোহনবাগানে সে ভাবে চোখ না পড়ায়, আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। আর আমি সে বার টালিগঞ্জে সই করি। আমার মনে আছে, লিগের ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে ৫ গোল হজম করেছিলাম আমি। তার পরেও ভৌমিকদা আমাকে লাল-হলুদে জোর করে সই করিয়েছিল। সবার বিরুদ্ধে গিয়ে। অনেকেই তখন প্রশ্ন তুলেছিল, ৫ গোল খাওয়া গোলকিপারকে কেন সই করাচ্ছে? কারও কথা শোনেনি ভৌমিকদা। সে বার ইস্টবেঙ্গলের হয়ে জাতীয় লিগ চ্যাম্পিয়ন হই। আশিয়ান কাপ জিতি। আমার ফুটবল জীবনটাই পুরো বদলে গিয়েছিল শুধুমাত্র ভৌমিকদার জন্য।’ সেই সময় থেকে সন্দীপকে আর ঘুরে তাকাতে হয়নি। ২০০৪ সালে মাহিন্দ্রায় যাওয়ায় পর একের পর এক সাফল্য দিয়েছেন সন্দীপ। 

তবে এখানেই গল্পের শেষ নয়! সন্দীপ ফের লাল-হলুদে ফিরলে ২০১১-১২ মরশুমে ডার্বিতে বাজে গোল খাওয়ার জন্য তাঁকে ইস্টবেঙ্গল কর্তারা দলে রাখতে চাননি। সেই সময়ে দলের কোচ ছিলেন ট্রেভর জেমস মর্গ্যান। সন্দীপের দাবি, মর্গ্যান চেয়েছিলেন, তিনি যেন ইস্টবেঙ্গলেই থাকেন। কিন্তু ২০১২-১৩ মরশুমের জন্য অভিজিৎ মণ্ডলকে সই করায় লাল-হলুদ কর্তারা। এটা জানার পর, ইস্টবেঙ্গল ছেড়ে দেন সন্দীপ। সেই সময়ে ফের সন্দীপের পাশে দাঁড়ান সুভাষ ভৌমিক। সুভাষ তখন চার্চিলের কোচ। সন্দীপকে নিয়ে যান গোয়ার ক্লাবে। প্রায় এক মাস সন্দীপ থাকার জায়গা পাননি বলে, সুভাষ ভৌমিকের বাড়িতেই থাকতেন। সেই বছরও দুরন্ত পারফরম্যান্স করেছিলেন সন্দীপ। আই লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল চার্চিল। তখন সন্দীপের বয়স প্রায় ৩৬। সেই বয়সে ২৬টি ম্যাচেই খেলেছিলেন তারকা গোলকিপার।

ভারতের অন্যতম সেরা গোলকিপার সন্দীপ নন্দী বলছিলেন, ‘আমার জীবনে এটা ছিল দ্বিতীয় টার্নিং পয়েন্ট। লজ্জার হাত থেকে বেঁচে আমি নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। আর সেটা করে দিয়েছিল ভৌমিকদা। ছেলের মতো আগলে রাখত। যে ক'দিন ওঁর বাড়িতে থেকেছি, নিজের ছেলের মতোই যত্ন করেছে। ওঁর না থাকাটা আমার কাছে বড় বেশি যন্ত্রণার। আমার মহমেডানের কোচ হওয়ার খবরটা আর ভৌমিকদা জেনে যেতে পারল না।’

বন্ধ করুন